kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দ্বাদশ খেলোয়াড় থেকে ইতিহাস স্রষ্টা আজহার!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:২২



দ্বাদশ খেলোয়াড় থেকে ইতিহাস স্রষ্টা আজহার!

১৪ বছর আগের কথা। লাহোরে ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ক্লান্ত ইনজামাম-উল হক।

দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে পানি, তোয়ালে নিয়ে মাঠে যায় এক যুবক। ইনজিকে খুব কাছ থেকে দেখে। ভাবে, ইশ! আমিও যদি কোনোদিন হতে পারি এমন! এমন কিংবদন্তি এক!

সেই দ্বাদশ খেলোয়াড় এখন ৩১ বছরের এক পরিপূর্ণ ব্যাটসম্যান। ইতিহাস স্রষ্টা হয়ে গেলেন শুক্রবার। দুবাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হার না মানা ট্রিপল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন আজহার আলি। উঠে গেছেন ভিন্ন উচ্চতায়। দিবা-রাত্রির টেস্টের যুগের ঐতিহাসিক চরিত্র এখন তিনি। ডে-নাইট টেস্টের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান, প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান, প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান- সবগুলো কীর্তি আজহারের ওই ৩০২ রানের ক্ল্যাসিক ইনিংসে।  

"ইনজামাম যেদিন ধ্রুপদি ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন সেদিন আমাকে বদলী ফিল্ডার হিসেবে মাঠে পাঠানো হলো। এখনো মনে আছে তা। " ২০০২ সালের মে মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের লাহোর টেস্ট চোখে ভাসে আজহারের, "এখন আমার নিজেরই অসাধারণ এক অর্জন হলো। আমি গর্বিত। কতটা খুশি তা বলে বোঝাতে পারবো না। এটা আমি আমার সারাজীবন মনে রাখবো। " তার ইতিহাস গড়া ট্রিপলের ওপর দাঁড়িয়ে ৩ উইকেটে ৫৭৯ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ১ উইকেটে ৬৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ক্যারিবিয়ানরা।


পাকিস্তানের ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি আজহারের। তাও দেশের ৪০০তম টেস্টে। নিজের ৫০তম ম্যাচে। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আজহারের আগে তিন অংকের কীর্তি ছিল হানিফ মোহাম্মদ (৩৩৭), ইনজামাম-উল হক (৩২৯) আর ইউনিস খানের (৩১৩)। জাভেদ মিয়াঁদাদ ছয়টি ডাবল করেও ছুঁতে পারেননি সেই মাইলফলক। অথচ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবলটাই তিন অংকে পরিণত করলেন পাকিস্তানের ওয়ানডে অধিনায়ক।

বাংলাদেশের বিপক্ষে করা ২২৬ রানের ইনিংস ছাড়িয়েছেন আজহার। ডাবলের পর ১০টা বুক ডন দিয়েছেন। অধিনায়ক মিসবাহ-উল হকের দেখিয়ে দেওয়া মতো সামরিক কায়দায় স্যালুটও ছিল। ট্রিপলের পর সিজদা। আর ইনিংসটাকে বাবা-মা ও দেশের মানুষকে উৎসর্গ করে আরো অবনত হয়ে ফিরেছেন। নতুন উচ্চতা তো মানুষকে বিনয়ী হতেই শেখায়।


মন্তব্য