kalerkantho


বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট

টেস্ট ম্যাচকেও উত্তেজনার জোয়ারে ভাসাল বাংলাদেশ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:০৯



টেস্ট ম্যাচকেও উত্তেজনার জোয়ারে ভাসাল বাংলাদেশ!

মূলত মুশফিক আউট হয়ে যাওয়ার পর পঞ্চম দিনে ম্যাচ বাঁচানোর আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু আসলেই কি শেষ হয়েছিল? ফর্মহীনতায় ভুগতে থাকা রিয়াদ, প্রথম ইনিংসে দারুণ খেলা মেহেদী মিরাজ এমনকী কামরুল ইসলাম রাব্বিরা পর্যন্ত ক্ষণে ক্ষণে জানান দিচ্ছিলেন লড়াইয়ের।

উত্তেজনায় কাঁপছিলেন দর্শকরা। গ্যালারিতে থাকা ২৫ হাজারের মত দর্শক চিৎকার করে সমর্থন দিচ্ছিলেন প্রিয় দলকে। বাংলাদেশি ক্রিকেটারাও কিন্তু দর্শকদের তালি পেয়েছেন। কে বলবে এটা একটা টেস্ট ম্যাচ?

হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম ভারতের ম্যাচটি একটি উত্তেজনপূর্ণ টেস্ট ম্যাচের সাক্ষী হয়ে রইল। বাংলাদেশের আগে নিকট অতীতে ভারত সফরে এসেছিল টেস্টের ৫ নম্বর দল নিউজিল্যান্ড এবং ৪ নম্বর দল ইংল্যান্ড। উভয় দলই নাকানি চুবানি খেয়ে ফিরেছে। ইংল্যান্ড ৫ ম্যাচের প্রথমটি ড্র করে ইজ্জত বাঁচালেও নিউজিল্যান্ড হোয়াইটওয়াশ হয়েই ফিরে গেছে বিশ্বের ১ নম্বর টেস্ট দলের বিপক্ষে। সেদিক দিয়ে টেস্টের ৯ নম্বর দল এতটা ফাইট দেবে তা হয়তো আশা করেনি ভারতও!

বাংলাদেশের ইনিংসের পরতে পরতে ছিল ভুল আর ভুল। যার জন্য কেবল খেলোয়াড়দের দায়ী করলে হবে না, এর পেছনে বেশি সংখ্যক টেস্ট খেলতে না পারার অভ্যাসও দায়ী।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দুটি টেস্ট ইনিংস ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। বাংলাদেশকেও তারা ইচ্ছে করলে ফলো-অন করাতে পারত। না করানোর পেছনে তারা একটা ব্যখ্যাও দিয়েছে যে, ক্রিকেটারদের বিশ্রামের জন্যই নাকি এমন সিদ্ধান্ত। কোনো দল ফলো-অন করালে তাদের পুনরায় ফিল্ডিংয়ে নামতে হবে এটা তো নতুন কিছু নয়। যাই হোক, টেস্ট ক্রিকেটের ১ নম্বর দলের যুক্তিটা তো আর ফেলে দেওয়া যায় না।

ম্যাচটি ওপার বাংলার ইডেন গার্ডেনে নয়, হয়েছে হায়দরাবাদে। ভাষাগত কারণে বাংলাদেশ-ভারত হালের ক্রিকেট লড়াইয়ের অনেক খবরই হয়তো সেখানে পৌঁছে না। দর্শকের অভাবে, উত্তেজনার অভাবে যখন টেস্ট ক্রিকেটকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে, তখন হায়দরাবাদের এই ম্যাচ ক্রিকেটের এই আদি সংস্করণের হয়ে কথা বলল। মাঠভর্তি দর্শক আর বিরামহীন হর্ষধ্বনির মাঝে পুরো ৫ দিন কাটল রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে। এতে বাংলাদেশের অবদানকে নিশ্চয়ই কেউ ছোট করে দেখবে না। সেইসঙ্গে টিভির সামনে বসে যারা ম্যাচটি দেখেছেন, তারাও কিন্তু কম উত্তেজনায় ভুগেননি!


মন্তব্য