kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

সাকিব-তামিমদের মতো হতে আগ্রহী অনেক শিশু-কিশোর

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:২১



সাকিব-তামিমদের মতো হতে আগ্রহী অনেক শিশু-কিশোর

মাথায় হেলমেট। পরনে সবুজ লাল জার্সি।

হাতে ব্যাট। পায়ে প্যাড। ঢাকার আবাহনী মাঠে অনুশীলনে ব্যস্ত ক্লাস ওয়ানের রায়হান। ক্রিজে দাঁড়িয়ে ব্যাট করছে। আর তার দিকে বল ছুড়ে দিল যে সেও তার মতো এক শিশু। রায়হান সম্প্রতি শিশু-কিশোরদের এক ক্রিকেট টুর্নামেন্টে শতরান করেছে। ঢাকার ধানমণ্ডি এলাকার আবাহনী মাঠে বিকেলের দিকটায় গিয়ে দেখা গেল এমনই সব ক্ষুদে ক্রিকেটাররা ক্রিকেটের কলাকৌশল রপ্ত করায় ব্যস্ত। তাদের একজন বলছিল, সে অল রাউন্ডার হতে চায়। আরেকজন জানায় সে ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটার হতে চায়। যে এই ছোটবেলার কথা বলছে তার নিজের এখন বয়স হবে ১০ কিংবা ১২ বছর!

একেকজন বলে ওঠে মাশরাফি ভাই আমার আইডল। শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ক্রিকেট একাডেমিতে গিয়েও দেখা গেল এই দৃশ্য। সেখান কথা হচ্ছিল তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ রহমান সানির সাথে। বোলার মুস্তাফিজুর রহমানের খেলা দেখে ক্রিকেটে আগ্রহী হয় সে।

মর্নিং শিফটে স্কুল সেরে বিকেলের সেশনে ক্রিকেট খেলা শিখতে আসে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ক্রিকেট একাডেমিতে। এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে প্রতিদিন তাকে নিয়ে মা বেগম নাহিদ রহমান আসেন। তিনি জানান, ছেলে এবং তার বাবা দুজনই চান ছেলে ক্রিকেট শিখুক। আরেকজন মা পেশায় শিক্ষিক সামিরা সাইদ জানান, তার ছেলে আগে ব্যাডমিন্টন খেলত। সেটা ছেড়ে এখন ক্রিকেটে ভর্তি হয়েছে বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের খেলা দেখে। এসব একাডেমিতে এক থেকে দেড় শ'র মতো শিক্ষার্থী ক্রিকেট শিখছে। সকাল ও বিকেল দুইবেলা করে প্রশিক্ষণ চলে। সব ধরনের পরিবার থেকেই আসছেন শিক্ষার্থীরা।

ডিসকভারি ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষক সাজাহান হোসেন সাজু জানান, ক্রমশ ক্রিকেটে আগ্রহ বাড়ছে শিশু-কিশোরদের। সাথে বাবা মায়েদেরও। কিন্তু এসব একাডেমি কতটা নির্ভুল ও সঠিক পদ্ধতিতে ক্রিকেট শেখাতে পারছে? জানতে চাইলে সাজাহান হোসেন বলেন, এ ক্ষেত্রে ক্লাবগুলো সচেষ্ট। কিন্তু প্রযুক্তিগত সুবিধা না থাকায় বিসিবির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ধানমণ্ডি ক্রিকেট একাডেমির প্রশিক্ষক সাদিকুজ্জামান পিন্টু বলেন, অনেক প্রতিভা নিয়ে ক্রিকেট শিখতে আসে কিন্তু এএসসি পর্যায়ে গিয়ে ঝরে যায়। তবে সন্তানকে একজন ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তেলাটাকে গর্বের বিষয় বলেও মনে করছেন এখনকার অনেক অভিভাবক। এমনই একজন সন্তানের সাথে মাঠে আসা তপন কুমার সরকার।

তার মতে, বাংলাদেশে একজন ভালো ক্রিকেটার হয়ে ওঠা সহজ কাজ নয়। সেখানে একজন মাশরাফি, সাকিব কিংবা তামিম ইকবালের মতো খেলোয়াড় হতে পারলে তাকে সবাই চেনে। সেটা বাবা-মা সবার জন্যই গর্বের বিষয়। সরকারি ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে লেখাপড়ার পাশপাশি ক্রিকেট কোচিং এর ব্যবস্থা তো আছেই। কিন্তু এর বাইরে একটি বড় অংশ এখন এসব প্রাইভেট একাডেমি থেকে ক্রিকেট কোচিং নিচ্ছে। আর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যের সাথে তাল মিলিয়েই যেন দিন দিন বাড়ছে ক্রিকেটে আগ্রহীদের সংখ্যাও। এখান থেকেই আগামী দিনের মাশরাফি-সাকিব-মুস্তাফিজরা বের হয়ে আসবে কি না তা এখনই বলা না গেলেও, তাদের চেষ্টা আর আগ্রহের কমতি নেই।

 


মন্তব্য