kalerkantho


প্রস্তুতি ম্যাচে হতাশাই সঙ্গী হলো বাংলাদেশের!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:৪৩



প্রস্তুতি ম্যাচে হতাশাই সঙ্গী হলো বাংলাদেশের!

এটা ছিল নিছকই একটা প্রস্তুতি ম্যাচ। এই ম্যাচ দিয়ে কোনো দলকে বিচার করা যায়না। দুই দিনের এই ম্যাচে দর্শক ছিল কিছুসংখ্যক। সৌম্যর ইনিংসটুকু বাদ দিয়ে প্রথম দিনের ব্যাটিং দেখে তাদের ঘুমিয়ে পড়া ছাড়া আর উপায় ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয় দিনেই বদলে যায় দৃশ্যপট। বাংলাদেশি বোলারদের তুলোধুনো করেন ভারতের তৃতীয় সারির ক্রিকেটাররা। সেঞ্চুরি করেন তিনজন। একজন তো টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট চালালেন। ম্যাচ ড্র না হওয়ার কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কী পেল বাংলাদেশ?

যথারীতি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেননি সাকিব আল হাসান। এরপরও ম্যাচটি একপেশে হওয়া উচিত ছিল।

একপেশে হলো বটে, তবে তা ভারতীয় 'এ' দলের পক্ষে গেল। পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ জাতীয় দলকে দেখে মনে হলো পাড়ার ক্রিকেট দল। সৌম্য সরকার ছাড়া কেউ চড়াও হতে পারেনি এ দলের বোলারদের ওপর। সৌম্য আর অধিনায়ক মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরি দলের মান বাঁচাল। কারণ, প্রতিপক্ষে আছে ৩ সেঞ্চুরিয়ান!

বাউন্সি উইকেটের দোহাই দেওয়ার সুযোগ ছিল প্রথম দিন। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে ভারতীয় এ দল যেভাবে ব্যাট চালাল তাতে সেই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ আর নেই। ১৪৮ বলে ১১ চার ১ ছক্কায় ১০৩ রান করে অবসর নিলেন পাঞ্চাল। এরপর ৯২ বলে ১২ চার এবং ৪ ছক্কায় ১০০ পূরণ করে শ্রেয়াস আইয়ার ও অবসরে গেলেন। এরপর শুভাশিস আর তাইজুল কয়েকটি উইকেট তুলে নিলেও বিন্দুমাত্র লাভ হলো না। টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাটিং তাণ্ডব চালিয়ে সেঞ্চুরি হাঁকালেন ৮ নম্বর ব্যাটসম্যান বিজয় শংকর। বাংলাদেশি বোলাররা তার কাছে পাত্তাই পেল না! মাত্র ৮১ বলে ১৪ চার এবং ৩ ছক্কায় ১০৩* রান করে বাংলাদেশি বোলারদের রীতিমতো নির্যাতন করলেন বিজয়। এছাড়া ৮৫ বলে ৬৬ রানের এই ইনিংস উপহার দিলেন নীতিন শাইনি।

প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে নিতে ৮ বোলারকে ব্যবহার করলেন মুশফিক। সবচেয়ে বেশি মার খেলেন তাইজুল ইসলাম। ২৮ ওভার বল করে ১৪১ রান দিয়ে নিলেন ৩ উইকেট। সে তুলনায় শুভাশিস ১৬ ওভারে সমান সংখ্যক উইকেট নিলেন ৫৭ রান খরচায়। পরিণামে ভারতীয় এ দলের স্কোর দাঁড়াল ৮ উইকটে ৪৬১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ঐটুকু সময়ের মধ্যে ২ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ইমরুলের জায়গায় ওপেন করতে নামা সৌম্য এদিন ২৫ রান করে আউট হলেন। মমিনুল তো ক্রিজে এসে প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন।

প্রথমেই বলেছি, এটা শুধু একটা প্রস্তুতি ম্যাচ। এই ম্যাচ দিয়ে কোনো দলকে বিচার করা সম্ভব না। তবে টাইগারদের পারফর্মেন্সের ইঙ্গিতটা মোটেও ইতিবাচক নয়। ভারত হলো বিশ্বের সবচেয়ে দুধর্ষ ব্যাটিং লাইনআপ সমৃদ্ধ দল। বল হাতে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনরা। টেস্টের এক নম্বর দলের বিপক্ষে খেলতে হলে চরম পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে। এর বিকল্প নেই। প্রস্তুতি ম্যাচে সেই পেশাদারিত্বের সুবাস ছড়াতে পারলে ৯ ফেব্রুয়ারি আসল পরীক্ষায় নামার আগে নিজেদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে নিতে পারত টাইগাররা।  


মন্তব্য