kalerkantho


সাম্পাওলিকে সেরা কোচ মনে করে না আর্জেন্টাইনরা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মে, ২০১৮ ১১:৫৩



সাম্পাওলিকে সেরা কোচ মনে করে না আর্জেন্টাইনরা!

ছবি : এএফপি

হোর্হে সাম্পাওলির যাবতীয় সাফল্য চিলির কোচ হিসেবে। ২০১৭ সালের ২০ মে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন তিনি। কিন্তু গত এক বছরে বিশ্ব ফুটবলে সে ভাবে কোনও ছাপ ফেলতে পারেননি। তারপরেও ইউরোপের ফুটবলপ্রেমীরা মনে করেন আসন্ন বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা কোচ আর্জেন্টিনার হোর্হে সাম্পাওলি। কিন্তু সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি তার নিজের দেশে। আর্জেন্টিনার অধিকাংশ মানুষই সাম্পাওলিকে সেরা কোচ বলে মনে করেন না।

লিওনেল মেসির উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। বার্সেলোনা তারকা ছন্দে না থাকলে পুরো দলটাই মুখ থুবড়ে পড়ে। কারণ, দল হিসেবে আর্জেন্টিনাকে গড়ে তুলতে এখনও সফল নন তিনি। অবশ্য সাম্পাওলি নিজেই বলছেন, তিনি আর্জেন্টিনার কোচ ঠিকই। কিন্তু দলটা আসলে মেসির! এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে যে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে চলেছেন আর্জেন্টিনীয় কোচ, তা স্পষ্ট। ১৬ জুন প্রথম ম্যাচেই মেসিদের প্রতিপক্ষ আইসল্যান্ড।

প্রথমবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জন করলেও তাদের একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। দুই বছর আগে ইউরো কাপেও প্রথম বার যোগ্যতা অর্জন করেছিল আইসল্যান্ড। কিন্তু ফ্রান্সে অভিষেকেই চমকে দিয়েছিল বরফের দেশের ফুটবলাররা। ইংল্যান্ডকে ইউরো কাপ থেকে ছিটকে দিয়ে শেষ আটে উঠেছিল আইসল্যান্ড। যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে হারেন জিলফি সিগুর্দসনরা।

এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গ্রুপেই রয়েছে শক্তিশালী নাইজিরিয়া ও ক্রোয়েশিয়া। নক-আউটে উঠবে গ্রুপ থেকে দুটি দল। ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, এই মারণ গ্রুপ থেকে নক-আউটে যোগ্যতা অর্জন করা একেবারেই সহজ হবে না আর্জেন্টিনার। তাই এমন রণনীতি তৈরি করতে হবে সাম্পাওলিকে, যেখানে মেসিকে সেরা ছন্দে পাওয়া যাবে। তা হলেই কোচ হিসেবে সাম্পাওলিকে সফল বলা যাবে।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের আরও একটা সমস্যা, ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপের পরে বারবার কোচ বদল। চার বছর আগে জার্মানির বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পরে পদত্যাগ করেন আলেসান্দ্রো সাবেয়া। বার্সেলোনার প্রাক্তন ম্যানেজার সেরার্দো মার্তিনোর কোচিংয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন পর্বে অভিযান শুরু করে আর্জেন্টিনা।

কিন্তু ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে হারের পরে তিনিও দায়িত্ব ছাড়েন। এর পরে কোচ হন এদগার্দো বাউজার। ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল তিনি যখন দায়িত্ব ছাড়েন, কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকা) গ্রুপে পাঁচ নম্বরে ছিল আর্জেন্টিনা। এর পরে কোচ হন সাম্পাওলি। কিন্তু বিশ্বকাপের জন্য দলগঠন করতে গিয়ে বারবারই সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাকে।

১৯৯৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে আর্জেন্টিনা পাঁচ বার অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছে। অথচ সিনিয়র দলের জন্য সে ভাবে প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলার উঠে আসেনি। বিশেষ করে রক্ষণে কোনো ভালো ডিফেন্ডার উঠে আসেনি। ফলে ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলা ২৩ জন ফুটবলার রয়েছেন এবারের আর্জেন্টিনা দলে। অথচ প্রতিবেশী দেশে উরুগুয়ে শিবিরে রয়েছেন ৮জন অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের ফুটবলার।

প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে সাম্পাওলির রণনীতি নিয়েও। চিলির কোচ থাকার সময় প্রেসিং ফুটবলই ছিল তার প্রধান। আর্জেন্টিনাকেও একই ভাবে খেলাতে চাইছেন তিনি। যা দলের ছন্দ নষ্ট করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



মন্তব্য