kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শেষে কঠিন বাস্তবতারই সামনে বাংলাদেশ

খাইরুল আমিন তুহিন   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:৩৭



শেষে কঠিন বাস্তবতারই সামনে বাংলাদেশ

২০০৯ সালে ক্যারিবিয়ায় অনেকটা ভাঙাচোরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৫ রানের টার্গেট তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। এই রেকর্ডটা সামনে চলে আসছে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের অবস্থানের কারণে।

শনিবার তৃতীয় দিন শেষে ইংল্যান্ডের লিড ২৭৩ রানের। তার মানে চতুর্থ দিনের সকালে তারা ব্যাট করতে না নামলেও রেকর্ড গড়ে জেতার কথা ভাবতে হবে স্বাগতিকদের। চতুর্থ ইনিংসে ক্ষয়ে যাওয়া উইকেটে প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি এক ব্যাপার!

এদিন শেষ বিকেলে সাকিব আল হাসান আরেকবার জ্বলে না উঠলে দিনের শেষে বাংলাদেশের আক্ষেপটা আরো বেশি হতো। সকালে সাকিব মাত্র দ্বিতীয় বলে ডাউন দ্য উইকেট গিয়ে নিজের উইকেটটাই ছুড়ে দিয়ে এসেছেন। তারপর বিস্ময়কর পতন বাংলাদেশের। ২৭ রানে শেষ ৫ উইকেট নেই। ২৪৮ রানে শেষ প্রথম ইনিংস। দুই অভিষিক্ত সাব্বির রহমান (১৯) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (১) ম্রিয়মান। সামান্য কিছু লিড থাকলেও ইংলিশদের ওপর চাপ থাকতো আরো। কিন্তু তা আর হলো কই!

ব্যাট হাতে আরো বড় দায়িত্ব পালন করতে না পারার আক্ষেপ বল হাতে ঘুঁচানোর চেষ্টা ছিল সাকিবের। ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার ধসিয়ে দিয়েছিলেন। নিচের দিকেও হেনেছেন আঘাত। ১৫তম বারের মতো তাতে ইনিংসে ৫ উইকেটের কীর্তি তার। শেষ দুই আঘাতে ইংলিশদের শেষের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ২২৮ রান ইংল্যান্ডের। ক্রিস ওকস (১১) ও স্টুয়ার্ট ব্রড (১০) আছেন। উইকেটের যে অবস্থা তাতে রবিবার বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কঠিনতম পরীক্ষা দিতে হবে। বাস্তবতাটা এমনই।

ইংলিশরা প্রথম সেশনেই ব্যাট হাতে নামলো। বিনা উইকেটে ২৬ থেকে দেখতে না দেখতে তারা ৩ উইকেটে ২৮ রানের দল! ১১.২ ওভারেই। আগের ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ এদিনও হামলা শুরু করেন। ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক (১২) তার শিকার। পরের দুই ওভারে সাকিব সাজঘরে পাঠান জো রুট (১) ও বেন ডাকেটকে (১৫)। কাঁপতে কাঁপতে লাঞ্চে যায় ইংলিশরা।

ফিরে এসে আরো বিপদে তারা। নতুন বলে যুগলবন্দী ছিল মেহেদী-সাকিবের। লাঞ্চের পর ইনিংসে নিজের দ্বিতীয় বলেই আঘাত তাইজুল ইসলামের। বাঁ হাতি স্পিনার ফেরান গ্যারি ব্যালান্সকে (৯)। প্রথম ইনিংসের দেওয়াল মঈন আলীকে (১৪) সস্তায় শিকার করেন সাকিব। ইংলিশদের বিপদে ফেলে ঘুর্ণীর নেশায় মাতে বাংলাদেশ।

কিন্তু ইংল্যান্ডের লোয়ার অর্ডারেও প্রবল শক্তি। বেন স্টোকস (৮৫) ও জনি বেয়ারস্টো (৪৭) রুখে দাঁড়ান। আরেকটি ধাক্কায় সত্যিকারের লোয়ার অর্ডার বেরিয়ে যায়। কিন্তু এই দুই ব্যাটসম্যান চার বিরতিতে গেলেন ৫ উইকেটে ১০৮ রান নিয়ে। ফিরে আরো ঘণ্টা খানেক লড়লেন। তাতে ৩৪.৩ ওভারে ১২৭ রানের জুটির হতাশা তারা উপহার দিলেন প্রতিপক্ষকে। অভিষিক্ত কামরুল ইসলাম রাব্বি শেষে বেয়ারস্টোকে তুলে নিয়ে জুটি ভেঙে কিছুটা স্বস্তি ফেরান। এই প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কোনো পেসার নিলেন উইকেট। রাব্বির যা ক্যারিয়ারের প্রথম।

সর্বনাশ যা করার ততক্ষণে করে ফেলেছেন স্টোকস ও বেয়ারস্টো। তবে বেয়ারস্টোকে ফেরানোর ৮ রান পর জোড়া আঘাত হানেন সাকিব। প্রথমে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে পোড়ান স্টোকসকে; তারপর আদিল রশিদকে (৯) পাঠান ড্রেসিং রুমে। বাকি ৯.২ ওভারে এক ধাক্কায় ইংলিশদের খাঁদে ঠেলে ফেলা সম্ভব হয়নি। ৬২ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়েও বড় লিডে চাপা পড়ার আক্ষেপ নিয়েই দিন শেষ বাংলাদেশের। সবশেষে আশা ধরে রাখতে একটি ফুটনোট। বাংলাদেশের কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে ৪১৩ রান করার ইতিহাস আছে!


মন্তব্য