kalerkantho


'মাস্টারদা' হয়ে জ্বলে উঠুক মাশরাফিরা!

খাইরুল আমিন তুহিন   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:৫৫



'মাস্টারদা' হয়ে জ্বলে উঠুক মাশরাফিরা!

পাকিস্তান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শত্রু। ক্রিকেটে তাদের হারাতে পারলে যুদ্ধ জয়ের উন্মাতাল অনুভূতিও হয়।

কিন্তু যারা দুই শ বছর দাসত্বের শৃঙ্খলে বেঁধে রেখেছিল, গোটা জাতিকে অগ্রসরমান পৃথিবী থেকে রেখেছিল যোজন যোজন দূরে, নিদারুণ অত্যাচার চালিয়ে গেছে সুদীর্ঘ দুই শতাব্দী, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বুনে দিয়ে গেছে দাসত্বের বীজ, তাদের বেলায়?

এই উপমহাদেশে স্বাধীনতা আন্দোলনের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মেনেছিল বৃটিশরা। ১৯৪৭ সালে চলে গেল। কিন্তু ইংল্যান্ড থেকে সেই প্রভুত্বের মানসিকতা নিয়েই এই বাংলায় ফিরলেন জস বাটলার, জনি বেয়ারস্টো, বেন স্টোকসরা! একেকজন যেন আধুনিক কোনো লর্ড! ঢাকার মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আউট হওয়ার পর তাই বাটলার তেড়ে যান স্বাগতিক খেলোয়াড়দের দিকে। হারতে যাচ্ছেন সেটা যেন মানতেই পারছিল না ইংল্যান্ড অধিনায়কের 'ইগো'! খেলা শেষে হাত মেলাতে গিয়ে তামিম ইকবালের সাথে ধাক্কা লাগান বেয়ারস্টো। বাঁধান ঝগড়া। দোষটা চাপিয়ে দিয়ে তামিমের বুকে ধাক্কাও মেরে বসেন স্টোকস!

বাটলারদের এই আচরণই কি বুঝিয়ে দেয় না এতকাল পরও বৃটিশদের বিরুদ্ধে মানসিক যুদ্ধটা শেষ হয়ে যায়নি! তাহলে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনটাও বা এই বাংলায় শেষ হবে কেন!

মাস্টারদা সূর্যসেনের চট্টগ্রামেই মাশরাফি বিন মুর্তজাদের যুদ্ধের পরিণতি। ইতিহাসও কিভাবে আবার দাঁড় করিয়ে দেয় ইতিহাসেরই মুখোমুখি! এই চট্টগ্রামেই বৃটিশবিরোধী আন্দোলন পেয়েছিল ভিন্নমাত্রা। মাস্টারদার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা স্বশস্ত্র আক্রমণে কাঁপিয়ে দিয়েছিল পরাক্রমশালী বৃটিশ সিংহাসন। চার দিনের জন্য চাঁটগা ছিল স্বাধীন। বৃটিশ খেদাও আন্দোলনের ইতিহাস থেকে আরো উঠে আসেন টিনএজার ক্ষুদিরাম বসু, বিপ্লবী অকুতোভয় নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত আরো কত মুখ! চূড়ান্ত স্বাধীনতা এসেছে এই ধারাবাহিকতায়।

মোসাদ্দেক হোসেনও আজ একজন ক্ষুদিরাম। মাশরাফিও আজ মাস্টারদা। দেশের জন্য বুক চিতিয়ে লড়া এই বীর সেনানীরা প্রথম ওয়ানডেটা জিততে জিততে হেরেছেন। কিন্তু বাঙালি জাতির ইতিহাসও তো অন্তত চার বছরের। পূর্বপূরুষদের ধমণী হয়ে মাশরাফি-তামিম-সাকিবদের রক্তেও বাজে আন্দোলন। চেতনে বা অবচেতন বৃটিশ বধের কাব্য রচনা করতে উন্মুখ সবাই! এটাও যে বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, একেবারে নতুন রূপে। ক্রিকেটের মোড়কে।

২০১০ এ বৃস্টলে প্রথম ইংল্যান্ডকে হারাল টাইগাররা। ওই ম্যাচ থেকে ৬ দেখায় ৪টি জয় বাংলাদেশের। চট্টগ্রামের এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই ২০১১ বিশ্বকাপে ইংলিশদের বধ করেছিল বাংলাদেশ। তারপর ২০১৫ বিশ্বকাপে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই দিল বিদায় করে। আর বুধবারের ম্যাচটা মাশরাফিরা খেলতে নামছেন ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে। এই ম্যাচ জিতলেই প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের জনক বৃটিশদের হারানো হবে কোনো সিরিজে। হবে টানা ষষ্ঠ সিরিজ জয়ের রেকর্ড। এবং এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে পরিস্থিতিটাও দুর্দান্ত। যুদ্ধ যুদ্ধ অবস্থা দুই দলেই। ম্যাচটা হয়ে গেছে 'ফাইনাল'।

তাহলে? ক্রিকেটেও শুরু হলো যে বৃটিশবিরোধী আন্দোলন তাকে অনন্য পরিণতি দেওয়ার ক্ষণ হাজির। অপেক্ষা এখন টাইগারদের আরেকটি গর্জনের। মুক্তির আনন্দে মাশরাফিদের বীরত্বে বাংলাদেশের ধুলোয় মিশে যাক প্রভুত্বের বৃটিশ মানসকিতা। ১৬ কোটি মানুষের এই বাংলায় আরেকবার প্রবল হুঙ্কারে উচ্চারিত হোক, 'জয়তু ক্রিকেট', 'জয়তু টাইগার'।


মন্তব্য