kalerkantho



এবার হবে সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মে, ২০১৮ ১০:৫৩



এবার হবে সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ!

১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক বর্জন করেছিল প্রায় অর্ধেক বিশ্ব। সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায়। সেই সোভিয়েত ইউনিয়ন আর নেই; তার ঔরসজাত রাশিয়াও অমন উটকো আক্রমণ করে বসেনি অন্য ভূখণ্ডে। তবে পশ্চিমের সঙ্গে বিরোধটা রয়ে গেছে সেই আগের মতো। সেই শীতল যুদ্ধের দিনগুলোর মতোই।

ভ্লাদিমির পুতিনের বড় সাফল্য এখানেই। সিরিয়া ইস্যুতে মার্কিনিদের নেতৃত্বে পশ্চিমাদের সঙ্গে বিরোধ, ইউক্রেন নিয়েও একমত নয় রাশিয়া—আর ইংল্যান্ডে সাবেক এক রুশ ডাবল এজেন্টকে বিষ প্রয়োগ করা নিয়ে তো তুলকালামই বেধে গিয়েছিল। এত কিছু সত্ত্বেও বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক আসেনি কোনো তরফ থেকে। দারুণ কূটনৈতিক সাফল্যে ওই শঙ্কাটা দানা বেঁধে উঠতে দেয়নি কখনো রাশিয়া।

আর এবার সফল বিশ্বকাপ আয়োজন করে বিশ্বের কাছে নিজের ক্যারিশমা দেখানোর আরেক সুযোগ এখন পুতিনের সামনে। আর রাশিয়া তা করে দেখাতে পারবে বলে বিশ্বাস রয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। গত সপ্তাহেই সোচিতে এক আয়োজনে পাশাপাশি ছিলেন পুতিনের। নিজের বক্তব্যে রুশ প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন ফিফা সভাপতি, ‘এই বিশ্বকাপকে সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ করার জন্য আপনারা সবাই কাজ করছেন।’

২০১৮ বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে রাশিয়াকে নির্বাচন করা হয় আট বছর আগে। সিদ্ধান্তটি বিতর্কিত ছিল তখনো। অবশ্য পুতিনের তাতে কি-ই বা যায়-আসে! আর এই আট বছরে দেশের ভেতরে তাঁর জনপ্রিয়তায়ও ফাটল ধরেনি এতটুকুন। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের বিজয় সে বার্তাই দিচ্ছে। তবে বিশ্বকাপের সফল আয়োজনেই রাশিয়ার চূড়ান্ত সাফল্য নয়। বিশ্বকাপ উপলক্ষে তৈরি স্থাপনাগুলো যেন ‘শ্বেতহস্তী’তে পরিণত না হয়, সে ব্যবস্থাপনা হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জের।

এই বিশ্বকাপ আয়োজনে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে ফেলেছে রাশিয়া। ১১ শহরের ১২ স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো। এগুলোর নির্মাণ ও সংস্কারে অর্থ ব্যয় হয়েছে দেদার। বিশ্বকাপের সময় রাশিয়ায় আসবে পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষ। এত্ত এত্ত লোক একসঙ্গে নিকট ভবিষ্যতে রাশিয়ায় আর আসবে না। তবু বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা ওই সব পর্যটকের জন্য তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য হোটেল। অন্যান্য সময় এখানে খরিদ্দার পাওয়া মুশকিল। ঢেলে সাজানো হয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। বিশেষত বিমানবন্দর সংস্কারে ব্যয় বিস্তর।

বিশ্বকাপ শেষে পর্যটকরা চলে এলে এসব কোন কাজে আসবে! পুতিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এটিই।

২০১৪ সালে শীতকালীন অলিম্পিক হয়েছিল রাশিয়ার সোচিতে। ওখানে ব্যয় হয়েছিল ৫০ বিলিয়ন ডলার। এর সাফল্য মিশ্র। রাশিয়ার অর্থনীতিতে বিশ্বকাপের ইতিবাচক প্রভাব যেন বিশ্বকাপের পরও থাকে, সেটি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে হবে পুতিনের সরকারকে। সমর্থকদের আরেক বড় ভাবনার জায়গা রাশিয়ার বিশালত্ব। শহর থেকে শহরের দূরত্ব। নিজ নিজ দলকে অনুসরণ করে এক শহর থেকে আরেক শহরে ছুটবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা-জার্মানির সমর্থকরা। কিন্তু কাজটি তো মোটেও সহজ না। স্বাগতিক শহরগুলো কত ছড়ানো, তা বোঝার জন্য দুটি তথ্যই যথেষ্ট। এক, এই ১১ শহরের অবস্থান চারটি ভিন্ন টাইম জোনে। দুই, সবচেয়ে পশ্চিমের কালিনিংগ্রাদ স্টেডিয়াম থেকে সবচেয়ে পূর্বের ইয়েকাতেরিংবার্গ স্টেডিয়ামের দূরত্ব আড়াই হাজার কিলোমিটার; যা মস্কো থেকে লন্ডনের দূরত্বের সমান। এক শহর থেকে আরেক শহরে ছোটা তাই কম হ্যাপার হবে না!

আরেক ভয় রয়েছে ফুটবল হুলিগানদের নিয়ে। বর্ণবাদ নিয়ে। এসব নিয়েও বড্ড সতর্ক রাশিয়া। কর্মকর্তা আলেক্সিই স্মেরতিনের কণ্ঠে তাই হুঁশিয়ারি, ‘সমর্থকদের মধ্যে যারা নিয়ম ভঙ্গ করবে, তাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে; গ্যালারি থেকে নিজ দলকে সমর্থন করতে পারবে না।’

এ সব কিছুই না হয় ঠিক থাকল। কিন্তু মাঠের ফুটবলে রাশিয়া যদি বিবর্ণ থাকে, তাহলে যে রংহীন হয়ে যেতে পারে পুরো উৎসবই! সে আশঙ্কা একেবারে অমূলক নয়। বিশ্বকাপের ৩২ দলের মধ্যে ফিফা র্যাংকিংয়ে ৩০ দলের পেছনে রয়েছে তারা। আর ভালো খবর হলো, ড্রতে রাশিয়া পড়েছে তুলনামূলক সহজ গ্রুপে। ‘এ’ গ্রুপে উরুগুয়ে, মিসর ও সৌদি আরবের সঙ্গে। এদের মধ্যে ১৪ জুন টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ সৌদি আরবের বিপক্ষে; ফিফা র্যাংকিংয়ে রাশিয়ার নিচে থাকা একমাত্র দল। এই গ্রুপ থেকে যদি নক আউট পর্বে না যেতে পারে স্বাগতিকরা, তাহলে আর কোন গ্রুপ থেকে পারবে!

আর পারতেই যে হবে, দৃঢ়কণ্ঠে প্রত্যাশার সেই জায়গাটায় কিন্তু রাশিয়াকে রেখেছেন পুতিন, ‘আমাদের দলকে নির্ভীক অদম্য ফুটবল খেলতে হবে; যা আমাদের সমর্থকরা ভালোবাসবে।’ অমন ফুটবল খেলতে না পারলে রাশিয়ার বাকি সব আয়োজনই যে একরকম বৃথা যাবে! 
সূত্র: এএফপি



মন্তব্য