kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তীরে এসে ডুবল তরি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৩৯



তীরে এসে ডুবল তরি!

   ইংল্যান্ড : ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩০৯
  বাংলাদেশ : ৪৭.৫ ওভারে ২৮৮
  ফল : ইংল্যান্ড ২১ রানে জয়ী।


৪ উইকেটে ২৭১।

সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে জয়। করতে হবে ৩১০। সাকিব আল হাসান দুর্দান্ত খেলছেন। ইমরুল কায়েস দারুণ সেঞ্চুরির পর আছেন ক্রিজে। সবার বিশ্বাস, বাংলাদেশ জিতবে। কিন্তু তীরে এসেই ডুবল তরি। শেষ দশ ওভারের ঘরে ঢুকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল টাইগারদের ইনিংস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেটি অসাধারণ জয় হওয়ার কথা সেটিতে হারের বিষাদে ঢাকা পড়ল ক্রিকেট পাগল দেশটা।

বৃথাই গেল ইমরুলের উপেক্ষার জবাব দেওয়া ১১২ রানের ইনিংস। বৃথাই গেল সাকিবের ৫৫ বলে খেলা ৭৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস। ৩১০ করে জিতলে বাংলাদেশের দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার নতুন রেকর্ড হয়। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো ৩০০ পেরিয়ে জেতা হয়। কিন্তু আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ১০ ওভারে ভেঙে পড়া শুরু। সেই ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ মুঠো গলে বেরিয়ে গেল। হারতে হল ২১ রানে। পেছন থেকে উঠে এসে জিতল ইংল্যান্ড।

প্রস্তুতি ম্যাচে ৯১ বলে ১২১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে একাদশে ফিরেছেন ইমরুল। দারুণ চ্যালেঞ্জের এই ম্যাচে ১৫৩ রানে ৪ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। তখন ২৭তম ওভার। ম্যাচে ভালো ভাবেই আছে বাংলাদেশ। সাকিব ও ইমরুল ১১৮ রানের জুটি গড়লেন পঞ্চম উইকেটে। পৌনে আটের মতো ওভার প্রতি রান। ছয় বছর পর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করলেন ইমরুল। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। সাকিবের ধারালো ব্যাটে সবকিছু টাইগারদের পক্ষে। পথ খুঁজে পাচ্ছে না ইংলিশরা। এই সময় অভিষিক্ত জ্যাক বলের আঘাত। জোড়া উইকেট পরপর দুই বলে। ১৭ বলে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে জেতা ম্যাচ হারার অভিজ্ঞতা হল বাংলাদেশের। ৭ ওভারেই সর্বনাশ টাইগারদের!

জ্যাক বলের লাফিয়ে ওঠা বল ঠিক মতো টাইমিং করতে না পারায় ক্যাচ দিয়ে শেষ ৫৫ বলে সাকিবের ৭৯ রানের ইনিংস। ওই ইনিংসে ১০টি চার ও একট ছক্কা। তখন ৫১ বলে ৩৯ রান দরকার বাংলাদেশের। খুব সম্ভব জয়। পরের বলটি উইকেটে টেনে এনে বোল্ড মোসাদ্দেক। ধ্বংস আর কাকে বলে!  পরের ওভারেই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা (১) আদিল রশিদের বলে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। এক ওভার পর আদিল ওয়াইড বল করেও ইমরুলকে স্টাম্পিংয়ের শিকার বানিয়ে ফেলেন। ১১৯ বলে ১১২ রান (১১টি চার ও ২টি ছক্কা) করে ইমরুলের ফেরার সাথেই শেষ বাংলাদেশের আশা। জয়ের দরজায় দাঁড়িয়ে মাত্র ৯ রানেই এমন চারজনকে হারাতে হলে আর কি থাকে!

শফিউল ইসলাম ব্যাটসম্যান হয়ে ২০১১ বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিলেন চট্টগ্রামে। সেবার নবম উইকেটে ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাহমুদ উল্লাহকে পেয়েছিলেন। কিন্তু এবার তো তিনি একটি রানও করতে পারলেন না। অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে জ্যাক বল ঢুকে গেছেন ইতিহাসের পাতায়।

বড় লক্ষ্যের পেছনে ছুটে তামিম ইকবাল (১৭) বলের ক্যারিয়ারের প্রথম শিকার হয়েছেন। সাব্বির রহমান (১৮) দারুণ শুরু করে শেষে ডেভিড উইলির অসাধারণ ক্যাচে শিকার। মাহমুদ উল্লাহ (২৫) ও মুশফিকুর রহিম (১২) আশা জাগিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তারপরও জয়টা হতে পারতো স্বাগতিকদের। সাকিবের উইকেট তুলে নেওয়ার সাথে সাথেই স্রোতের প্রতিকূলে থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে ফেলে ইংলিশরা।  

ম্যাচের শেষে হারের পেছনে এই ধসের কথাই বললেন মাশরাফি। সেই সাথে বললেন ফিল্ডিংয়ে অতগুলো ক্যাচ না ছাড়লে ইংল্যান্ডের রান কম হতে পারতো।   

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে এদিন ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। জেমস ভিন্স (১৬), জ্যাসন রয় (৪১) ও জনি বেয়ারস্টো (০) ফিরেছেন। শফিউল, সাকিবের চমৎকার বোলিং ও সাব্বিরের দারুণ থ্রোর ফল। এরপর ২৬.৩ ওভারে ১৫৩ রানের জুটি গড়েন স্টোকস ও অভিষিক্ত ২১ বছরের বেন ডাকেট। কিন্তু তাসকিনের বলে ৬৯ রানের সময় মাহমুদ উল্লাহ ক্যাচ ছাড়লে বেঁচে যান স্টোকস। পরের ওভারে ব্যক্তিগত ৭১ রানে স্টোকস আরেকটি জীবন পান অধিনায়ক মাশরাফির বলে মোশাররফ ক্যাচ ছাড়লে। শেষ পর্যন্ত ১০১ রান করে মাশরাফির শিকার হন স্টোকস।

বেন ডাকেট তার আগে ৬০ রান করে ফিরেছেন। তবে অধিনায়ক জস বাটলার তাণ্ডব চালালেন। ৩৮ বলে করেছেন ৬৩। যদিও ৩৯ রানে জীবন পেয়েছেন। ক্রিস ওকসের সাথে ওভার প্রতি ১১'র বেশি গড়ে ৬৩ রানের জুটি গড়ে গেছেন বাটলার। স্পিনারদের এমন চমৎকার খেলেছেন ইংলিশ বোলাররা যে মোশাররফ ও মাহমুদ উল্লাহ ৩ ওভারের বেশি বল করতে পারেননি। মাশরাফি, সাকিব ও শফিউল দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। রবিবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে মিরপুরেই।


মন্তব্য