kalerkantho


ক্রিকেট মাঠে দর্শক ঢুকে পড়া নতুন কিছু না, ইংল্যান্ডেই ঘটে বেশি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:২৭



ক্রিকেট মাঠে দর্শক ঢুকে পড়া নতুন কিছু না, ইংল্যান্ডেই ঘটে বেশি

মে ২০০১। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড।

ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট চলছে। এই সময় এক সুন্দরী বৃটিশ নারী দৌড়ে মাঠে ঢুকে পড়লেন। উর্ধাংশ নগ্ন। তার পেছনে নিরাপত্তাকর্মীরা। মনের আনন্দে ক্রিকেট স্বর্গে ছুটে চলা নারীকে মাঠ থেকে ধরে বের করে নেওয়া হলো। মিনিট দুয়েকের বাধার পর আবার আবার খেলা শুরু হলো। যেন কিছুই হয়নি! তা এমন ঘটনা তো ইংল্যান্ডের ক্রিকেট মাঠে হরহামেশাই ঘটে আসছে সেই সুদূর অতীত থেকেই। মাঠে 'পাগল' দর্শকের ঢুকে পড়া, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নগ্ন, তেমন কোনো ঘটনাই না ইংল্যান্ডে।

ইংরেজিতে এমন পাগল দর্শকের একটি নাম আছে। 'স্ট্রিকার্স'। তো শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে একজন 'পাগল' দর্শক ঢুকে পড়েছিলেন মাঠে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডের শেষটায় উত্তেজনাহীন ম্যাচে উত্তেজনা এনে দিয়েছিলেন। টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সেই ভক্তের সাথে হাত মিলিয়ে, বুকে জড়িয়ে দারুণ ভাবে সামলেছেন পরিস্থিতি। তাঁর টানেই ওই ভক্তের ঢুকে পড়া। কিন্তু টাইমিংটা খারাপ হয়েছে! এমনটা কাম্য না মোটে। তার ওপর জঙ্গি জুজু চারদিকে। এর মধ্যেই ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলই এখন নানা কিছুর পর বাংলাদেশে। তাই মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ওই বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তের কারণেই প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে। অন্য সময় হলে হয়ত এতটা আলোড়ন তুলত না বিষয়টি। ইংল্যান্ডের জন্য তো নয় মোটেই। কারণ, তাদের দেশের ক্রিকেট মাঠে এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মাঠে ঢুকে পড়েন পুরো নগ্ন ক্ষেপাটে দর্শক। 'স্ট্রিকার্স'।


বিশ্ব ক্রিকেট কিংবা খেলাধুলাতেও এ অনেক পুরনো ব্যাপার। এখানে বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠই থাকুক আলোচনায়। এই জুলাইয়ের ঘটনা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট চলছে পাল্লেকেলে মাঠে। সেই মাঠে অস্ট্রেলিয়ান এক দর্শক 'নগ্ন দৌড়' দিয়ে জরিমানা গুনেছেন। স্থানীয় আদালত অ্যালেক্স জেমস নামের ওই ক্রিকেট ভক্তকে এক সপ্তাহের জেল দিয়েছে। সাথে জরিমানা করেছে ৩,০০০ রুপি। ২০১৫ বিশ্বকাপের ঘটনা। ক্রাইস্টচার্চে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পথে তখন ইংল্যান্ড। তাদের সাফল্য আগেভাগে উদযাপন করতে শুধু মাথায় ব্যান্ড বাধা এক ইংলিশ দর্শক মাঠজুড়ে দৌড়ে বেড়ালেন!

এমন 'স্ট্রিকার্স' এর অনুপ্রবেশ বড় বিব্রতকর ক্রিকেটারদের জন্য, আয়োজকদের জন্য, দর্শকদের জন্য। এদের অবশ্য কাউকে ক্ষতি করা ইচ্ছে থাকে না। থাকে মনোযোগ আকর্ষণের পাগলাটে ইচ্ছা।

ইংল্যান্ডের মাঠে বেশ কিছু বিখ্যাত ঘটনা আছে এমন। ২০০৫ অ্যাশেজ। লন্ডনের ওভালে ম্যাচ। একজন পুরো নগ্ন নারী মাঠে ঢুকে পড়লেন। পেছনে লেখা ছিল গোভেগ ডট কম। ক্রিকেট মাঠে প্রথম নগ্ন নারীর এই ভাবে ঢুকে পড়ার দেশও ইংল্যান্ড। ১৯৯৬ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান প্রথম টেস্টের সময় মাঠজুড়ে দৌড়ে বেড়ালেন এমন একজন। ২০০৯ এ ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান রস টেলরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন এক অর্ধনগ্ন নারী ভক্ত। ক্রিকেটার লজ্জায় অবনত!

১৯৭০ এর সময়টাকে বলা হয় 'স্ট্রিকিংয়ের সোনালি যুগ'! তখন প্রায় নিয়মিত এমন দৃশ্য দেখা যেত। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত স্ট্রিকিং এর ঘটনা সম্ভবত ১৯৭৫ সালে ঘটেছে। হোম অব ক্রিকেট লর্ডসেই। একজন পুরো নগ্ন পুরুষ স্ট্রিকার দারুণ হাস্যরসের সৃষ্টি করেন ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট চলাকালে। ছুটতে ছুটতে প্রায় প্রত্যেক ফিল্ডারের কাছে গিয়ে হাসি দিয়েছেন তিনি। তারপর ব্যাটসম্যানের পাশ থেকে লাফ দিয়ে স্টাম্পের ওপর থেকে উড়ে গেছেন। এমন স্ট্রিকারদের অনেকেই অবশ্য পরে পেয়েছেন সেলিব্রেটি ইমেজ!


মন্তব্য