kalerkantho


মধ্যরাতে গাঙ্গুলীকে কেন ফোন করেছিলেন পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২১:৪০



মধ্যরাতে গাঙ্গুলীকে কেন ফোন করেছিলেন পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট?

সাবেক পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফ (বামে) এবং সাবেক ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী (ডানে)।

ভারত-পাকিস্তানের বর্তমান সম্পর্ক পুরোপুরি সাপে-নেউলে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা বলতে গেলে যুদ্ধকালীন অবস্থায় কর্তব্য পালন করছেন। ক্রিকেট-বিনোদনসহ প্রায় সব সেক্টরেই দুই দেশের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। কিন্তু আজ থেকে এক যুগ আগেও পরিস্থিতি এত খারাপ ছিল না। তখন পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে যেত ভারত। পাকিস্তানও যেত একইভাবে। সেই সময়ের একটি ঘটনা এবার উঠে এল নতুনভাবে।

২০০৪ সালে সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্ব পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। সেই সফরের মাঝে এক মধ্যরাতে গাঙ্গুলীকে ফোন করেছিলেন তত্কালীন পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফ। কিন্তু কেন? একজন ভিনদেশি ক্রিকেটারকে কেন একটি দেশের প্রেসিডেন্ট ফোন করবেন? তাও আবার মধ্যরাতে! এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল 'প্রিন্স অব ক্যালকাটা'র আত্মজীবনী 'আ সেঞ্চুরি ইজ নট এনাফ' বইটিতে।

আত্মজীবনীতে গাঙ্গুলী লিখেছেন, 'একদিন মধ্যরাতে হঠাৎ দেখি আমার বন্ধুরা মিলে প্ল্যান করছে পাকিস্তানের গলমান্ডির বিখ্যাত ফুড স্ট্রিটে কাবাব ও তন্দুরি চিকেন খেতে যাবে। এটা শোনার পরেই আমি লোভ সামলাতে না পেরে সিকিউরিটি অফিসারকে না জানিয়ে টিম হোটেলের বাইরে বেরিয়ে পড়ি। শুধুমাত্র টিম ম্যানেজার রত্নাকর শেঠিকে বলে গিয়েছিলাম। কারণ, আমি নিশ্চিত ছিলাম, সিকিউরিটি অফিসারকে বললে আমাকে যেতে দেবে না ।'

'নিয়ম ভাঙছি জেনেই মুখ ঢেকে, টুপি পরে আমি হোটেলের পিছনের দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাই। ভয় ছিল যদি কেউ চিনে ফেলে। শেষ পর্যন্ত হলোও তাই। একজন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি সৌরভ না? আমি চাপাস্বরে 'না' বলে পাশ কাটিয়ে চলে যাই।'

'কিন্তু ফুড স্ট্রিটের ডিনার টেবিলে আমাকে চিনে ফেলেন সিরিজ কাভার করতে আসা এক ভারতীয় সাংবাদিক। তিনি উত্তেজনার বশে নাম ধরে জোরে ডাকতেই শোরগোল পড়ে যায়। চারিদিক থেকে লোক জড়ো হয়ে আমাকে ঘিরে ফেলে। বিল মিটিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গেলে হোটেলের ম্যানেজার বিল নিতে অস্বীকার করেন। আমার মনে আছে তিনি বলেছিলেন, আপনার মত আগ্রাসী মানসিকতার একজনকে চাই যে পাকিস্তান দলের নেতৃত্ব দেবে।'

'ফুড স্ট্রিট থেকে মধ্যরাতে গাড়িতে হোটেলে ফেরার পথে আরও বিপত্তি। আমাদের গাড়ির পিছনে সারি সারি বাইক আর তাদের চিত্কার। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে টিম হোটেলে ফিরে আসি। কিন্তু খবরটা পৌঁছে গিয়েছিল প্রেসিডেন্ট মোশারফের কাছে। তিনি আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, পরেরবার কোথাও টিম হোটেল থেকে বের হলে যেন নিরাপত্তারক্ষীদের জানিয়ে যাই। পাকিস্তানের অনিরাপদ পরিবেশে মধ্যরাতের অ্যাডভেঞ্চার যেন না করি।'



মন্তব্য