kalerkantho


যা হওয়ার তা-ই হয়েছে

মারিও কেম্পেস লিখছেন কালের কণ্ঠে   

২৩ জুন, ২০১৮ ১০:৫৮



যা হওয়ার তা-ই হয়েছে

মারিও কেম্পেস

বুঝতে পারছি সবাই ব্যথিত, আমিও। তবে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। সবাই বিশ্বকাপের এই দুই ম্যাচ নিয়ে হতাশার কথা বলছে। আমি তো বলব বাছাই পর্ব থেকেই আমাদের বিপর্যয়ের শুরু। অলৌকিকভাবে আমরা বিশ্বকাপে জায়গা করেছি। সেই একই নেতৃত্বহীন আর উদ্দেশ্যহীন দলটাই তো বিশ্বকাপে খেলছে। ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারেও তাই কিছু বদলায়নি। এখনো সামান্য সুযোগ আছে। তবে আমার মনে হয় না সেই সুযোগটা নিতে পারব।

দ্বিতীয় ম্যাচে একটা ব্যাপারই খারাপ লেগেছে। সেটা হলো, প্রথম ম্যাচের চেয়ে এদিন আমরা আরো খারাপ খেলেছি। মাঠে যা দেখেছি, তা বিব্রতকর। সময় যত গড়িয়েছে ততই যেন আমাদের বিদায় ঘনিয়ে এসেছে। এ প্রদর্শনী ভুলে যাওয়াই ভালো। তাই বলে লিওনেল মেসিকে দুষবেন না। আর্জেন্টিনার জন্য ও সবটুকু দিতে চায়। কিন্তু দলের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন পায় না। একা একটা দলকে কি টানা যায়? মাঠের বাইরে তারা সবাই খুব ভালো বন্ধু বলেই জানি। কিন্তু মাঠে দেখলে মনে হয় ওরা একজন আরেকজনকে চেনেই না! এটা খুব লজ্জার। এই দলটাকে এত দিন যে কোচেরা টেনে এনেছেন, তারা এর জন্য দায়ী।

মেসির ওপর চাপের বোঝা। সবাই ম্যারাডোনা নয়তো রোনালদোর সঙ্গে ওর তুলনা করছে। কাপ জেতার জন্য, বিশ্বের সেরা ফুটবলার হওয়ার জন্য ওর ওপর নিরন্তর চাপ রয়েছে। কিন্তু সব কিছুরই তো একটা সীমারেখা আছে। বিশ্বসেরারও সীমাবদ্ধতা আছে। মেসি তো বিশ্বসেরাই। তবে সেই সেরারও চূড়ান্ত একটা উচ্চতা আছে। মেসি সেখানে পৌঁছে গেছে। কাতার বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৩৫। আশা করি রাশিয়াই ওর শেষ বিশ্বকাপ না। আমি বলব না যে মেসিকে কাতারে খেলতেই হবে, চ্যাম্পিয়নও হতে হবে। তবে যদি সেটা হয়ই, তাতে অসুবিধা কী? অবশ্য পুরোটাই নির্ভর করছে দলের ওপর। এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার জন্য ভাগ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

এই ব্যর্থতার কোনো অজুহাত নেই। ফুটবল ফেডারেশনের অব্যবস্থাপনাকে দুষে লাভ নেই। কাউকে দায়ী করা যাবে না। গত কয়েক বছরে আটজন কোচের অধীনে খেলেছে ছেলেরা। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এই খেলোয়াড়রা ইউরোপে রাজার হালে জীবনযাপন করে। তাদের কোনো সমস্যা নেই। আমি দায়ী করব এই সব খেলোয়াড়দের আর কোচকে, অন্য কাউকে না। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে এ কোন আর্জেন্টিনাকে দেখলাম! পরিচয়হীন কোনো দল পরিস্থিতি সামলাবে কী করে?

১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলটাকে এখনো হৃদয়ে ধারণ করে আছে আর্জেন্টিনা। সে দলটির নেতা ছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনা, যাঁকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলাই যায়। ডিয়েগো পাশে একঝাঁক দারুণ টিমমেট পেয়েছিল এবং সব কিছু ঠিকঠাকও হয়েছিল। কিন্তু মেসি সেরকম কোনো সমর্থন পায়নি। একইসঙ্গে জাতীয় দলে মেসি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দল তাকে সেভাবে পায় না। আমার কাছে মনে হয় আর্জেন্টিনার বর্তমান ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা খুব জটিল এবং দুঃখজনক। গ্রুপ পর্বে বাকি তিনটি দিনে তাই কোচের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশটা বদলাতে হবে তাকে। এই সময়টায় খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমরা সবাই জানি পরিস্থিতি সুবিধের নয়, দুই ম্যাচ পর এমন অবস্থার জন্য কেউ তৈরি ছিল না। এ অবস্থায় খেলোয়াড়দের মনে বিশ্বাসটা ফিরিয়ে আনতে হবে যে এখনই সব শেষ হয়ে যায়নি। পরের ম্যাচটি হারলে তা হবে ভীষণ লজ্জার। 



মন্তব্য