kalerkantho


টেস্ট হারের দায় চাপল পিচ কিউরেটরের ওপর!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:২৪



টেস্ট হারের দায় চাপল পিচ কিউরেটরের ওপর!

পুনের উইকেট বরাবর ব্যাটসম্যানদের স্বর্গ হিসেবে পরিচিত। এই প্রথম টেস্ট ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর সাবেক পেসার পান্ডুরাং সালগাঁওকরকে কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভারত যখন প্রায় সাড়ে চার বছর পর দেশের মাটিতে টেস্ট হারল তখন এমন উইকেটের জন্য বিসিসিআই নিযুক্ত টিভি ভাষ্যকারদের অধিকাংশই আঙুল তুললেন সালগাঁওকরের দিকে।  ম্যাচ হারের দায় চাপানো হলো বেচারা কিউরেটরের ওপর।

আসল ব্যাপার হলো, সালগাঁওকর কেবলমাত্র ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশনা পালন করেছেন। কিন্তু টিভিতে সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেবসহ ধারাভাষ্যকারদের কেউই উইকেট কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুলে বোর্ড বা টিম ম্যানেজমেন্টের রোষে পড়তে চান নি। তাই সহজ উপায় হল, সালগাঁওকরের সমালোচনা করা। কিন্ত্ত সালগাঁওকরই যদি সব করে থাকেন, ম্যাচের দুদিন আগে কেন উড়ে এসেছিলেন বোর্ডের পিচ কমিটির প্রধান দলজিত্ সিং এবং পশ্চিমাঞ্চলের ধীরাজ পারসানা? উইকেটে একেবারে পানি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্ট জানত না? এসব বিষয়ে এখন প্রশ্ন তুলছে ভারতীয় মিডিয়া।

এমন ঘূর্ণি উইকেট বানানোর ক্ষেত্রে টিম ম্যানেজমেন্টের সমর্থন নেই একথা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। এখন কেউ মুখ না খুললেও টিম চেয়েছিল বলেই এমন ডিজাইনার পিচ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকেই নেওয়া হয় এমন সিদ্ধান্ত।

সঙ্গে ছিল টানা ১৯টি ম্যাচে অপরাজিত থাকার আত্মতুষ্টি।  এর আগেও এই অবস্থায় পড়েছিল ভারত। ২০১২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যখন মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে এমন ঘূর্ণি বানিয়েই ডুবে গিয়েছিল ধোনির ভারত। কেভিন পিটারসেনের সেঞ্চুরি আর তার পরে মন্টি পানেসর আর গ্রেম সোয়ান মিলে শেষ করে দিয়েছিলেন ভারতকে।

ভারতের সংবাদমাধ্যমে এই স্বীকারোক্তি এসেছে যে, স্পিন খেলার ক্ষেত্রে অজিদের অনভিজ্ঞতা এবং দুই স্পিনার নাথান লিয়ঁ এবং স্টিভ ওকেফিকে একেবারেই গুরুত্ব না দেওয়ার খেসারত দিতে হলো কোহলিদের। তবে ২০১৫ সালের শেষে নাগপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে এই ধরণের ঘূর্ণি উইকেট করে ম্যাচ জিতেছিল ভারত। তখন আইসিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে। কিন্তু আবারও সেই পথেই হাঁটল ভারত। নিজেদের পাতা ফাঁদে নিজেরাই ধরা পড়ল। অখ্যাত বোলার ওকেফির ঘূর্ণিতে টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর থামল ভারত।


মন্তব্য