kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফিরে এসে তাসকিনই জেতালেন টাইগারদের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৪১



ফিরে এসে তাসকিনই জেতালেন টাইগারদের

গত জুনে খেলেছেন শেষ ওয়ানডে। এই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন।

কিন্তু অবৈধ বোলিং অ্যাকশন শুধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই তরুণ তাসকিন আহমেদ ম্যাচ জেতালেন বাংলাদশেকে। তাও প্রায় হারতে বসা ম্যাচ। ৪৮তম ও ৫০তম ওভারে বল করেছেন। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। ৪ উইকেট তার ৫৯ রানে। টাইগারদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল আফগানরা। কিন্তু তাসকিনের কারণে একটুর জন্য না পারার আক্ষেপ তাদের। ম্যাচের শেষ বলে ২৫৮ রানে অল আউট তারা। রবিবার মিরপুরে আফগানদের ৭ রানে হারাল টাইগাররা। ৩ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

শেষ বলে অল আউট হয়েছিল বাংলাদেশ। করেছিল ২৬৫ রান। এরপর হারের শঙ্কা জাগে তাদের সামনে। কিন্তু বোলাররা দারুণ লড়ে ম্যাচ জেতালেন। রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছিল খেলা। ১৮ বলে জিততে ২৭ রান দরকার ছিল আফগানদের। হাতে ছিল ৫ উইকেট। এই সময় ৪৮তম ওভারে তাসকিন ৬ রান দিয়ে দুই উইকেট নিলেন। পরের ওভারে রুবেল হোসেন ৮ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। শেষ ওভারে জিততে আফগানদের দরকার ১৩ রান। কিন্তু দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ বলে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। আফগানরা তুলতে পেরেছে ৫ রান। আক্ষেপ তাদের ৮ রানের।  

ফিরে আসার পর নিজের প্রথম বৈধ বলেই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদের উইকেট পেতে পারতেন ২১ বছরের তাসকিন। ওটা বোলিংয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ওভার। ইমরুল কায়েস সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন। এরপর সপ্তম ও অষ্টম ওভারে জোড়া আঘাত বাংলাদেশের। মাশরাফি বিন মর্তুজা তুলে নিলেন শাহজাদের (৩১) উইকেট। সাকিব আল হাসান নিজের তৃতীয় বলেই শিকার করেন সাবির নুরিকে। সাকিবের এটি ওয়ানডেতে ২০৭ উইকেট। আব্দুর রাজ্জাকের সাথে হলেন দেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। সেই সাথে টেস্ট, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের তিন ফরম্যাটেই দেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়লেন। পরে আরেকটি উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতেও একক ভাবে শীর্ষে গেছেন সাকিব।

তবে সাকিবের ওই উইকেট সহজে আসেনি। বাংলাদেশও পেরিয়েছে দারুণ উৎকণ্ঠার প্রহর। ১৪৪ রান তৃতীয় উইকেটে। এই উইকেটে আফগানদের রেকর্ড জুটি হাশমাতুল্লা শাহিদি (৭২) ও রহমত শাহর (৭১)। ৪১তম ওভারে রহমতকে তুলে নিয়ে ব্রেক থ্রু দেন সাকিব। তাইজুল ইসলাম এরপর নেন শাহিদির উইকেট। ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের শেষ ৭ উইকেট পড়েছিল ৬৯ রানে। শেষ দশ ওভারে। আফগানদের ৯ উইকেট পড়লো শেষ দশ ওভারে। খেলাটা হলো ওখানেই। তারাও তুলতে পারলো ৬৯ রান। মাশরাফি নাজিবুল্লা জাদরানকে তুলে নেওয়ার পর তাসকিনের তাণ্ডব শুরু। ২টি করে উইকেট মাশরাফি ও সাকিবের। ১ট কিরে উইকেট তাইজুল ও রুবেলের। তাসকিন শেষের নায়ক হলেও ম্যাচের সেরা সাকিব। ১০ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়েছেন। তার আগে ৪০ বলে করেছেন ৪৮ রান। বিশ্বের সেরা অল রাউন্ডার বলে কথা!

আর আগের গল্পটা তামিম ইকবালের ৮০, মাহমুদ উল্লাহর ৬২, সাকিবের ৪৮ ও ইমরুল কায়েসের ৩৭ রানের। শেষ দশ ওভারে ব্যাটসম্যানরা এমন ফেরার মিছিল না করলে রানটা আরো বড় হত পারতো। প্রথম ওভারে সৌম্য সরকারকে (০) হারানোর পর তামিম ও ইমরুল করেছেন ৮৩ রানের জুটি। তামিম ও মাহমুদ উল্লাহ এরপর ৭৯ রান দিয়েছেন। ব্যাক টু ব্যাক ফিফটি তামিম ও মাহমুদ উল্লাহর। তামিম আবার দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন সংস্করণের ক্রিকেট মিলিয়ে ৯ হাজার রানের ক্লাবে ঢুকেছেন।

দশ মাস পর ওয়ানডেতে ফেরা বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে পুরোপুরি জড়তা কাটাতে পারেনি। প্রমাণ শেষ দশ ওভারে। ফিল্ডিংয়েও কিছু সমস্যা দেখা দিল। কিন্তু শেষ ১০ ওভারেই আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে বোলাররা শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রমাণ দিলেন। হারের চোখ রাঙানীকে জয় করে টাইগাররা ওয়ানডেতে গেল বছরের জয়ের ধারাবাহিকতারই প্রমাণ রাখলো। হোক না প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। ম্যাচটা তো ছিল টান টান উত্তেজনারই!


মন্তব্য