kalerkantho


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

সেই অস্থির ৪০ মিনিট; সেই বেদনাময় ট্র্যাজেডি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ আগস্ট, ২০১৭ ১৩:৫২



সেই অস্থির ৪০ মিনিট; সেই বেদনাময় ট্র্যাজেডি!

ছবি: এএফপি, কোলাজ: কালের কণ্ঠ

সম্রাটের বিদায়লগ্ন সবসময় বিজয়ে শেষ হয় না। নির্মম পরিহাস করে ভাগ্য।

লন্ডনে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের আসরে ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়ে ভাগ্য এভাবেই পরিহাস করল জ্যামাইকান কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের সঙ্গে। রেসের মাঝপথে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন ট্র্যাকের রাজা। এই ঘটনার জন্য টুর্নামেন্টের ব্যবস্থাপকদের দায়ী করেছেন জ্যামাইকা রিলে দলের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, দৌড়ের আগে ঠাণ্ডা ঘরে ৪০ মিনিট বসিয়ে রাখার ফলে বোল্টের ঠাণ্ডা লেগে গিয়েছিলো।

লন্ডনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ৪০০ মিটার রিলে রেস ছিল জ্যামাইকার এই দৌড়বিদের ক্যারিয়ারের বিদায়ী রেস। শেষ লেগে দৌড় শুরু করার কিছুক্ষণ পর পেশিতে টান ধরায় মাঝপথে হুমকি খেয়ে পড়েন ইউসেন বোল্ট। বিদায়ী রেসে বোল্টের মত একজন অবিসংবাদী কিংবদন্তির স্প্রিন্টারের এই ধরনের দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক প্রস্থানে তার ভক্তদের সাথে সাথে সতীর্থরাও আবেগ-তাড়িত হয়ে পড়েন।

বোল্টের সতীর্থ দৌড়বিদ ইউহান ব্লেক এই পরিণতির জন্য আয়োজকদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, রেস শুরু হতে দশ মিনিট দেরি করা হয়েছে।

একটি ঠাণ্ডা ঘরে প্রতিযোগীদের ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছে। ব্লেক বলেন, "আমরা ওয়ার্মিং আপ করার পর অপেক্ষা করছিলাম। দেরি দেখে আবার ওয়ার্মিং আপ করছিলাম। "

২০১১ সালে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে ১০০ মিটারে সোনা জেতা ইউহান ব্লেক অভিযোগ করেছেন, এরকম অপেক্ষায় শনিবার রাতে তারা তাদের সেরাটা দিতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, "একবারে পাগলামি ছিল। উসাইনের ঠাণ্ডা লাগছিলো। তিনি আমাকে বলেছিলেন - ইউহান এটা কী ধরনের পাগলামি। একটি রেসের আগে ৪০ মিনিট অপেক্ষা ...। "

বোল্টের আরেক সতীর্থ ওমর ম্যাকলোডও রেসের আগে ৪০ মিনিট অপেক্ষা নিয়ে ক্ষোভ বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। "হাস্যকর এবং বিরক্তিকর। এতটা সময় অপেক্ষা! আমি তার ভেতর দুই বোতল পানি খেয়েছি। "

জ্যামাইকান রিলে দলের এই সব অভিযোগ সম্পর্কে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। উসাইন বোল্টকে সর্বকালের সেরা দৌড়বিদ হিসাবে দেখা হয়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তার মোট ১১টি সোনার পদক রয়েছে।

তার শেষ প্রতিযোগিতায় একটি সোনা নিয়ে বিদায় নিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১০০ মিটারে কোনোরকমে ব্রোঞ্জ পান। আর ৪০০ মিটার রিলেতে দৌড় শেষ না করতে পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়া এবং খোঁড়াতে খোঁড়াতে বেরিয়ে যাওয়ার এই ঘটনা হয়তো তার বাকি জীবনের দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে। তবে জ্যামাইকান বজ্রবিদ্যুৎ কিংবদন্তি হয়েই থাকবেন ইতিহাসের পাতায়।


মন্তব্য