kalerkantho


আজ পেনাল্টি হলেও যেন মেসিই নেয়

মারিও কেম্পেস লিখছেন কালের কণ্ঠে    

২১ জুন, ২০১৮ ১২:৩৯



আজ পেনাল্টি হলেও যেন মেসিই নেয়

বড় আর ছোট দলের ম্যাচে এমনটাই হয়। আর্জেন্টিনা আর আইসল্যান্ড ম্যাচটার কথাই ধরুন। শক্তিধর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আইসল্যান্ডারদের স্ট্র্যাটেজিটা প্রত্যাশিতই, নিজেদের সীমানার ৫০ মিটারের মধ্যে ডিফেন্স ভারী করে সুযোগ বুঝে আক্রমণে ওঠা। শুধু বিশ্বকাপ নয়, যেকোনো টুর্নামেন্টেই অসম শক্তির দলের মধ্যকার ম্যাচে এটা দেখে আমরা অভ্যস্ত।

 আইসল্যান্ডের পুরো দল একযোগে রক্ষণ সামলেছে। মেসির পায়ে বল গেলে চারজনের করে দুটি দেয়াল তুলে দিয়েছে আইসল্যান্ড। আর প্রতিবার মেসিকে দিয়ে আক্রমণে উঠতে গিয়ে প্রতিপক্ষের একটা সুবিধা করে দিয়েছে আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ড বুঝে গেছে কোন দিক দিয়ে আক্রমণ আসছে। এতে করে উল্টো আরেকটি গোলের সুযোগও তৈরি করে ফেলেছিল আইসল্যান্ডের উইলফ্রেড। দ্বিতীয়ার্ধে ওরা সে চেষ্টাও করেনি। ক্রমাগত ওপর-নিচ করে ক্লান্ত আইসল্যান্ডের ফরোয়ার্ডরা শেষদিকে বল দখলে রেখে সময় নষ্টের কাজটাই করে গেছে সাফল্যের সঙ্গে।

আরেকটি ব্যাপার হলো, মাসচেরানোর পায়ে খুব বেশি বল গেছে। যদিও সে খুব সৃষ্টিশীল খেলোয়াড় নয়। তা ছাড়া আমি মনে করি বানেগার জায়গায় দিবালাকে খেলানোর কথা ভাবতে পারেন কোচ। আমি বিগলিয়া আর বানেগার মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য দেখি না। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে কী লাভ হলো? উইং দিয়ে না উঠে আর্জেন্টিনা মাঝমাঠ দিয়ে তেড়েফুঁড়ে গেছে। অথচ একতরফা কর্তৃত্বের ম্যাচে উইংয়েরও সচল থাকা জরুরি। সেদিন একজনকেই কিছুটা চেষ্টা করতে দেখেছি, সে হলো পাভন। সালভিও চেষ্টা করেছে কিন্তু ফাইনাল পাস দিতে পারেনি। একটা সময় আপনাকে উদ্ভাবনী কিছু একটা করতে হবে। তেমনি ডিফেন্সে রোহোর চেয়ে ফাজিওর ভূমিকা দলের জন্য অধিক কার্যকর হতে পারে। আইসল্যান্ড ম্যাচে ১০টি কর্নার পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে একমাত্র ওতামেন্দি একবার বলে মাথা লাগাতে পেরেছে, যা হতাশাজনক। সেদিনের একাদশে তেমন কেউ ছিল না যে বাতাসে বল দখলের লড়াইয়ে আইসল্যান্ডকে টেক্কা দেবে। এ ক্ষেত্রে হিগুয়াইনের কথা ভাবতে পারেন কোচ। ফ্রান্সের দিকে তাকান। বাতাসে বলের দখল রাখার চিন্তা থেকে গ্রিয়েজমানের পরিবর্তে জিরদকে নামিয়েছিল ফ্রান্স।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও আর্জেন্টিনাকে এমন কিছুই ভাবতে হবে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা বাড়তি জায়গা পাবে। তাতে যদি আরেকবার পেনাল্টি পায় আমি চাইব মেসি যেন শটটা নেয়। অবশ্য সে নিজে থেকে নিতে না চাইলে ভিন্ন কথা। ফুটবলে চাপ নিতে নেই। নিজের অভ্যস্ত পেশার বাইরে কিছু করতে যাওয়াটা চাপের। একজন শ্রমিকের একটানা ১২ ঘণ্টা কাজ করাটা চাপের হতে পারে। ফুটবলাররা তো কোটিপতি। তবু কখনো কখনো চাপ তৈরি হতে পারে। কিন্তু আপনাকে সেই চাপ নৈপুণ্যে পরিণত করতে হবে।

অনেকে বলছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিক চাপে ফেলে দেয়নি তো মেসিকে? আমার কিন্তু মনে হয় এই দুজন দুজনকে সহায়তা করে। আমার মনে হয় না দুজনে একই দলে খেললে আজকের মেসি কিংবা রোনালদো হতে পারত। রোনালদো গোল করলে মেসি ব্যথিত হয় বলে আমি মনে করি না। তাই বলে রোনালদোর সাফল্যে উৎসবও করে না মেসি। একজন সাবেক স্ট্রাইকার হিসেবে আমি মন্তব্য করেছি। গোলদাতার শীর্ষে বসে নিকটবর্তী জনকে গোল করতে দেখে কখনোই উত্ফুল্লবোধ করিনি, মনে ভয় উঁকি দিত। রোনালদোর হ্যাটট্রিক দেখেও সেরকম প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে মেসির মনে। কিন্তু আমাদের মাঝমাঠ গতিশীল নয়, বারবারই মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণে উঠে মেসিকে বল দিতে চেয়েছে। নিঃসন্দেহে মেসি অসাধারণ। কিন্তু আর্জেন্টিনা দলটা তাকে যথাযথ সহায়তা দিতে পারছে না।

আরেকটি ব্যাপার, আমার মনে হয় ম্যারাডোনার সঙ্গে মেসির তুলনা করা উচিত নয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলকে এখনো পূজা করে আর্জেন্টাইনরা, যে দলটার নেতা ডিয়েগো ম্যারাডোনা। সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন। ম্যারাডোনা একজনই। তবে সে তো আর খেলছে না। অনেক দিন আগেই খেলা ছেড়েছে। মেসি এখনো খেলছে, আমাদের আনন্দ দিচ্ছে। এই দুজন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে খেলেছে। তাই তাদের তুলনা করা সম্ভব নয়। উল্টো এটা করে মেসির ওপর আমরা চাপ তৈরি করছি। ডিয়েগোর মতো ভাগ্যটা হয়তো সহায় নয় মেসির। এর পরও অনেকে বলেন মেসি তো বিশ্বকাপ জেতেনি। তো, কী হয়েছে? আলফ্রেডো ডি স্টেফানোও তো বিশ্বকাপ জেতেননি, এমন অনেকের ভাগ্যেই এমন সাফল্য জোটেনি। তাই বলে কি তাঁরা গ্রেট নন? যত্তসব! 



মন্তব্য