kalerkantho


বিমানবন্দরের টয়লেটে অপকর্ম করে সব হারাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:৪৯



বিমানবন্দরের টয়লেটে অপকর্ম করে সব হারাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়!

অ্যারন স্মিথ এবং তার গার্লফ্রেন্ড টেজান ভয়কোভিচ

তার গার্লফ্রেন্ড আছে। সম্পর্কও বেশ ভালই চলছিল। এরপরও নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি রাগবি খেলোয়াড় অ্যারন স্মিথ এমন কান্ড ঘটাবেন তা কি কেউ ভেবেছিল? বিমানবন্দরে প্রতিবন্ধীদের টয়লেটে যৌনকর্ম করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়া অ্যারন স্মিথ এখন অশ্রুসজল চোখে ক্ষমা চাইছেন। এর মধ্যে একটি টেস্ট ম্যাচে নিষিদ্ধ হয়েছেন। সম্মান হারিয়েছেন। গার্লফ্রেন্ডও হারাচ্ছেন। হারাতে বসেছেন সব!

এই সময়ে রাগবিতে সেরা খেলোয়াড় ধরা হয় অ্যারন স্মিথকে। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে জানা যায়, নিউজিল্যান্ডের সেই বিমানবন্দরে অ্যারন যার সঙ্গে সেক্স করছিলেন তিনি তার গার্লফ্রেন্ড নন। অন্য এক তরুণী। তারা ৫ থেকে দশ মিনিট সেই টয়লেটে যৌনকর্ম করছিলেন। এরপর চেক টি-শার্ট এবং কালো প্যান্ট পরা অ্যারন পোষাক ঠিক করতে করতে বেরিয়ে আসেন। মিনিটখানেক পর সেই তরুণী বেরিয়ে আসে একই টয়লেট থেকে। তাকে ঠিক স্বাভাবিক লাগছিল না। চোখে মুখে ছিল স্পষ্ট যৌনতার ছাপ।

এরপর যেন কিছুই হয়নি এমন ভাব নিয়ে তারা নিজেদের কাজ করতে থাকেন। কিন্তু সেই প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ঘটনা খুলে বলেন। এরপর জেরার মুখে সব স্বীকার করা ছাড়া উপায় ছিল না অ্যারনের। চলে আসে মিডিয়া। সকলের সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। বলেন, "এটা অত্যন্ত ভুল হয়েছে। " খবর চলে যায় গার্লফ্রেন্ড টেজান ভয়কোভিচের কাছে। করজোরে তার কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন অ্যারন। কিন্তু টেজান তাকে ক্ষমা করেছেন কিনা জানা যায়নি।

শুধু এটুকুই নয়। প্রতিবন্ধীদের টয়লেটে সেক্স করার দায়ে সারাদেশে সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই নামী ক্রীড়াবিদ। সোশ্যাল সাইটে এমন ঘটনার জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করার আহ্বান জানাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের জনগন। কারণ, সে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্যই এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। অ্যারন যা করেছেন তা প্রতিবন্ধীদের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবেই দেখছে নিউজিল্যান্ডের জনগন।

আর অ্যারন কী বললেন? তিনি কান্নাকাটি করে ক্ষমা চেয়ে বলেন, “আমি এই ঘটনার জন্য আমার পরিবার এবং আমার গার্লফ্রেন্ডের কাছে করজোরে ক্ষমা চাইছি। আমি আমার ভক্ত এবং নিউজিল্যান্ডের জনগনের কাছেও একই দাবি রাখব। আমার এই অনাকাঙ্খিত ব্যবহারকে কেউ মেনে নেবে না জানি, তবু আমি নিজের বাড়ি গিয়ে চেষ্টা করব সবাইকে বোঝাতে। ” এর মধ্যে তার একটি নগ্ন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় আরো বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন অ্যারন।

ঘটনা গেছে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত। তিনি কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেছেন অ্যারনকে। তিনি বলেছেন, “অ্যারন পরিস্কারভাবে নিজেকে নিজেই ডুবিয়েছে; সেইসঙ্গে দেশের সম্মানও ডুবিয়েছে। আমি চাই নিউজিল্যান্ডের রাগবি বোর্ড তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক। ”

এখন সময়ই বলে দেবে, অ্যারন স্মিথের ভাগ্যে আর কী কী দুঃখ অপেক্ষা করছে।


মন্তব্য