kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাবর আজমের সেঞ্চুরিতে সিরিজ পাকিস্তানের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:৫০



বাবর আজমের সেঞ্চুরিতে সিরিজ পাকিস্তানের

তরুণ ব্যাটসম্যান বাবর আজমের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫৯ রানে পরাজিত করে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। ১২৬ বলে আজমের করা দুর্দান্ত ১২৩ রানের সুবাদে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাটিং থেকে ৫ উইকেটে ৩৩৭ রানের বড় স্কোর গড়ে তোলে।

বাবরের পাশাপাশি শোয়েব মালিক ও সরফরাজ আহমেদের ব্যাট থেকে এসেছে হাফ সেঞ্চুরি। জবাবে ড্যারেন ব্রাভোর ৬১ ও মারলন স্যামুয়েলসের ৫৭ রান ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার ঠেকাতে যথেষ্ট ছিল না। ৭ উইকেটে ক্যারিবীয় ইনিংস ২৭৮ রানে থেমে গেলে পাকিস্তান ৫৯ রানের জয় তুলে নেয়।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি আগামী বুধবার আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে।

ম্যাচ শেষে পাকিস্তানী অধিনায়ক আজহার আলী বলেছেন, এটা সত্যিকার অর্থেই দারুণ একটি দলীয় প্রচেষ্টা ছিল। দ্রুত দুই উইকেট পড়ে যাবার পরে আমাদের একটি ভালো পার্টনারশিপের প্রয়োজন ছিল। আজম ও মালিক সঠিক সময়ে আমাদের সেটাই উপহার দিয়েছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার দলের বাজে বোলিংকেই ম্যাচ পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। হোল্ডার বলেন, আমি মনে করি আজ আমরা মোটেই ভালো বল করিনি। তা ছাড়া ৩৩০ ওপর রান তাড়া করা আমাদের জন্য একটু বেশি ছিল।

এই ভেন্যুতেই ১৯৯৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৮৫ রান করেছিল। সেই রানকে ছাড়িয়ে যাবার একটি সুযোগও এসেছিল। কিন্তু পাকিস্তানের বৈচিত্র্যময় বোলিং সেটা হতে দেয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মোহাম্মদ আমির জসনস চার্লসকে উঠিয়ে নিলে দ্বিতীয় উইকেটে ব্র্যাভো ক্রেইগ ব্রাথওয়েটকে (৩৯) সাথে নিয়ে ৮৯ রান যোগ করেন। ৭৪ বলে ব্রাভো তিনটি বড় ছক্কা ও পাঁচটি বাউন্ডারি মেরেছেন। এরপরই তিনি পেসার হাসান আলীর রান আউটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরের পথ দেখেন। ৫২ বলে চারটি বাউন্ডারি ও দুটি ওভার বাউন্ডারির সহায়তায় ৫৭ রান সংগ্রহ করে স্যামুয়েলসও লড়াই চালিয়ে যাবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। দিনেশ রামদিনের (৩৪) সাথে চতুর্থ উইকেটে স্যামুয়েলস ৬৭ রান যোগ করেন। তবে নিজের পরপর দুই ওভারে পেসার ওয়াহাব রিয়াজ এই দুজনকে ফিরিয়ে দিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। কাইরন পোলার্ড ক্যারিয়ারের শততম ওয়ানডেতে করেছেন ২২ রান। হোল্ডার ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষ পাঁচ ওভারে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৮৭।

এর আগে আজমের কল্যাণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তান সর্বোচ্চ দলীয় ওয়ানডে রানের রেকর্ড গড়েন। ৯ বছর আগে পার্থে ৮ উইকেটে করা ৩০৭ রানের ইনিংস এতদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল। তৃতীয় উইকেটে মালিকের সাথে আজম ১৬৯ রানে জুটি গড়েন। মাত্র ১০ রানে জন্য মালিক নবম ওয়ানডে সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন। ৮৪ বলে ছয়টি ওভার বাউন্ডারি ও তিনটি বাউন্ডারির সহায়তায় মালিকের ব্যাট থেকে এসেছে ৯০ রান। সরফরাজ ৪৭ বলে ৬০ রানে অপরাজিত ছিলেন। কার্লোস ব্রাথওয়েটের বলে সিঙ্গেলস নিয়ে আজম ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূরণ করেন। আলজারি জোসেফ ও হোল্ডার নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

পাকিস্তান : ৫ উইকেটে ৩৩৭ (বাবর আজম ১২৩, মালিক ৯০, সরফরাজ ৬০* : জোসেফ ২-৪৯, হোল্ডার ২-৫১)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৭ উইকেটে ২৭৮ (ড্যারেন ব্রাভো ৬১, স্যামুয়েলস ৫৭, ওয়াহাব ২-৪৮)

ফল : পাকিস্তান ৫৯ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : বাবর আজম (পাকিস্তান)


মন্তব্য