kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দিনটা তবু ভালোই গেল বাংলাদেশের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:২৯



দিনটা তবু ভালোই গেল বাংলাদেশের

তিনটা বিরতি। আর এই তিন বিরতিতে ৪ উইকেট।

লাঞ্চের ঠিক আগের ওভারে ২টি, চা বিরতির ঠিক আগের ওভারে ১টি। আর দিন শেষের ৩ ওভার আগে আরেকটি। নইলে যতোটা ভালো ভাবে দ্বিতীয় দিনটা শেষ করলো বাংলাদেশ, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার চেয়ে আরো ভালো অবস্থায় থাকতে পারতো তারা। তবু ১৫ মাস পর টেস্টে ফিরে ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রামে এই দিনটা নেহাত মন্দ কাটেনি। মুশফিকুর রহিমের দল এখন প্রথম ইনিংস ৭২ রানে পিছিয়ে। বাংলাদেশের লিড নেওয়ার ভাবনাও কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার নয় এখন। যদিও কাজটা কঠিন।

বাংলাদেশের স্পিনাররাই নিলেন ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ১০ উইকেটের সব। তাতে ২৯৩ রানে শেষ ইংলিশরা। জবাবে, ৫ উইকেটে ২২১ রানে দ্বিতীয় দিনটা শেষ করলো বাংলাদেশ। আক্ষেপ হয়ে রইল দিনের শেষ ভাগে মুশফিকের ৪৮ রানে আউট হয়ে যাওয়া। নইলে অবস্থানটাকে আরো শক্ত বলা যেত। মেহেদী হাসান মিরাজের ৬ এবং সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামের ২ উইকেটে ব্যাটসম্যানরা দারুণ কিছু করার প্রেরণা পেয়েছেন। ইংলিশদের বিপক্ষে বরাবর দুর্দান্ত তামিম ইকবাল ৭৮ রান করেছেন। ব্যাটসম্যানদের দিয়েছেন ভালো ব্যাটিংয়ের মন্ত্র। সাকিব (৩১) ও নাইটওয়াচম্যান শফিউল ইসলাম (০) তৃতীয় দিন শুরু করবেন। বাংলাদেশের ব্যাটিং গভীরতাও বেশ।   

স্পিনের জবাব স্পিন দিয়েই দিতে চেয়েছে ইংলিশরা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের টার্নিং উইকেটে অফ স্পিনার গ্যারেথ ব্যাটি নতুন বলে বল করলেন। এরপর দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণ শানান লেগি আদিল রশিদ ও অফি মঈন আলি। সাফল্যও আসে। অফ-স্পিনে জো রুটও দুই ওভার হাত ঘুরিয়ে যান। এদিন ইংলিশদের করা ৭৪ ওভারের ৫১ ওভারই তাই স্পিনারদের। তাদের শিকার ৪ উইকেট। কিন্তু ওখানে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের দিনমান লড়াইয়ের গল্পটাও স্পষ্ট।

তামিম ও ইমরুল কায়েস (২১) টেস্টে ভালো জুটি। ১৩ ওভার খেলে ফেলেছেন। মঈন প্রথম ওভার করতে এসেই ৪ বলের মধ্যে দুইবার আঘাত হানলেন। ইমরুল বোল্ড। ক্যাচ দিয়ে শূণ্য হাতে ফেরেন টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুল হক। কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৯ থেকে ২ উইকেটে ২৯ রানে লাঞ্চে বাংলাদশে।

মাহমুদ উল্লাহর সাথে তামিম দেওয়াল তোলেন ফিরে। রুখে দাঁড়ান। ৯০ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি ইংলিশদের হতাশ করে। মনে হল ২ উইকেটে ১১৯ রানে চা বিরতিতে যাবে টাইগাররা। এমন সময় আদিলের বলে ব্যক্তিগত ৩৮ রানে ক্যাচ দেন মাহমুদ উল্লাহ। ৩ উইকেটে ১১৯ রানে চা বিরতি। তামিম তখন ৫৫ রানে।

শেষ সেশনে এল ১০২ রান। উইকেট পড়লো দুটি। তামিম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ৪ টেস্টে ২টি সেঞ্চুরি ও ৪টি ফিফটি করেছেন। এবারো মনে হলো তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার পেরোবেন তার ঘরের মাঠে। কিন্তু হতে দেননি ব্যাটি। ১৭৯ বলে ৭ বাউন্ডারিতে শেষ তামিমের ইনিংস।

সাকিব এসে প্রাধান্য বিস্তার করেন। মুশফিক আরো সতর্ক। ফিফটির কাছে চলে যান তিনি। হয় ৫৮ রানের জুটি। কিন্তু শেষটায় এসে মুশফিকের ব্যাট ছুঁয়ে বেন স্টোকসের বলটা উইকেটকিপারের হাতে যায়। এই শেষ ধাক্কাটা বিরতির আগে বারবার ধাক্কা খাওয়ার বিষয়টাকে প্রতিষ্ঠিত করে যায়।      

এর আগে ১৩.৫ ওভার, ৩৫ রান, ৩ উইকেট। সংক্ষেপে এই হলো দ্বিতীয় দিনের সকালে ইংল্যান্ডের ইনিংসের শেষের পারফরম্যান্স। সেখানে পারফর্মার আসলে বাংলাদেশের দুই বোলার। বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও অভিষিক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ। তাইজুল আগের দিন উইকেট পাননি। আর এদিনের প্রথম বলেই ক্রিস ওকসকে (৩৬) শিকার করেছেন। কিছুক্ষণ পর আদিল রশিদকে (২৬) তাইজুলের বলে কভারে দারুণ ভাবে তালুবন্দী করলেন সাব্বির রহমান। ওকস ও আদিলের মিলে ১৯টি ফার্স্ট ক্লাস সেঞ্চুরি। তাদের রুখে তাই বড় উপকার করেছেন তাইজুল।

মেহেদী স্বপ্নের অভিষেকে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটালেন স্টুয়ার্ট ব্রডকে (১৩) তার ষষ্ঠ শিকার বানিয়ে। ৩৯.৫ ওভারে ৮০ রানে ৬ উইকেট। অভিষেকে দেশের দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার। তার চেয়ে বড় কথা মাত্র ১৮ বছর বয়সের বোলারের কি পরিণত বোলিং! মেহেদীদের সাফল্যকে পরে বৃথা যেতে দেননি ব্যাটসম্যানরা। টেস্টে আরেকটি দারুণ দিন কেটেছে বাংলাদেশের।  


মন্তব্য