kalerkantho


কিস্তির টাকা দিতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন সাধু

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৬ জুলাই, ২০১৮ ১৬:০৭



কিস্তির টাকা দিতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন সাধু

ব্যাংক লোন ও কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পেরে দুই সন্তানের জনক শ্রী সুব্রত বর্মন ওরফে সাধু বর্মন (৪৭) নামের এক ব্যক্তি নিজ দোকানে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন জিনজিরা ইউনিয়নের মানদাঈল বর্মন পাড়া এলাকায়।

আজ শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

জানা যায়, মানদাঈল বর্মনপাড়া এলাকার মৃত গোপাল বর্মনের ছেলে সাধু বর্মন নিজ বাড়িতে একচি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা করে আসছে। সংসার জীবনে সে দুই কন্যা সন্তানের জনক। মুদি ব্যবসার পাশাপাশি সাধু বর্মন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ছয় বন্ধু মিলে একটি ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি চালু করেন। সে ক্ষুদ্র ঋণ থেকে মানুষকে কিস্তির মাধ্যমে টাকা দেওয়া হতো এবং মানুষের টাকা সঞ্চয় হিসাবে রাখা হতো। এক পর্যায়ে সাধু বর্মনকে ব্যাংকের লোন ও মানুষের গচ্ছিত সঞ্চয়ের টাকা বোঝা চাপিয়ে তার বন্ধুরা সটকে পড়ে।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, সাধু বর্মন এ নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ নানা ধরনের চিন্তা ভাবনা করতে থাকে। এক পর্যায়ে আজ সকালে যেকোনো সময়ে একটি চিরকুট লিখে নিজ দোকানে ফ্যানের সাথে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

চিরকুটে লেখা ছিল, আমার মৃত্যুর পর যে এই কাগজটি দেখবেন তাদের উদ্দেশে বলছি, আমার দুইটি কন্যা সন্তান, স্ত্রী ও মা রয়েছে। আপনারা তাদের একটু দেখবেন। আমরা বন্ধুরা মিলে যে কিস্তি চালু করেছিলাম তা সব টাকা রিপন নামের এক বন্ধুর কাছে রয়েছে। আপনারা তার কাছ থেকে সে টাকা উদ্ধার করে আমার ব্যাংক লোন ও গরীব মানুষের গচ্ছিত টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, লোক মুখে আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করি। পরে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যাক্তি গলায় ফাঁস দেওয়ার আগে একটি চিরকুট লিখে গেছেন। তা থেকে ধারনা করা যায় নিহত সাধু বর্মন ঋণ গ্রস্থ ছিলেন। ঋণের বোজা সহ্য করতে না পেরে সে অত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহতের মা বিন্দু রানী বর্মন বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।



মন্তব্য