kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এতদিন পর টেস্টে ফিরে কেমন করবে বাংলাদেশ?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:৫৫



এতদিন পর টেস্টে ফিরে কেমন করবে বাংলাদেশ?

ওয়ানডে সিরিজের আগে উত্তেজনা ছিল। প্রথম ওয়ানডের পরই বাতাসে মিলেছিল বারুদের গন্ধ।

শেষ ম্যাচের আগে সেই গন্ধের সাথে বেজে উঠেছিল রণ-ডঙ্কারও। কিন্তু বৃহস্পতিবার যে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু হচ্ছে, তা টের পাওয়া যাচ্ছে কই!

নির্দিষ্ট করে বললে ১৪ মাস ১৭ দিন পর আবার টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ দারুণ শক্তিশালী। প্রথম টেস্টের জন্য চমক জাগানো দল নিয়েও বিতর্ক নেহাত কম হয়নি। কিন্তু এখন সব ছাপিয়ে মাঠে প্রয়োগের বেলা। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এখন সমীহ কাড়া দল। টেস্টে মোটেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার মতোও দল না। শঙ্কাটা তাই প্রবল হয়। এতদিন পর টেস্টে ফিরে কেমন করবে বাংলাদেশ? এটা যে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে দীর্ঘতম বিরতির পর মাঠে নামাও।

এই সময়ে দলের শীর্ষ তারকাদেরও দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট খেলায় ভাটার টান ছিল। কে কবে শেষ ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলেছেন দলের অনেকে তা ঠিক করে বলতে পারছেন না। স্বাভাবিক ভাবে টেস্ট খেলার জন্য যে ভিন্ন মানসিকতার দরকার পরে সেটিতেও ঘাটতি স্পষ্ট। মাঠে ভালো করতে থেকে আত্মবিশ্বাসী হওয়া এবং প্র্যাকটিসের মধ্যে না থেকে আত্মবিশ্বাসী হওয়া এক কথা না। সুতরাং, মাঝের বিরতিটা ইংল্যান্ড ছাড়াও ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ বটে।

বাংলাদেশ শেষ টেস্ট খেলল ২০১৫ এর জুলাইয়ের শেষে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকায়। সেই ম্যাচের সিংহভাগই বৃষ্টির কবলে চলে গিয়ে ম্যাচ হয়েছিল ড্র। এই বিরতির আগে সবচেয়ে বড় যতিটা পড়েছিল ২০১০ এর জুনের পর। তারপর বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছিল ২০১১ সালের আগস্টে। ওই ১৪ মাসের বিরতির পর প্রথম ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছিল টাইগাররা। ওটা ছিল স্পষ্টতই বিরতির নেতিবাচক প্রভাব।

ওই বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার পর আবার দীর্ঘ বিরতি। এবার আবার টেস্টের চাকা চলতে শুরু করে ২০১২ এর নভেম্বরে। প্রায় ১১ মাসের ওই বিরতির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে প্রথম সিরিজেই হোয়াইওয়াশ হতে হয়।

এ তো কাছাকাছি সময়ের বিরতির কথা বলা হলো। এর আগে ২০০৬ সালের এপ্রিলের পর ২০০৭ এর মে মাসে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। মাঝে চলে যায় ১৩ মাস। অস্ট্রেলিয়াকে আগের সিরিজে ফতুল্লায় ভয় দেখিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ ফিরে আর সুবিধা করতে পারেনি।

বরাবর দেখা যাচ্ছে লম্বা বিরতির পর টেস্টে ফেরাটা বাংলাদেশের জন্য সুখের হয় না। আবার শুরু করতে হয় নতুন করে। যেন দেশের টেস্ট ইতিহাস শুরু হলো আবার! এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কি হবে? অপেক্ষায় জবাব।  


মন্তব্য