kalerkantho


শুরুতেই আঘাত হানলেন মাশরাফি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:১০



শুরুতেই আঘাত হানলেন মাশরাফি

২৮০ রানের টার্গেট। আফগানিস্তানের জন্য কঠিন হওয়ার কথা।

সেই কাজটি শুরুতেই আরো কঠিন করে দিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ইনিংসের প্রথম ওভারটি ছিল মেডেন। পরের ওভারে বিপজ্জনক মোহাম্মদ শাহজাদকে শূণ্য রানে ফিরিয়ে দিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক। তার ভেতরে ঢোকানো বলকে বুঝতে না পেরে বোল্ড শাহজাদ। ২.১ ওভারে ৫ রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে আফগানরা। তার মানে কোনো রান দেওয়ার আগেই উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। অবশ্য পরের বলটি করতে গিয়েই ডেলিভারির আগে পড়ে গিয়েছিলেন মাশরাফি। ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন সবাই। তবে কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে আবার বোলিংয়ে ফিরেছেন অসীম সাহসী ক্রিকেটার। এই রিপোর্ট লেখার সময় ৩ ওভারে ১ উইকেটে ৬ রান আফগানিস্তানের।  

এর আগ টস জিতে ব্যাট করেছে স্বাগতিকরা। ১১৮ বলে ১১৮ রান করে ফিরলেন তামিম ইকবাল। তার দারুণ সৈন্দর্য্যের ইনিংসটি শেষ হলে বাংলাদেশের স্কোর ৩৮.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১২ রান। টাইগারদের রান শেষ পর্যন্ত ৩০০ পেরোবে এমনটা তখন আশা করাই যায়। কিন্তু শেষ ১০ ওভারে স্লগ করার বদলে উইকেটে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হলো স্বাগতিকদের। টপাটপ উইকেট পড়তে থাকলো। প্রথম ম্যাচের পর সিরিজের শেষ ম্যাচেও শেষ দশ ওভারে পতনের মুখ পেড়ে টাইগাররা। ৫টি উইকেট পড়লো। শেষ ১০ ওভারে রান উঠল ৬৪। তাতে লড়ার মতো একটা স্কোর অবশ্য পেল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে করল ২৭৯ রান।

সৌম্য সরকার এদিন বাজে শটে আউট হলেন ১১ করেই। তামিম ইকবাল ব্যক্তিগত ১ রানে ক্যাচ তুলেছিলেন। আফগান অধিনায়ক আসগর স্তানিকজাই নিশ্চয়ই কপাল চাপড়েছেন পরে। কারণ, সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন তিনি। এরপর ১১৭ রান করেছেন তামিম। সাব্বির রহমানের সাথে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সিরিজ সর্বোচ্চ ১৪০ রানের জুটিও গড়েছেন। সাব্বির করেছেন দারুণ ৬৫ রান। শেষে ২২ বলে মাহমুদ উল্লাহর অপরাজিত ৩৩ রানের বড় ভূমিকা থাকলো দলের সংগ্রহে। ১১০ বলে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি হয়েছে তামিমের। ১১৮ রানের ইনিংসে ১১টি চার ও দুটি ছক্কা। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সর রেকর্ডের মালিক তামিম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতেও একক ভাবে সবার সেরা এখন। সাকিব আল হাসানের ৬ সেঞ্চুরিকে ছাড়িয়ে গেছেন এদিন।

আগের ম্যাচে স্পিন দারুণ সাফল্য পেয়েছিল আফগানরা। এবার তারা চার স্পিনার নিয়ে নামল। বোলিং ওপেন করলেন অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবি। বাকি তিনজন লেগি। কিন্তু সাব্বির ও তামিমের কাছে সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি স্পিনাররা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৮ উইকেটের ৫টি তাদেরই। তামিম-সাব্বির সাড়ে ৫ এর ওপর গড় রান তুলেছেন। তিন নম্বরে সুযোগ পেয়ে সাব্বির প্রমাণ করেছেন নিজেকে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি পেয়েছেন। তার ৭৯ বলের ৬৫ রানে আছে ৬টি বাউন্ডারি ও ৩টি চমৎকার ছক্কা।

ছক্কার মার তামিমের ইনিংসে এসেছে সেঞ্চুরির পর। ১০০ করেছেন ১১০ বলে। ছিল ১০টি বাউন্ডারি। কিন্তু এরপর শুধু মারতে চেয়েছেন। লেগি রহমত শাহকে টানা দুই ছক্কা মেরেছেন। একটি বাউন্ডারিও। ওই ওভারে এসেছে ১৮ রান। পরের ওভারেই অবশ্য নবিকে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তামিম। ১১টি চার ও ২ ছক্কার ইনিংসটি শেষ করার আগে বন্ধু সাকিবের সাথে ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯ রানের জুটিও গড়ে গেছেন।

কিন্তু জুটি আর হয়নি পরে। অষ্টম উইকেটের ২২ই বলার মতো কিছু। সাকিব (১৭), মুশফিকুর রহিম (১২) ও মোসাদ্দেক হোসেনকে (৪) ৯ রানের মধ্যে ফিরিয়ে দিয়ে লড়াইয়ে ফেরে আফগানরা। এই লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন টিনএজার রশিদ খান। মাহমুদ উল্লাহ এদিন ৬ নম্বরে নেমে শেষটা আগলে রাখলেন। চাপের মুখেও অভিজ্ঞতায় দলকে এগিয়ে রেখেই ফিরলেন।  

এই ম্যাচ জিতলে ৩ ওয়ানডের সিরিজ ২-১ জিতবে বাংলাদেশ। হারলে ওয়ানডের বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ৭ থেকে নেমে যাবে আট নম্বরে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেটি ৭ রানে জিতেছিল তারা। পরের ম্যাচ হেরেছিল ২ উইকেটে। সেই হিসেবে এটি মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের জন্য বাঁচামরার লড়াইও। এটি জিতলে তা হবে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের ১০০তম জয়। হবে রেকর্ড টানা পঞ্চম সিরিজ জয়ও।


মন্তব্য