kalerkantho


শ্রীলঙ্কাকে গড়লেন হাথুরু; বাংলাদেশকে ভাঙাচোরা বানাল কে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৪:০১



শ্রীলঙ্কাকে গড়লেন হাথুরু; বাংলাদেশকে ভাঙাচোরা বানাল কে?

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের আগে গুরুত্বহীন একটি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে বাংলাদেশ ৮২ রানে অল-আউট হওয়ার পর বলা হয়েছিল 'এটা একটা দুর্ঘটনা'। ফাইনালের যখন হেরে গেল বড় ব্যবধানে, তখন বলা হলো এক সিরিজের জন্য এটি 'হাথুরু ম্যাজিক' ছিল। দ্বিপাক্ষিক টেস্ট সিরিজে দেখা যাবে। অবশেষে আজ টেস্ট সিরিজে সেই 'দেখা' হয়ে গেল সবার।

মুমিনুল-লিটন দাসের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র করেছিল বাংলাদেশ। মিরপুরের 'হোম অব ক্রিকেট' এ শেষ টেস্টের আগে অনেক হুমকি ধামকি শোনা গিয়েছিল। হাতের তালুর মত চেনা মাঠ। চেনা উইকেট। শুধু বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের চেনা গেল না। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে খেলা হল মাত্র ২৯.৩ ওভার। পরাজয় ২১৫ রানের।

দুই মাস আগেও এই বাংলাদেশের কোচ ছিলেন চন্দিকা হাথুরুসিংহে। তিনি হঠাৎ পদত্যাগ করে নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটে যেন আনন্দের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া খালেদ মাহমুদ সুজন থেকে শুরু করে সিনিয়র-জুনিয়র সব ক্রিকেটাররাই খুশি। ড্রেসিংরুমে নাকি শান্তি এসে গেছে। পুরনো পারফর্মারদের ডেকে এনে নতুন করে দল সাজানো হল। হাথুরুকে একটা কঠিন শিক্ষা দিতে হবে। হাথুরু যতই এদেশের ক্রিকেটারদের হাঁড়ির খবর জানুক না কেন, মাঠে তো খেলতে হবে ক্রিকেটারদেরকেই। এমন কথাই শোনা গেছে বেশিরভাগ ক্রিকেটারের মুখে।

বাংলাদেশ সফরের আগে জিম্বাবুয়ের মত দলের কাছে হেরে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের গোনাতেই ধরেনি কেউ। ত্রিদেশীয় সিরিজের মঞ্চে দুই দলের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ১৬৩ রানের বিশাল জয়ের পর সেই ধারণা আরও পোক্ত হয়। কনফিডেন্ট হয়ে যায় ওভার কনফিডেন্ট। এই ওভার কনফিডেন্টই সম্ভবত ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে। আর এই সুযোগে শিষ্যদের পরপর দুটি সিরিজ জিতিয়ে দিয়েছেন হাথুরুসিংহে! দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুই অ্যাসাইনমেন্টে এত বড় সাফল্য নিঃসন্দেহে হাথুরুসিংহের যোগ্যতার প্রমাণ রাখে।

অন্যদিকে চলতি টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে দেখে সেই ১০ বছর আগের দল বলেই মনে হচ্ছিল। প্রথম টেস্টে মুমিনুল হক আর লিটন দাসের তিনটি ইনিংস ছাড়া বলার মত আর কোনো ইনিংস নেই। ঢাকা টেস্টে আকিলা ধনাঞ্জয়া আজ ৫ উইকেট নিলেও দুই টেস্টে কোনো বাংলাদেশি বোলার এটা করতে পারেননি। হাথুরু আমলে তো এতটা দুর্বল ছিল না বাংলাদেশ। অন্তত ঘরের মাঠে সত্যিকারের বাঘ ছিল টিম টাইগার। এই বাঘকে বিড়ালে পরিণত করার দায় কার?

হাথুরুসিংহে যাওয়ার পর এমন সব কথা শোনা যাচ্ছিল, যাতে মনে হচ্ছিল একটি ক্রিকেট দলে কোচের কোনো দরকারই নেই! ক্রিকেটাররাই সব। প্রধান কোচের জন্য সাক্ষাৎকার-টাক্ষাৎকার নিয়ে তারপর স্থগিত করা হলো। দেশের খ্যাতনামা কোচদের উপেক্ষা করে হুট করেই খালেদ মাহমুদ সুজনকে 'টেকনিক্যাল ডিরেক্টর' করা হলো। লাভটা কী হয়েছে? ঘরের মাঠের বাঘ পরিণত হয়েছে গলির ক্রিকেট দলে! কে নেবে দায়?



মন্তব্য