kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঠিক সময়েই 'ম্যাশকিন' হয়ে উঠলেন তাসকিন!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৪



ঠিক সময়েই 'ম্যাশকিন' হয়ে উঠলেন তাসকিন!

মাশরাফি বিন মুর্তজা তার আদর্শ। মাশরাফি তার গুরু, ক্যাপ্টেন, বস, ভাই।

মাশরাফিকে দেখে দেখে বেড়ে ওঠা তাসকিন আহমেদের কাছে মাশরাফিই জীবনের সবচেয়ে বড় কথা। ভক্তরা মাশরাফির সাথেই মিলিয়ে তাকে আদর করে ডাকে 'ম্যাশকিন' নামে। একবার তাসকিন বলেছিলেন, এই 'ম্যাশকিন' নাম পেয়েছেন বলে জীবনে আর কিছু না হলেও চলবে তার! এমন একটা ম্যাচে মাশরাফির কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দেওয়ার দিনটা তাহলে ২১ বছরের তাসকিনের জন্য তো অবিস্মরণীয়ই।

বাংলাদেশের জন্যও বটে। মাশরাফি ব্যাট, বলে জ্বলে উঠে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ। একাই হারিয়ে দিলেন যেন ইংরিশদের। দ্বিতীয় ওয়ানডের অসাধারণ এই জয়ে সিরিজে এখন ১-১ এ সমতা। চট্টগ্রামে সিরিজ জেতার কথাও ভাবতে পারছে বাংলাদেশ। ২৩৮ রানের পুঁজি নিয়ে বোলারদের লড়াইয়ে মাশরাফির পরই যে আসছে তাসকিনের নাম। হতাশা যখন ফিরে এল তখন এই দেশের হার্টথ্রব বোলারই তো ম্যাচের মোড়টা দিলেন ঘুরিয়ে। এবং কি ঠিক সময়েই না করলেন তা! তাসকিনের নিজের জন্যও তো তা কম স্বস্তির না!

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনে রিপোর্টেড হলেন। পরীক্ষায় ফেল করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ! এই তরুণ কাঁধে এই অসহনীয় কষ্ট বয়ে বেড়ালেন সেপ্টম্বরের শেষ পর্যন্ত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের ঠিক আগেই নিষেধাজ্ঞা উঠে গেল। পরীক্ষায় পাশ। অ্যাকশন শুধরে ফিরে আসা তাসকিন ৪ উইকেট নিলেন প্রথম ম্যাচেই। পরের ম্যাচে ১। শেষেরটিতে ২। কিন্তু কোথায় যেন শূণ্যতা।

মাশরাফি ও তালহা জুবায়েরের পর সম্ভবত বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে সবচেয়ে বড় আবিস্কার তাসকিন। গতি তার সম্পদ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারা প্রথম ম্যাচে উইকেট নেই। কিন্তু এদিন? মাশরাফি ৪ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট নিলেন। সাকিব আল হাসান একটি। ২৬ রানে ৪ উইকেট হারানো ইংল্যান্ড জনি বেয়ারস্টো (৩৫) ও জস বাটলারের (৫৭) ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াল। বদলী বোলার হিসেবে দুই ওভার বল করে বোলিং থেকে সরে যেতে হল তাসকিনকে। শেষ ওভারে ৩টি বাউন্ডারির মার খেলেন বাটলারের হাতে।

কিন্তু ৬ ওভার পর ফিরলেন ২৪তম ওভারে। তৃতীয় বলেই বেয়ারস্টোকে শিকার করে ৭৯ রানের জুটি ভাঙলেন। প্রাণ এল সমর্থকদের মাঝে। নাসির হোসেন কিছুক্ষণের মধ্যে মঈন আলিকে শিকার করলেন। কিন্তু তাসকিনই বাটলারকে আউট করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। পরের ওভারে শিকার ক্রিস ওকস। আর পায় কে! চার ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট তাসকিনের। ৪ উইকেটে ১০৫ রান থেকে ৮ উইকেটে ১৩২ রান ইংল্যান্ডের। ওখান থেকে ৪৪.৪ ওভারে অল আউট ২০৪ রানে। ৩৪ রানের অসাধারণ জয় বাংলাদেশের। মাশরাফি ২৯ রানে ৪ উইকেট। ৮ ওভারে ৪৭ রানে দারুণ দামী ৩ উইকেট তাসকিনের। মাশরাফি-তাসকিন মিলে ৭ উইকেট! ম্যাশকিন হয়েই বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার আনন্দ তাসকিনের।


মন্তব্য