kalerkantho


আজ মনে পড়ে মানজারুল রানাকে…

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ১৪:২২



আজ মনে পড়ে মানজারুল রানাকে…

বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের সূচনাকালীন সময়ের যাত্রী ছিলেন তিনি। দল থেকে বাদ পড়েছিলেন ২০০৬ সালে। কারণ তখন বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবির্ভাব ঘটেছিল সাকিব আল হাসানের। অফ ফর্মে থাকা মানজারুল ইসলাম রানা অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে থাকার লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে যান। তাই ওই বছরের মার্চে ফতুল্লায় অনুষ্ঠিত কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিই তার জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। জাতীয় দলে ফেরার জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন। একসময় হয়তো ফিরতেন। কিন্তু তার আগেই ২০০৭ সালের ১৬ মার্চ সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তার জীবন প্রদীপ।

মাত্র ২২ বছর বেঁচে ছিলেন রানা। ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার। তখন হাবিবুল বাশারের বাংলাদেশে তারকার সমাহার।

আব্দুর রাজ্জাক, সৈয়দ রাসেল, মোহাম্মদ আশরাফুলরা তখন দেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। আরও একজন ছিলেন তখন; যার ডাক নাম ছিল কৌশিক! মানজারুল ইসলাম রানার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। কৌশিকের সঙ্গে দুষ্টামির প্রতিযোগিতা চলতে রানার। দুজন মিলে মাতিয়ে রাখতেন ড্রেসিংরুম কিংবা প্র্যাকটিস সেশন। সে দিনের সেই কৌশিক আজ বাংলাদেশ জাতীয় ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। আর রানার ক্যারিয়ার থেমে গেছে ৬ টেস্ট আর ২৫ ওয়ানডেতে। রানা-রাসেল-মাশরাফি এই থ্রি স্টুডেজের মধ্যে একমাত্র মাশরাফিই এখন জাতীয় দলে খেলছেন।

বাদ তো অনেকেই পড়েন। আবার ফিরেও আসেন। দল থেকে বাদ পড়া মানেই তো ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়া নয়। রানার কিন্তু আর ফেরা হলো না। চিরতরে হারিয়ে গেলেন তিনি। রানার মৃত্যুদিনে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শততম টেস্টে লড়ছে বাংলাদেশ। রানার মৃত্যুবার্ষিকীর আশপাশে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ থাকলে তার নাম দেওয়া হয় 'রানার জন্য ম্যাচ'। একটি কাকতালীয় ব্যাপার হলো, এখন পর্যন্ত কোনো 'রানার জন্য ম্যাচ' হারেনি বাংলাদেশ! সতীর্থের মৃত্যুবার্ষিকীতে যেন নতুন উদ্যম ফিরে পায় টাইগাররা। বন্ধুর অকাল মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করতে পারে টাইগাররা। বন্ধু রানাকে যেমন কোনোদিন ভুলতে পারবেন না রাসেল, রাজ্জাক, মাশরাফিরা; তেমনি বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনও কোনোদিন ভুলবে না এই অকালপ্রয়াত প্রতিভাবান তারকাকে।


মন্তব্য