kalerkantho


নরওয়ে পাড়ির স্বপ্ন, ফুটবলে মজে চা-শ্রমিকদের মেয়েরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০১:৩৬



নরওয়ে পাড়ির স্বপ্ন, ফুটবলে মজে চা-শ্রমিকদের মেয়েরা

পায়ে ছেঁড়া চটি৷ কারও আবার খালি পা৷ মলিন জামা৷ ঘরে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়৷ কিন্তু তাতে কী! ওদের দু’চোখে এখন স্বপ্ন নরওয়ে পাড়ি দেওয়ার৷ আর সেই স্বপ্ন স্বার্থক করতেই চা বাগানের মাঠে বল পায়ে ঘাম ঝরাচ্ছে মুন্ডা, উমা নায়েক, রেশমি মুন্ডা, সাকিনতা লাকড়ার মতো কিশোরীরা৷ প্রত্যেকেই চা শ্রমিকের মেয়ে৷ কিন্তু ফুটবলে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতেই ওদের এখন ‘পাখির চোখ’ হোমলেস ওয়ার্ল্ডকাপ৷ নরওয়েতে যা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে চলতি বছরের আগস্টে৷ কিন্তু তার আগে উমা-রেশমিদের পেরতে হবে বেশ কয়েকটি ধাপ৷ সেই লড়াই জিততেই এখন মরিয়া ওরা৷ আগামী সপ্তাহেই মুম্বাইয়ের পূর্ব আন্ধেরীতে সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ছেলেমেয়েদের নিয়ে বসতে চলেছে জাতীয় ফুটবলের আসর৷ সেখানে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তৈরি হবে চূড়ান্ত টিম৷ যারা ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে ওই হোমলেস ওয়ার্ল্ডকাপে৷

ডুয়ার্সের নাগরাকাটা, বানারহাট, জয়পুরের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানেও মেয়েদের ফুটবলের কোচিং চলছে জোরকদমে৷ আয়োজক জলপাইগুড়ি ‘খেলদুয়ার’ নামে একটি সংস্থা৷ এই কোচিং ক্যাম্প থেকেই বেছে নেয়া হচ্ছে প্রতিভাবানদের৷ উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, চা বাগানের মেয়েদের স্কিল ডেভলপমেন্টের পাশাপাশি খেলাধুলোর মাধ্যমে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোটাই মূল লক্ষ্য৷ সেক্ষেত্রে স্কুলছুটের সংখ্যাও কমবে৷ তাঁদের দাবি, চা বাগানে অনেক মেয়ে রয়েছে, যারা শুধু ফুটবল কেন, অনেক খেলাতেই বিশেষ পারদর্শী৷ কিন্তু উপযুক্ত প্রশিক্ষণ আর প্ল্যাটফর্মের অভাবে তারা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারে না৷ ফলে তাদের জন্য এটা একটা বড় সুযোগ৷

জলপাইগুড়ি খেলদুয়ার সংস্থার কর্মকর্তা শুভাশিস ঘোষ বলেছেন, মুম্বাইয়ে জাতীয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে চারটি চা বাগান থেকে চারজন করে মেয়েকে বাছাই করা হয়েছে৷ সেখানেই ঠিক হবে চূড়ান্ত টিমে কারা থাকবে৷ তবে এই উদ্যোগ সারা বছর চালিয়ে যেতে চান তাঁরা৷ চা বাগানের মেয়েদের ফুটবলও দেওয়া হয়েছে৷ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের ম্যানেজার জীবনচন্দ্র পান্ডে৷ খুশি প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

। ।

মন্তব্য