kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরিজ হারলেও সোশাল মিডিয়ায় টাইগারদের জয়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:২৭



সিরিজ হারলেও সোশাল মিডিয়ায় টাইগারদের জয়!

দেশের মাটিতে টানা ছয় সিরিজ জয়ের পর থামতে হলো বাংলাদেশকে। ইংল্যান্ড যে টাইগারদের জয়রথ থামিয়েছে এটা বলা ঠিক হবে না; কারণ প্রথম ম্যাচে অবিশ্বাস্য পরাজয়ের দায় টাইগারদের ওপরই বর্তায়।

শেষ ম্যাচে শেষে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ মিস, শিশিরের কারণে টার্নিং উইকেট ফ্ল্যাট হয়ে যাওয়া- এমন কিছুই এসেছে আলোচনায়। তবে সিরিজ জিততে না পারলেও সবার মন জয় করে নিয়েছে টিম মাশরাফি।

আগে দল হারলেই সমালোচনায় মেতে উঠতেন হতাশ দর্শক-সমর্থকরা। কিন্তু সেই বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। গত দুই বছরের পারফরমেন্সে টাইগাররা প্রমাণ করেছে তারা এখন 'বড় দল'। ২০১৪ থেকে টানা্ দুই বছরে একটি সিরিজও হারেনি। তাই সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনা কিংবা কটূক্তির পরিবর্তে অভিনন্দন এবং শুভ কামনার জোয়ার। পরাজয়ের বেদনা ভুলে সামনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সিরিজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের তাগিদ।

গতকালের ম্যাচের পর ফেসবুকে পাওয়া গেছে অনেক মন্তব্য। মশিউর রহমান‎ নামে একজন লিখেছেন, '৬টা সিরিজ জয় কম কথা না নিশ্চয়ই। ৬টার পর একটাতে হারতেই পারি। অস্বাভাবিক কিছুই না। খারাপ খেলেনি বাংলাদেশের ছেলেরা। ভাগ্যটা ওদের সহায় ছিল না এই যা! দুইটা হারই একদমই সামান্য হার! উই আর প্রাউড অফ ইউ টাইগার্স! পাশে ছিলাম, আছি, থাকবোও!'

রায়হান রবীন লিখেছেন, 'আসলে হইছে কি সিরিজ হারার স্বাদটা ভুলেই গেছি এ জন্যই বেশি খারাপ লাগতেছে। সব মাশরাফির দোষ। ওই বুকের মধ্যে একটা ক্ষেপাটে বাঘ এঁকে দিছে যেটা কখনও মুছবে না। টানা ৬টা সিরিজ জয়ের পর হারটা মেনে নেওয়া একটু কষ্টকর। কীভাবে মেনে নিবে বলেন বাঘটা তো এখনও হারতে শেখেনি। '

সকলের ভালোবাসার মানুষ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার এই ভক্ত আরও লিখেছেন, 'আমাদের গর্জন কিন্তু একটুও থামেনি মাশরাফি। আমরা এখনও বরাবরের মতো গর্জন দিতে জানি। অভিনন্দন মাশরাফি সেরা উইকেট সংগ্রাহক হওয়ার জন্য। '

একটু মজা করেই সায়াহ্নের সায়ন্তন নিক আইডি থেকে একজন লিখেছেন, 'শক্তিশালী বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ জিতে অঘটনের জন্ম দিলো ইংল্যান্ড....অভিনন্দন....। '

বাংলাদেশ যে আর আগের মতো নেই, কিংবা টাইগারদের প্রতি প্রত্যাশার যে আকাশ-পাতাল পরিবর্তন হয়েছে তার প্রমাণ সৌমেন দত্তের স্টেটাসে। তিনি লিখেছেন, 'হারাটা স্বাভাবিক। সবাই হারে। এমন হারে খারাপ লাগে না বরং ভালোলাগা ছুঁয়ে যায়। এক লড়াকু টিম টাইগার। ক্রিকেটের শক্তি পরীক্ষার আসল মঞ্চ টেস্ট। দেখা হবে সেখানে...। '

গতকালের ম্যাচের পর সমালোচনার খোরাক জুগিয়েছে ইমরুলের সেই ক্যাচ মিস। কেউ কেউ এটাকে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখলেও বেশির ভাগ ক্রিকেটপ্রেমী ইমরুলকে দুষছেন না। বরং সহানুভূতিশীল হয়েছেন প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এই ক্রিকেটারের প্রতি। যেমন ম্যাশ মুন নিক আইডি থেকে একজন লিখেছেন, 'ক্যাচ মিস করার পর ইমরুলের চেহারাটা দেখে সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছি। আসলেই ছেলেটি নিজেকে খুব অসহায় মনে করেছে ওই সময়ে। ইমরুল ভাই ব্যাপার না। ইচ্ছা করে তো আর মিস করনি। যা হোক পর পর ৬টি সিরিজ জয় করছি, একটা গেলে কি হয়?'

সবশেষে অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমীর স্টেটাসে দুটি লাইন বারবার লিপিবদ্ধ হয়েছে-'জিতলেও বাংলাদেশ, হারলেও বাংলাদেশ। সুখে-দুঃখে টাইগারদের সাথে সব সময় ছিলাম এবং সব সময় থাকব। '

মানুষের কাছ থেকে এই ভালোবাসা পাওয়া খুব সহজ বিষয় নয়। টাইগাররা এটা অর্জন করেছে। শততম ওয়ানডে জয় করে টিম টাইগার এখন অন্য উচ্চতায়। এখন শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।


মন্তব্য