kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রুটি-রুজির কষ্ট এক আর্জেন্টাইন ফুটবলারেরও!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:২১



রুটি-রুজির কষ্ট এক আর্জেন্টাইন ফুটবলারেরও!

আর্জেন্টিনা ফুটবলের দেশ। লাতিন আমেরিকার দেশটি দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

যে দেশে জন্ম ডিয়েগো ম্যারাডোনার মতো শতাব্দি সেরা ফুটবলারের। যেখান থেকে উঠে আসা লিওনেল মেসির মতো রেকর্ড ৫বারের ফিফা বিশ্ব সেরা ফুটবলারের খেতাব জেতা খেলোয়াড়ের। মেসি বেতনের হিসেবে বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলার। সপ্তাহে আয় বাংলাদেশি টাকায় প্রায় তিন কোটি। কিন্তু সেই দেশের একজন ফুটবলারকেই কি না রুটি-রুজির কষ্টে থাকতে হয়! নির্ভর করতে হয় সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে সরকারের দেওয়া পেনশনের ওপর? ভাবতে হয় আর কদিন পর কি হবে! কিভাবে চলবে সংসার!
 

ফ্রোইলান পাদিলা এমনই একজন ফুটবলার। মেসি কিংবা আর্জেন্টিনার অন্য ফুটবলারদের সাথে তার পার্থক্য তিনি মূলধারার খেলোয়াড় নন। তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ফুটবলার। খেলেন ফুটবল ফাইভ বা দৃষ্টিহীনদের ফুটবল। অনেক সাফল্য তার। শনিবারই ব্রাজিলের রিওতে জিতলেন প্যারা অলিম্পিক ফাইভ-এ-সাইড ফুটবলের ব্রোঞ্জ পদক। আর এই ব্রোঞ্জ পদকের মানে পাদিলার কাছে 'পেনশন'। একটু ভালো থাকার নিরাপত্তা। নিশ্চয়তা। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটায় চীনের বিরুদ্ধে জীবনটাই তাই বাজি রেখেছিলেন তিনি।

আর্জেন্টিনার প্যারা অলিম্পিক পদকজয়ীরা সরকারের কাছ থেকে ৪০ বছরের পর পেনশন পান। পাদিলার বয়স এখন ৩৭। ম্যাচের আগে তাই পাদিলা বলেছিলেন, "এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচ। " বহুবছর ঘর বাড়ি ছিল না তার। "আমার চাকরি ছিল না। চার্চে ঘুমাতাম। "

 

চীনের সাথে ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে গোল হলো না। লন্ডনে গেল প্যারা অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে হারার কষ্ট তার আছে। এবার ভয় লাগলো খুব। এই বুঝি 'পেনশন'টা হাতের মুঠো গলে বেরিয়ে যায়! শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে জিতে আনন্দের অশ্রুধারায় ডুবেছেন পাদিলা। ২০১৫ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তারা। ২০১৪ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ছয় বিশ্ব সেরা খেলোয়াড়ের একজন হয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার।

এই পদক তার ও তার পরিবারের জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাই ব্যাখ্যা করলেন পাদিলা, "আমার এখন ৩৭ বছর বয়স। আমি ফুটবল ছাড়তে না চাইলেও ফুটবল আমাকে ছেড়ে যাবে। কয়েক বছর পর কোচ আমাকে আর ডাকবে না। তাই এটা আমার জীবনের শেষ সুযোগের মতোই ছিল। রাষ্ট্রের পেনশনের জন্য এই পদকের ওপর আমরা নির্ভরশীল। " শেষে ঘোষণার মতো করে আর্জেন্টাইন ফুটবলার বলেন, "আমি আমার পরিবারের রুটির জন্য খেলি। এটা তাই আমার জন্য সোনার ব্রোঞ্জ পদক। "


মন্তব্য