kalerkantho


গতির রাজা রোনালদো

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ জুলাই, ২০১৮ ১০:৪৫



গতির রাজা রোনালদো

আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে পেছনে ফেলে চিতাবাঘের মতোই ক্ষিপ্র গতিতে ছুটছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পেছনে ছুটছেন হাভিয়ের মাসচেরানো। কিন্তু মোটেও তাল মেলাতে পারছেন না। দৃশ্যটা দেখে অনেকেই ভেবেছেন, এমবাপ্পের গতি অনেকটা উসাইন বোল্টের কাছাকাছি! অথচ যন্ত্র বলছে ভিন্নকথা। বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুত যাঁরা দৌড়েছেন, তাঁদের শীর্ষ বিশেও নাম নেই এমবাপ্পের। আসলে বুড়িয়ে যাওয়া মাসচেরানোর মন্থর দৌড়ই তৈরি করেছে এই বিভ্রম। বিশ্বকাপে সবচেয়ে জোরে দৌড়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। স্পেনের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের এক পর্যায়ে তিনি ঘণ্টায় ৩৪ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন!

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্ট তাঁর সর্বোচ্চ গতিতে দৌড়ান ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ৫০ থেকে ৭০ মিটার অংশে। তখন তিনি যে বেগে দৌড়ান, সেটা ঘণ্টায় প্রায় ৪৮ কিলোমিটার। বাঘ ছুটতে পারে ঘণ্টায় ৪৮ থেকে ৬৪ কিলোমিটার গতিতে। রোনালদো যে গতিতে ছুটেছেন সেভাবে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দৌড়ালে তাঁর সময় লাগত ১১ সেকেন্ডের কিছু কম। একই গতিতে ছুটেছেন ক্রোয়েশিয়ার আন্টে রেবিচও। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে, উইলি কাবাইয়েরোর হাত থেকে ফসকে যাওয়া বলটা ধরতে গ্যাব্রিয়েল মেরকাদোকে পাশ কাটিয়ে ছুটে যাওয়া আন্টে রেবিচের দৌড়ের গতিও ছিল ঘণ্টায় ৩৪ কিলোমিটার। উরুগুয়ের বিপক্ষে এমবাপ্পের সর্বোচ্চ দৌড়ের গতি ৩২.৪ কিলোমিটার, তিনি গতির লড়াইয়ে আসতে পারেননি শীর্ষ বিশেই। গ্যারেথ সাউথগেট তাঁর খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে যে খুব খাটছেন, তার প্রমাণ আছে গতির খাতাতেই। শীর্ষ বিশে ইংল্যান্ডের ফুটবলার চারজন! কাইল ওয়াকারের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৩.৫ কিলোমিটার। জেস লিনগার্ডেরও রেকর্ড আছে ৩৩.৫ কিলোমিটার বেগে দৌড়ানোর। রাহিম স্টারলিং দৌড়েছেন ৩৩.১ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে আর মার্কাস রাশফোর্ডও দৌড়েছেন একই গতিতে। ইউরোপের ফুটবলাররা শারীরিকভাবে বেশি সমর্থ অন্য মহাদেশের ফুটবলারদের চেয়ে, এমন একটা ধারণা প্রচলিত আছে। তবে পেরুর লুকাস আদভিনকুইলা তাঁদের যে কাউকেই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির দেহটা যেন গ্র্যানাইট কুঁদে তৈরি করা। মেক্সিকোর লিগে খেলা এই ডিফেন্ডারের ক্লাব ফুটবলে ঘণ্টায় ৩৬ কিলোমিটারেরও বেশি বেগে দৌড়ানোর কৃতিত্ব থাকলেও বিশ্বকাপে একটুর জন্য ৩৪ কিলোমিটারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি, তাঁর সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৩.৮ কিলোমিটার। কলম্বিয়ার সান্তিয়াগো আরিয়াসও দৌড়েছেন ৩৩.৬ কিলোমিটার বেগে। ব্রাজিলের মারকুইনহোসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৩.৩ কিলোমিটার। সমান বেগে দৌড়েছেন মেক্সিকোর হারভিং লুজানো, রাশিয়ার আলেকজান্ডার গোলোভিন ও দানি কারভাহালও। তাঁদের সঙ্গে আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার হি চ্যান ওয়াংও। যদিও সমর্থকদের কাছে হয়তো সং হিউন মিনের লম্বা দৌড়ের কথাই মনে থাকবে, ওভাবেই যে তিনি জার্মানদের হারানোর ম্যাচে করেছিলেন দ্বিতীয় গোলটা।

৩৩.৩ কিলোমিটার গতিবেগ তুলতে পেরেছেন ছয়জন, ৩৩.১ কিলোমিটার গতিবেগ তুলতে পেরেছেন আটজন। এই পরিসংখ্যানেই বোঝা যাচ্ছে, ঘণ্টায় ৩৩ কিলোমিটার বা তার বেশি বেগে ছুটতে পারা অনেকেই আছেন। তবে সেটাকে ৩৩.৫ বা ৩৪ কিলোমিটারে তুলতে পেরেছেন অল্প কজন। রোনালদো ও রেবিচ তাঁদেরই একজন। আর এমবাপ্পের দৌড়ের গতি অনেকের চোখে বেশি হতে পারে। তবে আইনস্টাইনের সূত্রের প্রমাণের মতো করেই বলা যায়, বুড়িয়ে যাওয়া মাসচেরানোর মন্থর গতির কারণেই অনেক গতিশীল মনে হয়েছে এমবাপ্পেকে! 



মন্তব্য