kalerkantho


বিসিসিআইয়ের আর্থিক লোভেই মরণাপন্ন অবস্থায় পড়েছিল ক্রিকেটাররা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৫:৫৫



বিসিসিআইয়ের আর্থিক লোভেই মরণাপন্ন অবস্থায় পড়েছিল ক্রিকেটাররা!

ছবি: এএফপি

দিল্লি টেস্ট ড্র হওয়ার পরও আলোচনা থামছে না এই টেস্ট আয়োজন করা নিয়ে। ভারতের রাজধানীর ভয়াবহ দুষিত বাতাসের মাঝে এমন আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা একেবারেই অনুচিত হয়েছে বলেই মত দিয়েছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)।

বিসিসিআইকে এক চিঠির মাধ্যমে সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিরোজ শাহ কোটলায় 'মরণাপন্ন অবস্থা'য় ছিল ক্রিকেটাররা!

এ ধরনের দুষিত পরিবেশে অভ্যস্ততা একটা বিষয়। সফররত লঙ্কান ক্রিকেটাররা স্বভাবতই এই ভয়ানক পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত নন। তারপরেও ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে এবং একের পর এক ক্রিকেটার অসুস্থ হওয়ার পরও টেস্ট পুরো পাঁচদিনই চলেছে। শেষ পর্যায়ে ভারতের দুই ক্রিকেটার অসুস্থ হয়ে মাঠেই বমি করায় টনক নড়ে বিসিসিআইয়ের। এর আগ পর্যন্ত তারা বিষয়টিকে 'শ্রীলঙ্কানদের ভনিতা' বলেই দাবি করেছিল তারা।

তবে এই দুষণ নিয়ে শুরু থেকেই ম্যাচ আয়োজনের বিরোধিতা করে আসছিল দিল্লির চিকিৎসকরা। বিসিসিআই তাদের মতের বিরোধিতা করেও পার পায়নি। দিল্লি ম্যারাথনের আগেই ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন আয়োজকদের জানিয়ে দিয়েছিল এই পরিবেশে খেলার আয়োজন করা ঠিক নয়। কিন্তু বিপুল ক্ষতির কথা মাথায় রেখে সেই সময় ম্যারাথন বাতিল করা যায়নি।

সেই পথ ধরেই ভয়ঙ্কর দুষণের মধ্যে খেলা বাতিল করতে পারেনি বিসিসিআই।

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এই দুষণের বিষয়টিকে বিসিসিআইয়ের সেভাবেই ভাবা উচিত ছিল, যেভাবে বৃষ্টি বা কম আলোর ক্ষেত্রে হয়। আইএমএর প্রেসিডেন্ট কেকে আগরওয়াল বিসিসিআইয়ের কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট সিকে খান্না ও সিওএ শীর্ষ কর্তা বিনোদ রাইকে বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে এই কথা জানিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, 'আবহাওয়া দুষণ ক্রিকেটারদের পারফর্ম্যান্সে প্রভাব ফেলে। যেখানে মিলিসেকেন্ড বা মিলিমিটারের ব্যবধানে একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করে সেখানে দুষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। '

গত দুদিনে বিশেষ করে পালমোনোলজিস্ট ও কার্ডিওলজিস্টরা দিল্লি টেস্টের দুষণ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছে।  আইসিসি ও বিসিসিআইকেও বার বার দুষণের পরিমাণ নিয়ে জানানো হয়েছে। খেলা বন্ধ করতে বলা হয়েছ।

কেকে আগরওয়াল আরও লিখেছেন, 'এটা সেই সময় থেকে শুরু হয়েছিল যখন ক্রিকেটাররা মাস্ক পরে খেলতে নামে। ডাক্তার হিসেবে আমরা বুঝতে পারছিলাম একটা মরণাপন্ন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে ক্রিকেটাররা। আমরা ক্রিকেট বোর্ডকে তো এটা বলতে পারি না যে দুষণ হলে তারা কী করবে। কিন্তু আমরা চেয়েছি যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। '


মন্তব্য