kalerkantho


বিলাসবহুল হোটেলে মরিনহোর বিলাসী জীবন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:৪৫



বিলাসবহুল হোটেলে মরিনহোর বিলাসী জীবন

বিশ্বের হাই প্রোফাইল কোচদের অন্যতম তিনি। রেড ডেভিলসের ম্যানেজারের দায়িত্ব নিয়েছেন ২০১৬-১৭ মৌসুমের শুরুতে। ইতিমধ্যেই দুই বছর ম্যানচেস্টারে কাটিয়ে ফেলেছেন 'দ্য স্পেশাল ওয়ান' খ্যাত হোসে মরিনহো। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আর কতদিন ম্যান ইউয়ের কোচ থাকবেন তিনি?

সাফল্যতেও যিনি দলবদল করে থাকেন, পর পর ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়েও কি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকবেন? আসলে মরিনহোর কোচিং ক্যারিয়ারের ইতিহাসের কারণেই এমন প্রশ্ন উঠছে। 

অতীতে নজর দিলে দেখা যায়, মরিনহো সহকারী কোচ হিসেবে বার্সেলোনায় কাটিয়েছিলেন ৪ বছর। কোচিং ক্যারিয়ারে এর আগে বা পরে ৩ বছরের বেশি কোথাও কাটাননি। ৫ মৌসুম চেলসির ডাগ-আউটে থাকলেও 'দ্য ব্লুজ'দের একটানা কোচিং করাননি তিনি। বরং দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ইন্টার মিলান, চেলসি, রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসাবে প্রভূত সাফল্য পেলেও বার বার ঠিকানা বদল করেছেন ৫৪ বছরের পর্তুগিজ ফুটবল ম্যানেজার। পুরনো অভ্যেসের জন্যই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা।

এই জল্পনায় ইন্ধন জোগাচ্ছে এর একটি নজর এড়ানো সিদ্ধান্ত। মরিনহোর ম্যান ইউয়ের দায়িত্ব নেওয়ার বছরে ক্লাবটি ইপিএল শেষ করেছিল ৬ নম্বরে থেকে। এবার দ্বিতীয় স্থানে থাকেলও লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা কম। ম্যাঞ্চেস্টার সিটি বাকিদের এতটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে যে, গার্দিওলার দলের চূড়ান্ত পদস্খলন না হলে রানার্সআপের জন্য লড়াই করবে বাকিরা। যেহেতু গড়ে তিন বছরের বেশি একই ক্লাবে থাকা মরিনহোর স্বভাববিরুদ্ধ, তাই পরের মৌসুমে তিনি ম্যাঞ্চেস্টার ছাড়ছেন না, এমনটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। 

পরের বার ইউনাইটেড ছাড়ছেন কিনা, এমন প্রশ্ন শুনতে হয়েছে মরিনহোকেও। তিনি অবশ্য এমন প্রশ্ন সাথে সাথে উড়িয়ে দিলেও সাংবাদিকরা তাদের ধারণার স্বপক্ষে যুক্তি খুঁজেই চলছেন। চেলসির ম্যানেজার থাকার সময় মরিনহো লন্ডনে একটি বাড়ি কিনেছিলেন। যেখানে তার পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেও  তিনি থাকেন ম্যাঞ্চেস্টারে। ম্যান ইউতে ২ বছর কেটে গেলেও মরিনহো এখনও বাস করেন বিলাসবহুল হোটেলে। এক রাতের জন্য যার ভাড়া বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ টাকা।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসহ হোটেলে বিলাসসামগ্রীর অভাব নেই। ৯০ স্কয়ার মিটারের রিভারসাইড স্যুইটে ব্যক্তিগত অ্যাপার্টমেন্টের মতোই সমস্ত সুযোগ সুবিধা রয়েছে। পানশালা, সুসজ্জিত রান্নাঘর, ডিনার পার্টির উপযুক্ত হল ছাড়াও যেকোনো প্রয়োজনে ২৪ ঘণ্টার রুম সার্ভিস রয়েছে মরিনহোর। ম্যাসচেস্টারে নিজের স্থায়ী ঠিকানায় মরিনহোর অনীহা কি তাহলে নতুন কোথাও আস্তানা গাড়ার পরিকল্পনা! ম্যান ইউ কর্তৃপক্ষ অবশ্য তেমনটা মনে করছে না। রেড ডেভিলস আস্থা রয়েছে 'স্পেশাল ওয়ান'য়ের দায়িত্বশীলতার ওপর।



মন্তব্য