kalerkantho


একটি ওয়ানডেতে সুযোগ দেওয়া যেত না মুমিনুলকে?

সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল   

২২ অক্টোবর, ২০১৭ ১৯:৩৫



একটি ওয়ানডেতে সুযোগ দেওয়া যেত না মুমিনুলকে?

ছবি: ক্রিকইনফো

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবং টিম ম্যানেজম্যান্টের অনেক হিসাব ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে কখনই পরিস্কার হয় না। এর পেছনে কোনো যুক্তি কিংবা ব্যখ্যাও খুঁজে পাওয়া যায় না।

এমন ঘটনার সবচেয়ে বড় উদাহারণ মুমিনুল হক। টেস্টে ৬১.৫০ গড়ের মালিক এই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে অদ্ভুত সব খেলা চলছে। একবার তাকে টেস্ট স্পেশালিস্ট ঘোষণা করে ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি থেকে বাদ দেওয়া হয়; আবার টেস্ট ক্রিকেটেও তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়! খুব সাদা চোখে দেখলে সহজেই প্রশ্ন করা যায়, হচ্ছেটা কি মুমিনুলকে নিয়ে?

টেস্ট স্পেশালিস্ট খেতাব পাওয়া মুমিনুল ছিলেন টাইগার একাদশের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হঠাৎই বাদ দেওয়া হয় তাকে। এটা সত্যি যে বেশ কিছুদিন ধরেই খারাপ সময় যাচ্ছিল মুমিনুলের। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এজন্য টেস্ট দল থেকে বাদ দিতে হবে। দল ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে প্রধান নির্বাচককে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেন সাংবাদিকরা। পরের দিনই মোসাদ্দেকর জায়গায় নাটকীয়ভাবে প্রত্যাবর্তন ঘটে মুমিনুলের। তবু সিরিজে মাত্র ১টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তিনি।

চট্টগ্রাম টেস্টের ২ ইনিংসে তিনি ৩১ ও ২৯ রান করেন।

ওই সিরিজের পর বাংলদেশ দল এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় আছে। প্রোটিয়াদের কাছ হোয়াইটওয়াশ হওয়া ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে একটি ইনিংস (৭৭ রান) বাদে অনুজ্জ্বল ছিলেন মুমিনুল। সত্যিকার অর্থে, কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানই সফল ছিলেন না। তারপরও ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশের ওয়ানডে দলেও এবার ঠাঁই হয়ে যায় মুমিনুলের। তামিম ইকবালের ইনজুরির সুবাদে স্থান হয়েছে টি-টোয়েন্টি দলেও। যে মুমিনুলকে বাদই দেওয়া হচ্ছিল, সেই মুমিনুল এবার তিন ফরম্যাটেই দলে সুযোগ পেলেন!

এই সুযোগ পাওয়ার পরও ক্রিকেটপ্রেমীদের শঙ্কা ছিল, আদৌ একাদশে থাকবেন তো মুমিনুল? হ্যাঁ, তাদের সেই আশঙ্কাটাই সত্যি হয়েছে। আজ রবিবার শেষ হতে যাচ্ছে ওয়ানডে সিরিজ। এই লেখাটি তৈরি করার সময় নিশ্চিত হোয়াইটওয়াশের মুখে বাংলাদেশ। প্রশ্ন হলো, অনেক ধরণের 'পরীক্ষা' 'নীরিক্ষা'ই তো করলেন টিম ম্যানেজম্যান্ট এবং কোচ চন্দ্রিকা হাথুরুসিংহে; একটি ম্যাচে মুমিনুলকে সুযোগ দিয়ে কি একটু 'পরীক্ষা' করা যেত না?

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের টপ অর্ডারে একমাত্র তামিম ইকবাল ছাড়া আর ভরসার কেউ নেই। সেই তামিম যখন ইনজুরিতে থাকে বাংলাদেশের শক্তির অনেকটাই শেষ হয়ে যায়। যাকে নিয়ে অসংখ্য মানুষের স্বপ্ন ছিল সেই সৌম্য সরকার নিয়মিত ব্যর্থ হয়ে ওয়ানডে সিরিজে বাদ পড়েছিলেন। তৃতীয় ওয়ানডেতে দলে ফিরে আবারও ব্যর্থ হন। যদিও একটা সময় সাতক্ষীরার এক তরুণকে তামিম ইকবালের যোগ্য সঙ্গী হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। সৌম্য আবার সেই পুরনো রূপে ফিরতে পারবেন কিনা সেটা আলোচনার সময় এখন নয়।

আরেক টপ অর্ডার ইমরুল কায়েসকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। টেস্টে টানা ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পঞ্চাশোর্ধ একটি ইনিংস খেলেছেন। তৃতীয় ওয়ানডেতেও ১ রান করে আউট হয়েছেন। এছাড়া সফরের ২য় টেস্টে প্রচণ্ড চাপের মুখে ৭০ রানের ইনিংস খেলা লিটন দাসকে একেক ম্যাচে একেক পজিশনে 'পরীক্ষা' করা হচ্ছে। তাই ঘুরে ফিরে একটাই প্রশ্ন আসছে, মুমিনুলকে কি একটা ম্যাচে 'পরীক্ষা' করা যেত না? ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ওই সিরিজেও কি এভাবে উপেক্ষিত থাকবেন মুমিনুল?


মন্তব্য