kalerkantho


সমস্যার নাম 'দ্বিতীয় ইনিংস'

সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল   

১১ মার্চ, ২০১৭ ১৭:১৩



সমস্যার নাম 'দ্বিতীয় ইনিংস'

ওয়েলিংটন, ক্রাইস্টচার্চ, হায়দরাবাদ এবং সর্বশেষ গল টেস্টের দিকে তাকালে বাংলাদেশের একটি কমন সমস্যা কী ধরা পড়ে। আর সেটি হলো ‘দ্বিতীয় ইনিংস’।

৫ দিনের টেস্ট ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা যে কোনো দলের জন্যই কঠিন। এজন্য প্রথম ইনিংসে অনেক হিসাব নিকাশও করতে হয়। তবুও বিশ্বের অনেক দল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে টেস্ট সিরিজ জিতে যায়। নিদেনপক্ষে উইকেট ধরে রেখে ড্র করে ম্যাচ। কিন্তু বাংলাদেশ টেস্ট দলে এ দুটির কোনোটিই লক্ষ্য করা যায় না। দ্বিতীয় ইনিংসে হঠাৎ করেই ধস নামে ব্যাটিংয়ে। এ ধস এমনই হয়; আর সামলানো যায় না।

সর্বশেষ গল টেস্ট তার প্রমাণ। টেস্টের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগে।

তাতে ২৫৯ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হলো টাইগাররা। কিন্তু ম্যাচটির ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। বিনা উইকেটে ৬৭ রান তুলে যে দাপট দেখাচ্ছিলেন তামিম-সৌম্য, সেটা আজ দিনের দ্বিতীয় বলেই মিইয়ে গেল। শুরু হলো একের পর এক উইকেট পতন। ৩৭ রানের মধ্যে ৫ উইকেট নেই বাংলাদেশের। ১৯৭ রানে ১০ উইকেট শেষ! কিন্তু ম্যাচ শেষে খোদ মুশফিকই বললেন, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ততটা ভয়াবহ ছিল না।

এর আগে হায়দরাবাদ টেস্টে ভারতের দেওয়া ৪৫৯ রানের পাহাড়সম টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫০ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। যদিও প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন মুশফিক; বাংলাদেশ করেছিল ৩৮৮ রান। বহুদিন পর ৬৪ রানের একটি মাঝারি ইনিংস খেলেন মাহমুদ উল্লাহ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটন টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করল ৫৯৫ রান। ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকালেন সাকিব; দেড়শতাধিক রান করলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ৫৭ রানের ছোট লিড নেওয়ার পরও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট! প্রায় জিতে যাওয়া ম্যাচ ছিনিয়ে নিল কিউইরা!

শর্ট বলে বিধ্বস্ত দ্বিতীয় তথা ক্রাইস্টচার্চ টেস্টেও কম নাটক হয়নি। ইনজুরি আর আঘাতের অজুহাতের পরও একটা কথা থেকে যায়। আর তা হলো, প্রথম ইনিংসে ২৮৯ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৩ রানে অলআউট হওয়া। পেশাদার ক্রিকেট খেলতে হলে সব ধরণের উইকেট এবং সব ধরণের বোলারদের মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে-এটা খুব পুরনো কথা। আমরা বেশি টেস্ট খেলতে পারি না এটাও অনভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে একটা বড় কারণ। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে আগামী ১৫ মার্চ আমরা শততম টেস্ট খেলতে নামছি। ৯৯টি টেস্ট খেলে আমরা জিতেছি মাত্র ৮টি তে।  শেষে আরও একটি পুরনো কথা বলা যেতে পারে; আর কতদিন শুধু স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে আমরা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলব?


মন্তব্য