kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুশফিক-মোসাদ্দেকের লড়াইয়ে বাংলাদেশের ২৭৭

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:০৭



মুশফিক-মোসাদ্দেকের লড়াইয়ে বাংলাদেশের ২৭৭

স্পিনের কাছে বিপর্যস্ত হয়ে খুব বিপদেই ছিল বাংলাদেশ। ৭ ইনিংস পর ফিফটি করে মুশফিকুর রহিম স্লগ ওভারে বাঁচালেন বাংলাদেশকে।

তার সাথে সপ্তম উইকেটে ৭১ বলে ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়া মোসাদ্দেক হোসেনের বীরত্বের কথাও বলতে হবে। ১৯২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও তাই লড়ার মতো স্কোর টাইগারদের। চট্টগ্রামে ফাইনাল হয়ে ওঠা সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটেই ২৭৭ রান করেছে বাংলাদেশ। ৬২ বলে ৪ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় অপরাজিত ৬৭ রান মুশফিকের। ৩৯ বলে ৪ চারে অপরাজিত ৩৮ রান মোসাদ্দেকের। এবার মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে বোলারদের জ্বলে ওঠার পালা।

দারুণ গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ। জিতলেই ইংল্যান্ডকে হারানো হবে প্রথম কোনো সিরিজে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে শুরু আর শেষে দারুণ টাইগাররা। মাঝখানে বেশ হতাশা। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল (৬৮ বলে ৪৫) ও ইমরুল কায়েস (৫৮ বলে ৪৬ রান) ৮০ রানের জুটি গড়লেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নিজেদেরই গড়া ৬ বছর আগের ৬৩ রানের রেকর্ড ভাঙলেন। দারুণ সেই জুটি ওভার প্রতি ৪.২১ গড়ে হলেও এনে দিয়েছে চমৎকার ভিত্তি ও বিশ্বাস।

এরপর লেগ স্পিনার রশিদ ৪ উইকেট নেন তার টানা ১০ ওভারের স্পেলে। এক পর্যায়ে ১৬ রানের মধ্যে নামী ৩ ব্যাটসম্যান হারায় স্বাগতিকরা। ওখান থেকে রুখে দাঁড়ানো মুশফিক ও মোসাদ্দেকের ব্যাটে। অভিজ্ঞ মুশফিক রানে ফিরেছেন। আশা করা যায় ফিরে পাবেন চাপের মুখে পড়া আত্মবিশ্বাসও। মোসাদ্দেক বয়সের চেয়ে পরিণত। সিনিয়রকে সঙ্গ দিতে দিতে নিজের খেলাটাও খেলেছেন চাপ উপেক্ষা করে।

রশিদ এসেছিলেন ২৩তম ওভারে। পরের দুই ওভারেই শিকার করলেন তামিম ও আগের ম্যাচে ৭৫ রান করা মাহমুদ উল্লাহকে (৬)। ছক্কা মারার পরের বলে আউট মাহমুদ উল্লাহ। সাব্বির রহমান আক্রমণাত্মক শুরুটাকে ফিফটির পরিণতি দিতে চাইলেন। মুশফিকের সাথে তার চতুর্থ উইকেটে ৫৪ রানের জুটি। রশিদের ধাক্কায় ১২২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর। কিন্তু রশিদই ফেরান সাব্বিরকে (৪৬ বলে ৪৯)। দ্রুত ফিরে যান সাকিব আল হাসান (৪) ও নাসির হোসেন (৪)।

দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণ করে দুই স্পিনার মঈন ও রশিদ চাপ বাড়াচ্ছিলেন। সেটা সামলে ৩৯তম ওভার থেকে মুশফিক ও মোসাদ্দেকের জুটি। ওখানেই শেষে সপ্তম উইকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটির নতুন রেকর্ড। নিরাশা দুর করে বাংলাদেশের আশা জাগানোর হার না মানা লড়াই তাদের। ব্যক্তিগত ৪৬ রানে বেন স্টোকস ক্যাচ ছাড়লে লাইফ পেলেন মুশফিক। পরের বলেই ছক্কা মেরে ক্যারিয়ারে ২৩তম ফিফটিতে। শেষ পর্যায়ের ওই জীবনের পর আগ্রাসণ বাড়ে মুশফিকের। আসে আরো ২১ রান। যার মূল্য অসীম। মোসাদ্দেকও ব্যাট চালিয়ে যান। এত বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও দারুণ নির্ভার। তাতেই বিপদ সামলে বোলারদের হাতে তুলে দেওয়া লড়ার মতো পুঁজি।  


মন্তব্য