kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাশরাফি ভক্তের কাণ্ডে ক্রিকেট মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৩৬



মাশরাফি ভক্তের কাণ্ডে ক্রিকেট মাঠের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের তৃতীয় একদিনের আন্তর্জাতিকটি উত্তেজনা হারাচ্ছিল। এরই মধ্যে আফগানিস্তান সাতটি উইকেট হারানোয় এবং জয়ের লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থাকায় বিজয়ের ক্ষণ গুনছেন বাংলাদেশের সমর্থকেরা।

রাত ন'টা বাজতে কয়েক মিনিট বাকী আছে। উনত্রিশতম ওভারের একটি বল করতে ছুটে আসছেন তাসকিন আহমেদ। টেলিভিশনে যারা খেলাটি উপভোগ করছিলেন, তারা দেখলেন, তাসকিন বল ছুড়বার মুহুর্তেই অপর প্রান্তে থাকা আফগান ব্যাটসম্যান রশিদ খান হাত তুলে তাকে থামালেন।

তারপরই টিভি ক্যামেরা ঘুরে গেল, মাঠের ভেতরে থাকা বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার পানে ছুটতে থাকা এক ব্যক্তির দিকে। স্পষ্টতই তিনি খেলোয়াড় নন। তিনি কোন কর্মকর্তা কিনা, পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছিল না। কিন্তু এর পর ওই ব্যক্তিটি যেটা করলেন তা অভাবনীয়।

ব্যক্তিটি ছুটে গিয়ে মাশরাফিকে জড়িয়ে ধরলেন। মাশরাফিও কিছু বুঝে উঠতে না পেরে তাকে জড়িয়ে ধরলেন। ততক্ষণে সেখানে পৌঁছে গেছেন নিরাপত্তা কর্মীরা। তারা মাশরাফির ওই 'পাগল' ভক্তকে ছাড়িয়ে নিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু হাত তুলে তাদের ঠেকালেন মাশরাফি।

আরো কিছুক্ষণ 'স্বপ্নের' নায়ককে জড়িয়ে থাকার সুযোগ পেল ভক্ত। তারপর মাশরাফি তাকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন মাঠের বাইরের দিকে। তখনো নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে ধরতে গেলে হাত তুলে তাদের ঠেকালেন এবং কিছু একটা বললেন।

সম্ভবত বললেন, আমার এই পাগল ভক্তটিকে কিছু বলবেন না। এই ঘটনা দেখে আরো সবার মতো বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যান মাঠের প্রেসবক্সে উপস্থিত সাংবাদিকেরা।   দৈনিক কালের কণ্ঠের সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদ বিবিসিকে বলেন, "দশ বছর ধরে মাঠে এসে বাংলাদেশের খেলা দেখছি, কখনো কোনওদিন কোন দর্শককে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়তে দেখি নি"।

ক্রিকেট বিশ্বের অনেক জায়গাতেই এমন দর্শক ঢুকে পড়ার উদাহরণ আছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ বলছিলেন, বাংলাদেশে এমনটি কখনোই ঘটেনি। ক্রিকেটে, বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভেন্যুগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এমন কড়াকড়ি থাকে, যে কখনো কখনো বাড়াবাড়ি বলে মনে হতে পারে। খেলোয়াড়, আম্পায়ার ছাড়া সীমিত সংখক মানুষেরই মাঠে ঢোকার অনুমোদন থাকে।

কোন সাংবাদিকতো দূরে থাক, সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ম্যাচের সাথে জড়িত বহু কমূকর্তাই মাঠে ঢোকার সুযোগ পান না।

আর গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের তো মাঠের ভেতরে ঢোকার সুযোগই নেই। গ্যালারির সামনে এমনভাবে গ্রীল দেয়া এবং প্রবেশ-বাহিরের এমন ব্যবস্থা করা যে, তাদের মাঠের ভেতরে যাওয়ার কোন উপায়ই নেই। এরকম নিরাপত্তা কড়াকড়ির মধ্যে ওই দর্শকটি মাঠের ভেতরে ঢুকলেন কিভাবে?

এ ব্যাপারে মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকার পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। শুধুমাত্র মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিটিকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে তারা এখন করনীয় ঠিক করছেন। এই বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কথা বলতে রাজী হননি মিরপুর এলাকার পুলিশের উপকমিশনারও।

মাঠেরে ভেতরের এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য কয়েক মিনিট ম্যাচটি বন্ধ থাকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আফগানিস্তানের শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয়। আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ।

জুলাই মাসে ঢাকার গুলশান হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ইস্যুতে দলটির বাংলাদেশে আসা নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল তা এরই মধ্যে কেটে গেছে। ইংল্যান্ড দল গতকাল শুক্রবারই ঢাকায় পৌঁছে গেছে।

রবিবার থেকে তারা শুরু করতে যাচ্ছে অনুশীলন। এদিন তারা ঢাকার সাংবাদিকদেরও মুখোমুখি হবে বলে কথা রয়েছে। বিবিসি বাংলা


মন্তব্য