kalerkantho


নতুন ছকে আর্জেন্টিনার রণসজ্জা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুন, ২০১৮ ১০:৪৭



নতুন ছকে আর্জেন্টিনার রণসজ্জা

সেসব দিন বড় ভালো ছিল। ব্রাজিল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ থেকেই মেসির পায়ে জাদু ছিল। ফলে স্বস্তিতে ছিলেন কোচ সাবেইয়াও। চার বছর বাদে পুরো ছবিটাই উল্টো হয়ে গেছে। অস্বস্তি-অশান্তির মধ্য দিয়েই যেন শুরু। মেসি আটকে গেলে থমকে যায় পুরো দল! সঙ্গে সাম্পাওলি শুনলেন ম্যারাডোনার হুমকি। এবার অন্যথা হলে আর্জেন্টিনায় ফেরাই নাকি কঠিন হয়ে যাবে কোচের!

এসব আইসল্যান্ড ম্যাচজনিত অশান্তি। এটা হবেই, ব্রাজিলেও হচ্ছে। ফুটবল যে দেশে ভালোবাসা ও চর্চায় ধর্মের মতো, সেখানকার মানুষ কখনো ড্রয়ে স্বস্তি খুঁজে পায় না। হোর্হে সাম্পাওলিও তাই বাড়ি ফেরার কথা না ভেবে আর্জেন্টিনা দলে রং ফেরানোর কৌশল খুঁজছেন। আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র ম্যাচের পর প্র্যাকটিসে নানা ফরমেশনে খেলোয়াড় বদলে দেখেছেন। ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ জয়ের ফর্মুলা খুঁজছেন কোচ। তাতে গ্যাব্রিয়েল মেরকাদোর দুয়ার খুলে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা দলে, ‘আমরা আসলে বিভিন্ন সিস্টেমে কাজ করেছি। প্রতি ম্যাচে বিশেষ কিছু দরকার। যেমন—পাঁচজনের ডিফেন্স হলেও আমাদের রক্ষণ সামলাতে হবে, চারজনের লাইন হলেও খেলতে হবে। আগামী ম্যাচের আগেই চূড়ান্ত হয়ে যাবে আমরা কিভাবে খেলব।’

আর্জেন্টিনা যে কৌশলেই খেলুক প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখেই কয়েকটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন সাম্পাওলি। মার্কোস রোহো, লুকাস বিলিয়া ও আনহেল দি মারিয়ার খেলা মোটেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি আর্জেন্টাইন কোচের। তিনজনই গত বিশ্বকাপ দলের সতীর্থ, যাদের পা আটকে ছিল এবার আইসল্যান্ডের ‘বরফে’। ডিফেন্ডার রোহোর জায়গা নিচ্ছেন সেভিয়ার ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মেরকাদো। বিলিয়াকে বাদ দিয়ে নেওয়া হচ্ছে মার্কোস অ্যাকুইনাকে, প্র্যাকটিসে যাঁকে দেখা গেছে বাঁ দিকের উইংয়ে খেলতে। স্পোর্টিংয়ের এ ডিফেন্ডারকে কোচের পছন্দ অবশ্য অনেক আগে থেকেই। প্র্যাকটিসে তিনি আশা জাগিয়েছেন নতুন করে। তবে ম্যাচের পর ম্যাচ খেলে দি মারিয়া যেটা করতে পারেননি, ক্রিস্তিয়ান পাভন মাত্র ২০ মিনিটেই সাম্পাওলির চোখে স্বপ্নের আবীর মেখেছেন। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হয়ে নেমেই বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার দীর্ঘ সময়ের জন্য হয়তো বা বেঞ্চে পাঠিয়ে দিলেন দি মারিয়াকে! প্রথম ম্যাচের পর ট্রেনিং দেখে অনেকে মনে করছে একাদশে বড় পরিবর্তন আসবেই এবং ওই তিনজনের সংযুক্তি হচ্ছেই।

বাদের তালিকায় ডিয়েগো ম্যারাডোনা যোগ করে দিতে চান আগুয়েরোকেও! আইসল্যান্ডের বিপক্ষে অমন দুর্দান্ত গোলের পরও এই স্ট্রাইকারকে মনে ধরছে না ১৯৮৬-র বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তির। তিনি চাইছেন আগুয়েরোকে ছেঁটে ফেলে হিগুয়েইনকে খেলাতে, পাভনের সঙ্গে তাঁর চমত্কার জুটির আশায়। ম্যারাডোনা এখানে হিগুয়েইনের উচ্চতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, তাতে করে দুই উইং থেকে পাঠানো ক্রসগুলো হেডে পাবেন জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড।

ম্যারাডোনার কথা সাম্পাওলি কতখানি কানে তুলবেন বলা মুশকিল। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে বিশ্বকাপ শুরু করেছিলেন তিনি। আইসল্যান্ডে আটকে গিয়ে তিনি ফিরে যাচ্ছেন তাঁর অভ্যস্ত কৌশলে। তিন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের সঙ্গে চার মিডফিল্ডার এবং তিন ফরোয়ার্ডের কম্বিনেশনে খুব অ্যাটাকিং ফর্মুলা। প্রথম ম্যাচ ড্রয়ের পর এখন যা অবস্থা তাতে পরের ম্যাচে অ্যাটাকিং ফুটবল ছাড়া উপায়ও নেই। সে ম্যাচের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, যারা নাইজেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে এখন গ্রুপ শীর্ষে। তাদের বিপক্ষে নামার আগে স্বাভাবিকভাবে অনেক দোলাচল কাজ করছে খেলোয়াড়দের মনে। মেরকাদোর কথায়ও তার প্রকাশ আছে, ‘ম্যাচটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটা জিততেই হবে।’ তবে জেতা খুব সহজ হবে না। লুকা মডরিচ ও ইভান রাকিতিচের সামর্থ্য তো ভালো করেই জানেন সেভিয়ায় খেলা আর্জেন্টাইন এ ডিফেন্ডার, ‘তারা খুব বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ। মাঝ মাঠে তাদের দুজন খেলোয়াড় আছে, যারা খেলাটাকে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এ দুজন বাদেও আরো কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা চাইবে দ্রুত লিড নিতে।’

কিন্তু মেসি কী চাইছেন, সেটাও তো দেখতে হবে। কোচ যতই অঙ্ক করুক ‘রায়’ তো দেবেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। প্রথম ম্যাচে তাঁর শেষ বিশ্বকাপের শুভ সূচনা হয়নি। ১১টা শট করেও পারেননি আইসল্যান্ডের জাল ছুঁতে। বরং ‘ব্যথা’ আরো বেড়েছে পেনাল্টি-মিসে। এমন দুর্ভাগ্য তো প্রতি ম্যাচে জারি থাকতে পারে না। তাঁকে মার্কিং করেও সব সময় সফল হওয়া যায় না। আইসল্যান্ডের সৌভাগ্য, তারা পেরেছে। আপাতভাবে আর্জেন্টিনার দুর্ভাগ্য, তবে এ ম্যাচের কারণেই তো সব কিছু ভেঙেচুরে কোচ খুঁজছেন ‘উইনিং ফর্মুলা’। এই ফর্মুলার সারকথা হলো, সঙ্গী-সাথিদের চমত্কার সংগত এবং ‘মেসি-ম্যাজিকে’ আর্জেন্টাইন ফুটবলের নবজাগরণ। 
সূত্র: ওলে 



মন্তব্য