kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাকিবের আঘাতে টাইগারদের ফেরার শেষ চেষ্টা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৫২



সাকিবের আঘাতে টাইগারদের ফেরার শেষ চেষ্টা

তৃতীয় উইকেটে ১৪৪ রান। হাশমাতুল্লা শাহিদি ও রহমত শাহ এই উইকেটে তাদের রেকর্ড জুটি গড়ে ফেলেছেন আগেই।

কিছুতেই তাদের আলাদা করা যাচ্ছে না। এই সময় সাকিব আল হাসান আঘাত হানলেন। তাতে ফেরার চেষ্টায় টাইগাররা। এই ব্রেক থ্রুর পরও বাংলাদেশের সামনে সীমিত সুযোগ। পারবে কি টাইগাররা? নাকি অঘটন ঘটিয়ে ছাড়বে আফগানরা?

এই রিপোর্ট লেখার সময় ৪২ ওভারে ৩ উইকেটে ২০০ রান আফগানিস্তানের। তাদের সামনে ২৬৬ রানের টার্গেট। ৪৮ বলে করতে হবে শেষ ৭ উইকেট। মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের চ্যালেঞ্জ এর আগেই তাদের শেষ করে দেওয়া বা ঠেকিয়ে দেওয়া। জমে উঠেছে ম্যাচ। সেট ব্যাটসম্যান শাহিদি ৭১ রানে ব্যাট করছেন। অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবি (৪) যোগ দিয়েছেন তার সাথে।

৪০তম ওভারের শেষ বল। তাইজুল ইসলামের বলে মাহমুদ উল্লাহ ক্যাচ ছাড়লেন শাহিদি (৬৩)। আফগানরা তখন ২ উইকেটে ১৮৮। পরের ওভারটি সাকিবের নবম। ওভারের প্রথম দ্বিতীয় বল। রহমত (৭১) তাকে খেলতে বেরিয়ে বল মিস করলেন। মুশফিক স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার বানালেন। আব্দুর রাজ্জাককে ছাড়িয়ে ২০৮ উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড হলো শুধুই সাকিবের। শেষ উইকেটটি আফগানরা হারিয়েছিল অষ্টম ওভারে। নিয়েছিলেন সাকিবই। ১৯০ রানে তৃতীয় উইকেট হারাল আফগানিস্তান। খেলাটা এখনো তাদের হাতেই।   

বিপজ্জনক মোহাম্মদ শাহজাদের ফিরে যাওয়ার কথা কোনো রান না করেই। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরা তাসকিন আহমেদের করা ইনিংসের প্রথম বৈধ বলেই। কিন্তু ফার্স্ট স্লিপে রেগুলার ক্যাচটি ছাড়লেন ইমরুল কায়েস। ইঙ্গিতটা ভালো ছিল না। কিন্তু পরপর দুই ওভারে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিব আল হাসানের আঘাতে চাপের মুখে পড়ে আফগানিস্তান। তৃতীয় উইকেটে চমৎকার জুটি গড়ে দলকে টেনে তুলেছেন রহমত ও শাহিদি।

শাহজাদ বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফিকে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু পরের বলেই শোধ নিয়েছেন নড়াইল এক্সপ্রেস। ২১ বলে ৩১ রান করে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শাহজাদ। এর পরের ওভারটি সাকিবের প্রথম। তৃতীয় বলেই তার আঘাত। অন্য ওপেনার শাবির নুরিকে (৯) এলবিডাব্লিউর ফাঁদ ফেললেন। সেই সাথে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওয়ানডে উইকেট শিকারের রেকর্ডে আব্দুর রাজ্জাকের (২০৭ উইকেট) পাশে বসলেন। তিন সংস্করণের ক্রিকেটেই দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বিশ্বের একমাত্র বোলার সাকিব।  

এর আগে তামিম ইকবালের ৮০, মাহমুদ উল্লাহর ৬২, সাকিব আল হাসানের ৪৮ ও ইমরুল কায়েসের ৩৭ বাংলাদেশকে মাঝারি সংগ্রহটা গড়ে দিয়েছে। বাকিদের মধ্যে ৯ নম্বরে তাইজুল ইসলামের ১১ সর্বোচ্চ। শেষ ৪ উইকেট পড়েছে ১৯ রানে। ৪০ ওভারে দলের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৯৬। কিছু রান তো কম হয়েছেই বটে।

সৌম্য সরকার ইনিংসের পঞ্চম বলে শূণ্য রানে আউট হয়েছেন। এরপর ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল ৮৩ রানের জুটি গড়েছেন। দশ মাস পর ওয়ানডেতে ফিরে সেই হিসেবে আর ধাক্কা খেতে হয়নি টাইগারদের। এই দুইজন বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ গেত নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪৭ রানের উদ্বোধনী জুট গড়েছিলেন। দুজনই করেছিলেন ৭৩ রান। কায়েসের বিদায়ের পর মাহমুদ উল্লাহ ও তামিমের ৭৯ রানের জুটি।

২০ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ নিয়ে ফেরার সময় তামিমের সাথে অবশ্য একটা মাইলফলক ফিরেছে। তিন সংস্করণের ক্রিকেট মিলিয়ে ৯০০০ রান করা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হয়েছেন এই বাঁ হাতি। ৯৮ বলে ৮০ রানে তার বিদায়ের সময় দলের গড় রান সাড়ে চারের ওপর। মাহমুদ উল্লাহ ১৬ রান নিলেন দৌলত জারদানের এক ওভারে। কিন্তু ছন্দ পতন দ্রুত। আফগানদের চমৎকার বোলিং এবং স্বাগতিকদের কিছু ভুলে উইকেট পড়ে টপাটপ। স্লগ ওভারে স্লগ আর করা হয় না। তাই শেষ পর্যন্ত শঙ্কা উড়ে বেড়ায়।


মন্তব্য