kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফিরলেন নাসির, এবার দাবি মেটানোর পালা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:১৭



ফিরলেন নাসির, এবার দাবি মেটানোর পালা

গত দেড় দিনে 'দ্য ফিনিশার' নাসির হোসেনকে দলে ফেরানোর দাবিটা গণদাবিতেই রূপ নিয়েছিল। সেই দাবির মুখে অবশ্যই নয়, জাতীয় ক্রিকেট দলের টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করেছে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নাসিরকে দরকার।

তাই ভাগ্য খুলেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এই ২৪ বছরের অল-রাউন্ডার ফিরেছেন দলে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলার পর এতদিন জাতীয় দলের সাথে থাকলেও একটিও ম্যাচ খেলা হয়নি নাসিরের। এবার দলের প্রবল প্রয়োজনে ফিরে দাবি মেটানোর পালা তার। পারবেন তো নাসির?

টস হেরেছে বাংলাদেশ। জেনুইন ব্যাটসম্যান নাসিরের সামনে আগে তাই ব্যাট করার সুযোগ আসবে। দল বিপদে পড়লেই কেবল ৭ বা ৮ নম্বরে সুযোগ পাবেন। তখন তাকে পরিস্থিতির দাবি মেনে দলকে বিপদমুক্ত করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আগে ব্যাট করবে টাইগাররা। প্রথম ম্যাচ জেতার অবস্থা থেকে হেরে কোণঠাসা তারা। আজ হারলেই সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে যাবে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। জিতলে সুযোগ থাকবে সিরিজ জেতার। অফ স্পিনার নাসিরের বল হাতে কোটা পূরণ করার পরিস্থিতিও তৈরি করে দিতে হবে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। অনেক দিন পর একাদশে ফিরে নাসিরকে তাই পুরো ম্যাচ চাপের মুখেই খেলতে হবে। তার জন্য একাদশ ছাড়তে হয়েছে বাঁ হাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেনকে।

ফিনিশিংয়ের অভাবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা মুঠো গলে বেরিয়ে যাওয়ায় আরো বেশি করে আলোচনায় আসেন নাসির। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে ছিলেন। কিন্তু পানি টেনেই কেটেছে সিরিজ। ম্যাচ খেলা হয়নি। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের পর আর খেলার সুযোগ পাননি। ওয়ানডে শেষ খেলেছেন গত নভেম্বরে, দেশে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

নাসির জেনুইন ব্যাটসম্যান। তাই তাকে মোসাদ্দেক হোসেনের পর ৮ নম্বরে কিংবা পরিস্থিতি বিবেচনায় ৭ নম্বরে পাঠানো যায়। যেমনটি একাদশে থাকলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে টিম ম্যানেজমেন্ট হয়ত ৭ নম্বরেই পাঠাতো তাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনভিজ্ঞ মোসাদ্দেককে ওই কঠিন পরিস্থিতিতে পাঠানোর ঝুঁকি না নেওয়ার অপশন থাকতো। বোলিংয়ে অধিনায়ক তাকে জেনুইন বোলারই মানেন। তার মানে জেনুইন অল-রাউন্ডার বলত যা বোঝায় তাই নাসির। ইংলিশ দলে ৪ বাঁ হাত ব্যাটসম্যান। অফ স্পিনার মাহমুদ উল্লাহ আগের ম্যাচে ভালো করেননি। মোসাদ্দেক ভালো হলেই এমন বড় ম্যাচের চাপ নেওয়ার মতো পরিণত নন। নাসির তাই অধিনায়কের প্রথম পছন্দ হিসেবে বল হাতে পেতে পারেন। বলে তার নিয়ন্ত্রণ দারুণ, নিশানায় অনেকটা নিখুঁত। ইকোনোমিতে ভালো।

বরাবর লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করা নাসির ৫৬ ম্যাচে এক সেঞ্চুরিতে ১,২৩১ রান করেছেন। ফিফট ৬টি। গড় ৩২.৩৯। স্ট্রাইক রেট ৮০.৬১। ৩৫ ইনিংসে বেশির ভাগ সময় অকেশনাল বোলার হিসেবে বল করেও ৪.৫৯ ইকোনমিতে ১৯ উইকেট নিয়েছেন। ২০১৬ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে ভাস্বর ছিলেন। প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে ১৬ ম্যাচে ৫২৮ রান করেছিলেন। গড় ৭৫.৪২। স্ট্রাইক রেট ৯৬.৮৮। ১৬ ম্যাচেই ১৪ উইকেট নিয়েছিলেন। ৪.২৭ ইকোনমি। নাসির এমন কঠিন ম্যাচে ফিরে কি করেন তাই দেখার এখন।


মন্তব্য