kalerkantho


হতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটার; এখন ট্রেনের সিগন্যাল ম্যান!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৩:১৫



হতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটার; এখন ট্রেনের সিগন্যাল ম্যান!

চেহারা বড়সড় বলে একসময় তার নাম ছিল 'জায়ান্ট'। ২২ গজে দেখাতেন অল-রাউন্ড নৈপূণ্য।

এখন যেমন অফস্টাম্পের বাইরে পড়া বল হুইপ শটে  যখন মিড উইকেট বা স্কয়ার লেগ বাউন্ডারিতে ফেলে দেন বিরাট কোহলি; সেটা দেখে অনেকে অবাক হলেও তিনি নির্লিপ্ত থাকেন। ক্রিকেট বিশ্বের কাছে নতুন হলেও তিনি যে ৮ বছর আগেই কোহলির এই অস্ত্রের সন্ধান পেয়ে গিয়েছিলেন! সেই হারিয়ে যাওয়া ক্রিকেটারের নাম শুভজিৎ চক্রবর্তী।  

শুভজিৎকে কলকাতার ঘরোয়া ক্রিকেটে মনে রেখেছে কোহলি কোহলির ঘাতক হিসাবে। ২০০৯ সালে ইডেনে পি সেন ট্রফির ফাইনালে তার বলেই থেমেছিল কোহলি তাণ্ডব! ১২১ বলে ১৮৪ রানে আউট হয়েছিলেন কোহলি।

কোহলি যখন বিশ্বক্রিকেটের মধ্যমণি, শুভজিৎ তখন বাইশ গজ থেকে অনেক দূরে। রেলের চাকরি নিয়ে ব্যস্ত। ওই দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'পি সেন ট্রফির সেই ফাইনালে আমাদের টাউন ক্লাবের বিরুদ্ধে কী ব্যাটিংটাই না করেছিল মোহনবাগানের হয়ে খেলা কোহলি! একটা শট এখনও চোখে লেগে আছে। ওকে স্টেপ আউট করতে দেখে শর্ট বল করেছিলাম। ও মুহূর্তের মধ্যে শরীরের ওজন পিছনের পায়ে নিয়ে গিয়ে কভারের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরে দিয়েছিল।

অফস্পিনারের বল এভাবে খেলা দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম, এ ছেলে ক্রিকেটে রাজত্ব করতে এসেছে। ওর হুইপ শটও সেই ম্যাচেই দেখেছিলাম। '

চেতলায় মামার বাড়িতে অরূপ ভট্টাচার্য ও লোপামুদ্রা ভট্টাচার্যের কাছে ক্রিকেটে হাতেখড়ি শুভজিতের। শৈশবের সেই অ্যাকাডেমিতে ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর হিসাবে তিনি পেয়েছিলেন সঞ্জয় সেনকে। যিনি আই লিগে মোহনবাগানের কোচ। তারপর ক্যালকাটা ক্রিকেট কোচিং সেন্টারে গোপাল বসুর কাছে প্রশিক্ষণ। শুভজিৎ বলছেন, 'গোপাল স্যার কোহলিদের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের ম্যানেজার ছিলেন। স্যারের মুখেই প্রথম কোহলির কথা শুনেছিলাম। '

শুভজিৎ এখন ওপার বাংলার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের কর্মী। এখন পাঁশকুড়ার ইস্ট আউটারে ট্রেনের সিগন্যাল পদ্ধতির দেখাশোনা করেন শুভজিৎ। ভোর ৪.৪০ এর বাস ধরে হাওড়া। সেখান থেকে মেদিনীপুর লোকালে চেপে পাঁশকুড়া। বাড়ি ফিরতে রাত আটটা বেজে যায়। ক্রিকেট থেকে এত দূরে সরে থাকতে আক্ষেপ হয় তার।

একরাশ হতাশা নিয়ে শুভজিৎ বলেন, 'খুব মন খারাপ হয়। ২০১১ সাল থেকে চাকরি করছি। ২০১৫-১৬ মরসুমে শেষবার বিএনআরের হয়ে খেলেছি। এখন খেলা দেখতে যাই। তবে অফিসের ম্যাচ ছাড়া আর সেভাবে মাঠে নামা হয় না। তবে ভবিষ্যতে বাচ্চাদের কোচিং করাতে চাই। এটাই এখন আমার স্বপ্ন। '

-এবেলা


মন্তব্য