kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খাদের কিনারে দাঁড়িয়েও উদ্ধত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:৫৪



খাদের কিনারে দাঁড়িয়েও উদ্ধত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড!

সুপ্রিম কোর্ট রায়ের আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে নয়াদিল্লির বিশেষ বোর্ড বৈঠকে ঠিক হয়ে গেল, এত দিন লোঢা কমিশন নিয়ে যে মনোভাব দেখানো হয়েছে, তাই দেখানো হবে। অর্থাৎ, নতজানু হওয়া যাবে না।

লোঢা কমিশনের বিরুদ্ধে 'বিনা যুদ্ধে দেব নাহি সূঁচাগ্র মেদিনী' মনোভাব নিয়েই থাকছে ভারতীয় বোর্ড।

আগামী সোমবার ভারতীয় বোর্ড মামলায় রায় শোনাবে সুপ্রিম কোর্ট। যে রায় লোঢা সংস্কার না মানার অপরাধে বোর্ডের দায়িত্ব থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারে প্রেসিডেন্ট অনুরাগ ঠাকুর-সহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাকে। ক্রিকেটমহলের আগ্রহ ছিল, সেই রায় প্রদানের আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে বোর্ড নিজেদের বিশেষ বৈঠকে কী করে? লোঢা সংস্কার মেনে নেওয়ার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু দিল্লির বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সোমবার আদালত কক্ষে বোর্ড আইনজীবী অনমনীয় মনোভাব নিয়েই ঢুকতে চলেছেন।

এ দিনের বৈঠকে থাকা কেউ কেউ পরে বললেন যে, বৈঠকে নাকি সদস্যদের জিজ্ঞাসা করা হয় পূর্বের বোর্ড-অবস্থান থেকে কেউ সরে আসতে চায় কি না। দাবি করা হল, বিরোধিতা নাকি তেমন আসেনি। অধিকাংশ সদস্যই নাকি বলে দেন যে, বোর্ড-নির্দেশিত যুদ্ধের রাস্তায় হাঁটতে তাঁদের কোনও অসুবিধে নেই। কিন্তু সম্পূর্ণ ছবিটা মোটেও তেমন নয়। ত্রিপুরা-রাজস্থান-বিদর্ভ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে, লোঢা সংস্কার পুরোপুরি মেনে নিতে তাদের কোনও অসুবিধা নেই।

বিশেষ বৈঠক থেকে বেরিয়ে কোনো কোনো সদস্য আবার বলেছেন যে, কিছু কিছু জিনিস বাস্তবে মেনে নেওয়া অসম্ভব। যেমন এক রাজ্য এক ভোট, সত্তোরোর্ধ্ব হলে বা ৯ বছর হয়ে গেলে ক্রিকেট প্রশাসন ছেড়ে চলে যাওয়া, কুলিং অফ পিরিয়ড। এর একটাও মানার উপায় নেই। বলা হচ্ছে, লোঢা কমিশনের কোনও সংস্কারই মানা হচ্ছে না এমন তো নয়। সিএজি বসানোর মতো বেশ কিছু ব্যাপার তো মেনে নিয়েছে বোর্ড। কিন্তু তার বাইরে বাকিগুলো মানা সম্ভব নয়।

কেন আইসিসির হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল তার কৈফিয়ৎ দিয়ে আদালতে অনুরাগ ঠাকুরের যে হলফনামা পেশ করার কথা, সেই বক্তব্যও তৈরি বলে জানা গেছে। বোর্ডের বক্তব্য, আইসিসি চেয়ারম্যান অ্যাপেক্স কাউন্সিলে সিএজি প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাবেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলেই তার কাছ থেকে এই বিষয়ে লিখিত বক্তব্য চাওয়া হয়েছিল। বাকীটা সেদেশের সুপ্রীমকোর্টের উপরে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।


মন্তব্য