kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিলিংসকে আউট করলেন মোসাদ্দেক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:৫১



বিলিংসকে আউট করলেন মোসাদ্দেক

প্রথম ম্যাচে ১০০ এর আগেই তুলে নেওয়া গিয়েছিল ৩ উইকেট। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১০০ এর আগে ৪টি।

কিন্তু ফাইনাল হয়ে ওঠা চট্টগ্রামের শেষ ওয়ানডেতে ১০০ এর আগে মাত্র ১টি উইকেট হারাল ইংল্যান্ড। বাংলাদেশকে তাদের এই ব্যাটিং দৃঢ়তা চোখ রাঙাচ্ছিল খুব। দরকার ছিল একাধিক উইকেটের। তরুণ অফ স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন ব্রেক থ্রু দিয়েছেন। ফিফটি করা স্যাম বিলিংসকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সিরিজ জিততে হলে দ্রুত আরো আঘাত হানতে হবে বাংলাদেশকে। এই রিপোর্ট লেখার সময় ২৮ ওভারে ২ উইকেটে ১৫০ রান ইংল্যান্ডের। বেন ডাকেট ৪৩ ও জনি বেয়ারস্টো ১১ রানে ব্যাট করছেন।  

ইংল্যান্ডের বোলারদের বল জহুর আহমেদ চৌধুরীর পিচে বেশ ঘুরেছে। স্পিনারদের কারণেই আরো বড় রান করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ধারণা ছিল, বিশ্ব সেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও তার সতীর্থ নাসির হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেনদের স্পিন ভোগাবে প্রতিপক্ষকে। কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবাইকে ব্যবহার করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু প্রথম সাফল্য ৬৩ রানের সময় জুটি ভাঙার ওই ১ উইকেট। দ্বাদশ ওভারে বল হাতে পেয়েই জেমন ভিন্সকে (৩২) তুলে নেন অফ স্পিনার নাসির। এরপর আরো ৩ ওভার বল করলেও কিছু হয়নি। রান দিয়েছেন বেশ।

৬ বোলার ব্যবহার করা হয়েছে। তিন পেসার, ২ অফ স্পিনার ও এক বাঁ হাতি স্পিনার। কিন্তু ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করা বিলিংস আরো বড় কিছুর দিকে এগুচ্ছিলেন। রান মেশিন ডাকেটও সেট হয়ে গেছেন। এই সময়ে মোসাদ্দেক ৬২ রান করা বিলিংসকে তুলে নেন। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় উইকেট হারায় ১২৭ রানের সময়। ৮ উইকেট হাতে। লক্ষ্য ইংলিশদে নিয়ন্ত্রণে। এখনই আরো একাধিক আঘাত না হানলে যে সর্বনাশের সমুহ সম্ভাবনা বাংলাদেশের। ম্যাচ হারলে হেরে যেতে হবে সিরিজও।

এর আগে স্পিনের কাছে বিপর্যস্ত হয়ে খুব বিপদেই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৭ ইনিংস পর ফিফটি করে মুশফিকুর রহিম স্লগ ওভারে বাঁচালেন বাংলাদেশকে। তার সাথে সপ্তম উইকেটে ৭১ বলে ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়া মোসাদ্দেক হোসেনের বীরত্বের কথাও বলতে হবে। ১৯২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও তাই লড়ার মতো স্কোর টাইগারদের। টস হেরে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটেই ২৭৭ রান করেছে। ৬২ বলে ৪ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় অপরাজিত ৬৭ রান মুশফিকের। ৩৯ বলে ৪ চারে অপরাজিত ৩৮ রান মোসাদ্দেকের।

দারুণ গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে শুরু আর শেষে দারুণ টাইগাররা। মাঝখানে বেশ হতাশা। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল (৬৮ বলে ৪৫) ও ইমরুল কায়েস (৫৮ বলে ৪৬ রান) ৮০ রানের জুটি গড়লেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নিজেদেরই গড়া ৬ বছর আগের ৬৩ রানের রেকর্ড ভাঙলেন। দারুণ সেই জুটি ওভার প্রতি ৪.২১ গড়ে হলেও এনে দিয়েছে চমৎকার ভিত্তি ও বিশ্বাস।

এরপর লেগ স্পিনার রশিদ ৪ উইকেট নেন তার টানা ১০ ওভারের স্পেলে। এক পর্যায়ে ১৬ রানের মধ্যে নামী ৩ ব্যাটসম্যান হারায় স্বাগতিকরা। ওখান থেকে রুখে দাঁড়ানো মুশফিক ও মোসাদ্দেকের ব্যাটে। অভিজ্ঞ মুশফিক রানে ফিরেছেন। আশা করা যায় ফিরে পাবেন চাপের মুখে পড়া আত্মবিশ্বাসও। মোসাদ্দেক বয়সের চেয়ে পরিণত। সিনিয়রকে সঙ্গ দিতে দিতে নিজের খেলাটাও খেলেছেন চাপ উপেক্ষা করে।

রশিদ এসেছিলেন ২৩তম ওভারে। পরের দুই ওভারেই শিকার করলেন তামিম ও আগের ম্যাচে ৭৫ রান করা মাহমুদ উল্লাহকে (৬)। ছক্কা মারার পরের বলে আউট মাহমুদ উল্লাহ। সাব্বির রহমান আক্রমণাত্মক শুরুটাকে ফিফটির পরিণতি দিতে চাইলেন। মুশফিকের সাথে তার চতুর্থ উইকেটে ৫৪ রানের জুটি। রশিদের ধাক্কায় ১২২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর। কিন্তু রশিদই ফেরান সাব্বিরকে (৪৬ বলে ৪৯)। দ্রুত ফিরে যান সাকিব আল হাসান (৪) ও নাসির হোসেন (৪)।

দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণ করে দুই স্পিনার মঈন ও রশিদ চাপ বাড়াচ্ছিলেন। সেটা সামলে ৩৯তম ওভার থেকে মুশফিক ও মোসাদ্দেকের জুটি। ওখানেই শেষে সপ্তম উইকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটির নতুন রেকর্ড। নিরাশা দুর করে বাংলাদেশের আশা জাগানোর হার না মানা লড়াই তাদের। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে বেন স্টোকস ক্যাচ ছাড়লে লাইফ পেলেন মুশফিক। পরের বলেই ছক্কা মেরে ক্যারিয়ারে ২৩তম ফিফটিতে। শেষ পর্যায়ের ওই জীবনের পর আগ্রাসণ বাড়ে মুশফিকের। আসে আরো ২১ রান। যার মূল্য অসীম। মোসাদ্দেকও ব্যাট চালিয়ে যান। এত বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও দারুণ নির্ভার। তাতেই বিপদ সামলে বোলারদের হাতে তুলে দেওয়া লড়ার মতো পুঁজি।


মন্তব্য