kalerkantho


হাফ সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে 'নড়াইল এক্সপ্রেস'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ১৭:৫৩



হাফ সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে 'নড়াইল এক্সপ্রেস'

রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে টস করলেই হাফ সেঞ্চুরি করবেন মাশরাফি। ফাইল ছবি

মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে একটা আক্ষেপ হয়তো চিরদিনই থেকে যাবে। তিনিই হতে পারতেন বাংলাদেশের প্রথম পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

কিন্তু একের পর এক চোট আর নিজের কিছুটা উদাসীনতায় ব্যাটিংটায় মনযোগী হতে পারেননি তুমুল জনপ্রিয় এই অধিনায়ক। তবে এবার অধিনায়ক হিসেবে অন্যরকম এক সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে ম্যাশ। বাংলাদেশের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০তম ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন তিনি।

আগামীকাল রবিবার ইস্ট লন্ডনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে টস করতে নামলেই বাংলাদেশের তৃতীয় অধিনায়ক হিসেবে হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলবেন ম্যাশ। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে ৫০ বা ততোধিক ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাবিবুল বাশার ও সাকিব আল হাসান। বাশার ৬৯টি ও সাকিব ৫০টি ওয়ানডেতে টাইগারদের অধিনায়ক ছিলেন।

২০০৯ সালে প্রথম বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হন মাশরাফি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন ইনজুরিতে মাঠ ত্যাগ করতে হয় তাকে।  এরপর আর ওই সিরিজে মাঠে ফিরতে পারেননি।

 সেটিই ছিল অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির একমাত্র টেস্ট।

২০১০ সালে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে মাশরাফির। ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ রানের ঐতিহাসিক জয়টি এসেছিল ম্যাশের নেতৃত্বেই। ওই ম্যাচের সেরাও ছিলেন তিনি। ৮ নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ২৫ বলে ২২ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৪২ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

তবে ইনজুরি পিছু ছাড়েনি মাশরাফির। ঢাকায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে আবারো পায়ের ইনজুরিতে পড়েন তিনি। ফলে আবারো দীর্ঘদিনের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়।  তবে ২০১৪ সালে ওয়ানডে অধিনায়কের পদ থেকে মুশফিকুর রহিমকে সরিয়ে মাশরাফির হাতে আবারো নেতৃত্ব তুলে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।  

এরপর বাংলাদেশকে সাফল্যের জোয়ারে ভাসিয়েছেন মাশরাফি। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে খেলার পর দেশের মাটিতে ভারত-পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় করে মাশরাফি বাহিনী। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাকে না পারলেও পাকিস্তানকে ৩ ম্যাচের সিরিজে হোয়াইওয়াশ করে বাংলাদেশ। এমন দুর্দান্ত সব অর্জনে সরাসরি আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার ছাড়পত্র পায় টাইগাররা। ম্যাশ হয়ে ওঠেন সবার নয়নের মণি।

এরপর চলতি বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালেও উঠে বাংলাদেশ। মাঝে র‌্যাংকিংয়ে ৯ নম্বর থেকে ৬ নম্বরে থাকার স্বাদও ম্যাশের নেতৃত্বেই পেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দল ভালো খেলতে না পারায় অধিনায়ক হিসেবেও সাফল্য পাননি মাশরাফি। তারপরও এখন পর্যন্ত ৪৯টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে ২৭ জয় ও ২০ হারের স্বাদ দিয়েছেন ম্যাশ। বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে শতকরা জয়ের দিক দিয়ে সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস।


মন্তব্য