kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিসিবি একাদশকে হারিয়েই দিল আফগানিস্তান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:১৪



বিসিবি একাদশকে হারিয়েই দিল আফগানিস্তান

যতক্ষণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ছিলেন ততক্ষণ মনে হয়েছে সম্ভব। কিন্তু মাত্রই জাতীয় দলে ঢোকা ২০ বছরের মোসাদ্দেক ৭৬ রান করে আউট হওয়ার পর সব খুব কঠিন হয়ে গেল।

দেখতে না দেখতে শেষ হলো বিসিবি একাদশের ইনিংস।

ওয়ানডে সিরিজের আগে ফতুল্লায় একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি ৬৬ রানে জয়ের উৎসবে মাতল আফগানিস্তান। সেই সাথে বাংলাদেশ জাতীয় দলকেও হুঁশিয়ারি দিল তারা। ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টাইগারদের পরীক্ষায় ফেলার ইঙ্গিত দিল।

আগে ব্যাট করে ৪৯.২ ওভারে ২৩৩ রান করেছিল আফগানরা। সেই হিসেবে স্বাগতিকদের বোলিং ভালো হয়েছে। কিন্তু ব্যাটিং শুরুতেই ভেঙে পড়ল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংসে মোসাদ্দেকের লড়াই ছাড়া আর বলার মতো কিছু থাকল না। ৩৮.১ ওভারে ১৬৭ রানে অল আউট বিসিবি একাদশ।

এই বিসিবি একাদশের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। মূল দলের সাব্বির রহমান ও মোসাদ্দেক এই দলে। খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বোলাররা বড় রান করত দেননি আফগান ব্যাটসম্যানদের। দরকার ছিল বিসিবি একাদশের ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং। ইচ্ছেমতো ব্যাটসম্যান খেলানোর সুযোগ ছিল বলে ব্যাটিং লাইন আপও ছিল দীর্ঘ। কিন্তু শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া বিসিবির ব্যাটিং আর কক্ষপথে ফিরতে পারেনি।

২৩ রানে ২৩ উইকেট, ৩৯ রানে ৪। নেই ইমরুল (৮), এনামুল হক (৫), সাব্বির রহমান (৯) ও লিটন দাশ (৬)। চার নম্বরে নামা মোসাদ্দেক নিজের কাঁধে নেন দায়িত্ব। অনূর্ধ্ব ১৯ দলের স্টার মেহেদি হাসান মিরাজের (১৫) সাথে ৫৬ রানের জুটি হলো। তাতে ধস সামলানো গেল। এরপর শুভাগত হোম (৩৪) ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করলেন। কিন্তু মোসাদ্দেক ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হলেন ১৫৪ রানের সময়। ৫টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছক্কার মার তার ইনিংসে। এরপর আর বিসিবি একাদশকে সুযোগ দেননি আফগান বোলাররা। মাত্র ১৩ রানের মধ্যে শেষ ৫ উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিক দলকে শেষ করে দিয়েছেন। ৩ ব্যাটসম্যান ছাড়া বিসিবি একাদশের আর কেউ দুই অংকেও পৌঁছাতে পারেননি। অভিজ্ঞ অফ-স্পিনার মোহাম্মদ নবি ৪ উইকেট নিয়েছেন। লেগ-স্পিনার রশিদ খানের শিকার ২ উইকেট। ২ উইকেট পেয়েছেন বাঁ হাতি পেসার ফারিহ আহমেদও।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামা বিসিবি একাদশের বোলারদের শুরুটা ছিল দারুণ। ৪৭ রানে আফগানিস্তানের ৩ উইকেট তুলে নেন তারা। এরপর হাশমতউল্লা শহিদির ৬৯ রানের প্রতিরোধ ও আরো তিনটি ত্রিশের বেশি স্কোরে বলার মতো একটা স্কোর পেয়েছে আফগানরা।

তিন ডান হাতি পেসার আলাউদ্দিন বাবু, আবু হায়দার ও শুভাশিস রায় দারুণ পারফর্ম করলেন। ৮.২ ওভারে ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার আলাউদ্দিন বাবু। দুটি করে উইকেট আবু হায়দার ও শুভাশিসের। তারা স্বচ্ছন্দে খেলতে দেননি সফরকারীদের। সপ্তম বোলার হিসেবে বল হাতে পেয়ে টিনএজ অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ নিয়েছেন ৩ উইকেট। আসগার স্তানিকজাই ৩১, রশিদ খান ৩০ ও মিরওয়াইজ আশরাফ অপরাজিত ৩২ রান করেছেন।

২৫ ও ২৮ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তান সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশের সাথে। ১ অক্টোবর সিরিজের শেষ ম্যাচ। তিনটি ম্যাচই হবে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।


মন্তব্য