kalerkantho


রাজনীতি নিয়ে মেসি-পিকের দ্বন্দ্ব!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১৬:১৭



রাজনীতি নিয়ে মেসি-পিকের দ্বন্দ্ব!

ছবি: ইন্টারনেট

কাতালানদের সঙ্গে স্পেনের দ্বন্দ্বটা ঐতিহাসিক। স্বাধীনতার দাবিতে বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রাম আর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কাতালুনিয়ার জনগন।

রাজধানী বার্সেলোনার নামে বিখ্যাত ফুটবল ক্লাবে খেলছেন মেসি-সুয়ারসেদের মত তারকারা। কিন্তু স্পেনের রাজনৈতিকে সমস্যা নিয়ে পিকের বক্তব্য মোটেও মেনে নিতে পারছেন না আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর! কিন্তু ঘটনাটি কী ঘটেছে?

চলতি মাসের প্রথম দিনটিতে স্বাধীনতার দাবিতে গণভোটের আয়োজন করেছিল কাতালানরা। কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর নির্যাতন আর ধরপাকড়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল।  লাস পালামাসের বিপক্ষে ওইদিনের ম্যাচে খালি করে ফেলা হয়েছিল ক্যাম্প ন্যু এর ৯৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যালারি। সেটা ছিল লা লিগার ম্যাচ। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অলিম্পিয়াকোসের বিরুদ্ধে নামছে বার্সেলোনা।

কিন্তু এই ম্যাচে নামার আগে হঠাৎ করে বিতর্কের ছায়া বার্সা ড্রেসিংরুমে। শোনা যাচ্ছে, কাতালুনিয়া নিয়ে জেরার পিকের রাজনৈতিক বক্তব্যতে খুব একটা খুশি নন মেসি। আর্জেন্তাইন মহাতারকা নাকি চান, ফুটবলররা এখন পুরোপুরি ফুটবলেই মনঃসংযোগ করুক।

পিকেকে যে ব্যাপারটা তিনি নাকি বলেও দিয়েছেন। মেসি চান, রাজনৈতিক ব্যাপারে মাথা না গলিয়ে পিকে যেন খেলাটায় মন দেন।

সমস্যার শুরু, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে লা লিগা ম্যাচের শেষে। যে ম্যাচ লুইস সুয়ারেজের গোলে ড্র করে বার্সা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর, এর পরে নাকি পিকের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন মেসি।  পিকেকে নাকি তিনি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, রাজনৈতিক ব্যাপারে বেশি মাথা না ঘামিয়ে মন দিয়ে খেলতে।

স্প্যানিশ এক টিভি সাংবাদিক বলেছেন, 'মেসি ভয় পাচ্ছিল, এই সব রাজনৈতিক ঘটনা ফুটবলকে প্রভাবিত করতে পারে। আগের ম্যাচে আতলেতিকোর সঙ্গে ড্র করায় মেসির আশঙ্কা সত্যি বলে প্রমাণিত হয়। এর পর ড্রেসিংরুমে মেসি সোজা পিকেকে ডেকে বলে দেয়, রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে। '

এই অবস্থায় বার্সার সামনে এখন গ্রিক ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের চ্যালেঞ্জ। যে ম্যাচে অবশ্য ফেভারিট বার্সেলোনাই। এই ম্যাচে 'চেনা শত্রু'কে সামনে পাচ্ছে বার্সেলোনা। বার্সা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে বছর পাঁচেক আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ছ’টি ম্যাচের জন্য কোচিং করিয়েছিলেন অলিম্পিয়াকোসকে। যেখানে তিনি তিনটে ম্যাচ জিতেছিলেন, তিনটে হেরেছিলেন। এ বার সেই চেনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে বার্সা কোচ বলেছেন, 'আমার কাছে ম্যাচটা খুব আবেগের হতে চলেছে। আসলে এই অলিম্পিয়াকোস দলটার সঙ্গে যুক্ত অনেককেই আমি খুব ভাল করে চিনি। '

বার্সেলোনা এখনও পর্যন্ত এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোনও গোল খায়নি। এর আগে ২০০৮ সালে টানা চার ম্যাচে গোল না খাওয়ার রেকর্ড আছে বার্সার। সেই রেকর্ড ভাঙে কি না, এখন সেটাই দেখার।


মন্তব্য