kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুই হাতের ফাস্ট বোলার পাকিস্তানি ইয়াসির বিশ্বেরই বিস্ময়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:৩৫



দুই হাতের ফাস্ট বোলার পাকিস্তানি ইয়াসির বিশ্বেরই বিস্ময়!

এখনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি। কিন্তু দুই হাত সমান জোরে ফাস্ট বল করা ইয়াসির জান তো এক বিস্ময়েরই নাম! পাকিস্তানি দারুণ স্বতন্ত্র এই বোলারকে পিএসএলের একটি দল তাই ১০ বছরের চুক্তিতে বেঁধে ফেলেছে।

আর মুদি দোকানির ছেলে ২১ বছরের সব্যসাচী বোলার ইয়াসির পাকিস্তান জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছেন।

ডান হাতে ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার বা ৯০ মাইল গতিতে বল করেন ইয়াসির। বাঁ হাতে ১৩৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা তার গতি। পাকিস্তানের সবুজ ঘাস থেকে উঠে এসে কত কত বোলার যে বিস্ময় ছড়িয়েছেন। অনেকে হয়েছেন কিংবদন্তি। কিন্তু ইয়াসিরের মতো এমন দুই হাতে সমান আতঙ্ক ছড়ানো ফাস্ট বোলার পাকিস্তানে শুধু নয়, ক্রিকেট বিশ্বেও আগে দেখা যায়নি।  

সেপ্টেম্বরের এ রকম সময়ই আবির্ভাব ইয়াসিরের। পাকিস্তান সুপার লিগের দল লাহোর কালান্দার্সের ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামের আবিষ্কার। হইচই ফেলে দেওয়া শুরুতেই। ডান হাতে যেন ডেল স্টেইন, বাঁ হাতে মোহাম্মদ আমির! ঝড় তো উঠবেই। কালান্দার্স তাকে এক দশকের চুক্তিই দিয়ে দিল বড় কোনো পরীক্ষার আগেই!

তার কোচ মুহাম্মদ সালমান বলেন, "ইয়াসির এক বিস্ময়কর প্রতিভা। " হাত বদলে বল করা মানে অ্যাঙ্গেলও বদলে ফেলা। বাঁ হাতি ব্যাটসম্যানের জন্য ডান হাতি আর ডান হাতি ব্যাটসম্যানের জন্য বাঁ হাতি বোলার হয়ে যান ইয়াসির যখন তখন! ক্রিকেট আইনেও এমন বোলিংয়ে কোনো বাধা নেই। আগে শুধু ব্যাটসম্যানকে জানিয়ে দিলেও হয় কোন হাতে বল করবেন। পাকিস্তানের এই সাবেক ব্যাটসম্যান সালমান মন করেন, "অধিনায়কের জন্য দুই হাতের এমন বোলার বাড়তি সুবিধা। "

২০১২ তে রাওয়ালপিন্ডি অনূর্ধ্ব ১৬ তে খেলেছিলেন ইয়াসির। এরপর প্রথম দুই হাতেই বল করেন অনূর্ধ্ব ১৯ এর এক ম্যাচে। কিন্তু আকিব জাভেদের পরিচালনার ট্যালেন্ট হান্ট আসরেই তাকে আবিষ্কার করে সবাই। ডেল স্টেইন ইয়াসিরের আদর্শ। কিন্তু তিনি নিজেকে তৈরি করছেন পাকিস্তানের দুই ডাব্লিউ ওয়াকার ইউনিস ও ওয়াসিম আকরামের মতো করে। "২০০৩ বিশ্বকাপের সময় তাদের দেখে আমি কপি করতে শুরু করি। দিনের পর দিন তাদের কপি করে আমি সবার চোখে পড়েছি শেষ পর্যন্ত। "

দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা। পুষ্টির সমস্যা ছিল। লাহোর কালান্দার্স তাকে সঠিক ভাবে গড়তে যথেষ্ট খরচ করছে। ফিজিক্যাল ফিটনেস আসছে। শরীর আরো পোক্ত হচ্ছে। তবে তার কোচ মনে করেন ভালো কিছুর আশা করলে ইয়াসিরকে গড়তে আরো ৬ থেকে ১২ মাস সময় দিতে হবে।

এখন মঞ্চ পেয়েছেন ইয়াসির। তার স্বপ্নটা পাখা মেলতে শুরু করেছে। স্বপ্নের সীমাও অতিক্রম করতে চান বলে জানিয়ে দিচ্ছেন, "আমি একটা মঞ্চ পেয়েছি। কঠোর পরিশ্রম করে আমার দেশ পাকিস্তানের হয়ে খেলার লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। বিশ্বের সেরা মাঠে সেরা খেলোয়াড়দের সাথে খেলতে চাই। এটাই আমার লক্ষ্য ও স্বপ্ন। "

এভাবেই ইয়াসির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উঠে আসবেন একদিন। এমনটা ভাবছেন তাকে দেখা সবাই। সেদিন বিশ্ব ক্রিকেটে দুই হাতে ফাস্ট বোলিং করা বোলারের নতুন ইতিহাসও লেখা হবে।


মন্তব্য