kalerkantho


দুর্দান্ত শোয়েব মালিকে থামল ঢাকার জয়রথ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ১৬:৪৭



দুর্দান্ত শোয়েব মালিকে থামল ঢাকার জয়রথ

টার্গেট ছিল বলতে গেলে খুব সহজ। মাত্র ১২৯ রান।

এই কম রানটাই যে এত বড় হয়ে যাবে তা কি জানত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের ব্যাটসম্যানরা? জয়ের পথে থেকে বারবার পথ হারিয়েছে তারা। বারবার রং বদলে গেছে ম্যাচের। ঢাকার ইনিংসে আগুন ঝড়িয়েছেন হাসান আলী। আর কুমিল্লার ইনিংসে বল হাতে জাদু দেখালেন মোহাম্মদ আমির-সুনিল নারাইনরা। ৫ উইকেট নেওয়া হাসান আলীর দুর্দান্ত বোলিং আর শোয়েব মালিকের অসামান্য ব্যাটিং নৈপূণ্যে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিয়ে সাকিবদের জয়রথ থামাল তামিম বাহিনী।

১২৯ রানের লক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে সতর্ক শুরু করে কুমিল্লা। তবে দলীয় ১৭ রানেই লিটন দাসকে (০) প্যাভিলিয়নে পাঠান আবু হায়দার রনি। অপর ওপেনার তামিম ইকবালও ৯ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৮ রান করে সুনিল নারাইনের বলে সাঙ্গাকারার গ্লাভসবন্দি হন। শোয়েব মালিক এবং ইমরুল কায়েস মিলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা ইমরুল আজ সাদ্দামের বলে ২০ রান করে আউট হন। সুনিল নারাইনের দ্বিতীয় শিকার হন ১২ রান করা ডিজে ব্র্যাভো।

এই পর্যায়ে ম্যাচে চলে আসে টানটান উত্তেজনা। ইংলিশ তারকা জশ বাটালরকে (১১) বোল্ড করে দেন পাকিস্তানি গতি তারকা মোহাম্মদ আমির। আমিরের দ্বিতীয় শিকার হন অল-রাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন (৪)। একপ্রান্ত আগলে লড়াই করছিলেন শোয়েব মালিক। মেহেদী মিরাজকে নিয়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনিই দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। ম্যাচ শেষে শোয়েব মালিকের নামের পাশে অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরি। ৫৩ বলে ৪ বাউন্ডারি ১ ওভার বাউন্ডারিতে ৫৪ রান।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে  ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১২৮ রানে অল-আউট হয়ে যায় ঢাকা ডায়নামাইটস। তাদের শুরুটাও ভালো হয়নি।  টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলা এভিন লুইস আজ ইনিংস বড় করতে পারেননি। হাসান আলীর বলে ১টি ছক্কায় ৭ রান করে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ১২ রানে প্রথম উইকেট হারায় ঢাকা। মেহেদী মারুফ উইকেটে এসেই কোনো রান না করে হাসানের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন।

কিন্তু এরপরেই সুনিল নারাইন আর কুমার সাঙ্গাকারার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় ঢাকা। রীতিমতো ব্যাটিং তাণ্ডব শুরু করেন নারাইন। দুজনে মিলে ৯২ রানের  জুটি গড়েন। দলীয় ১০৪ রানে সাঙ্গাকারা (২৮) রানআউট হলে বিপর্যয়ে পড়ে যায় ঢাকা। ৪৫ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলা সুনিল নারাইনকে ফেরান সাইফ উদ্দিন। অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও (৩) শিকার হন এই তরুণ পেস বোলিং অল-রাউন্ডারের। কায়রন পোলার্ডও রান-আউটের শিকার হন।

এরপর মঞ্চে আবির্ভাব রশিদ খানের। জহরুল ইসলাম ২ রান করে এই আফগান তরুণের বলে বোল্ড হয়ে যান। তরুণ অল-রাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন (১) শিকার হন হাসান আলীর। ঢাকার টেল-অ্যন্ডারও জোড়া আঘাতে ধসিয়ে দেন হাসান আলী। মোহাম্মদ সাদ্দাম (১) আর আবু হায়দার রনিকে (০) ফিরিয়ে ১৮.৩ ওভারেই ঢাকার ইনিংস শেষ করে দেন তিনি। ম্যাচ শেষে হাসানের বোলিং ফিগার ৩.৩-০-২০-৫।


মন্তব্য