kalerkantho


মাঠে গিয়ে মেসির পায়ে চুমু খেলেন সমর্থক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০১:২৫



মাঠে গিয়ে মেসির পায়ে চুমু খেলেন সমর্থক

শেষ বাঁশি তখন বাজল বলে। আর বাঁশি বাজলেই আনন্দের বুদ বুদ ছড়িয়ে পড়বে গ্যালারিতে, এমনই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু আচমকা কী যে হল!‌ হঠাৎ করে মাঠের ভেতর ছুটতে দেখা গেল একজনকে!‌ না, তিনি আর্জেন্টিনার ফুটবলার নন। নন উরুগুয়ের ফুটবলার। তা হলে কে?‌ গুঞ্জন যখন চতুর্দিকে, তখন কোনো কিছুর পরোয়া না করে, পরিচয়পত্র কাউকে দেখানোর ইচ্ছে প্রকাশ না করেই দেখা গেল তাঁকে ছুটতে!‌ ছুটতে, ছুটতে পৌঁছে গেলেন প্রায় মাঝ মাঠে। আর পৌঁছেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন লিওনেল মেসির বুকে। ঘটনার আকস্মিকতায় খানিকটা হকচকিয়ে গেলেন এল এম টেন। কিন্তু পর মুহূর্তেই কাটল সেই আকস্মিকতা। ভালবাসার স্পর্শে। ওই মুহূর্তে অপরিচিত একটি কথাও বলছিলেন না। খালি মেসিকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। বুকের ভেতর জমে থাকা শব্দগুলো, জমে থাকা কান্না— সব ফেটে পড়তে চাইছিল। কিন্তু লিও-‌কে জড়িয়ে ধরে নিজেকে বেঁধে রাখার চেষ্টা করছিলেন অপরিচিত!‌ কোপা ফাইনালে হারের পর, মুহূর্তের আবেগে, উত্তেজনায় লিও মেসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা কতখানি কষ্ট দিয়েছিল, তা শুধু ওই অপরিচিত জানেন। আর জানেন আর্জেন্টিনীয়রা। তাই তো গোটা আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি হয়ে ওই অপরিচিত পৌঁছে গিয়েছিলেন মেসির কাছে। বলতে চাইছিলেন, ‘‌লিও , তোমায় ছাড়া আমরা রিক্ত। আমরা নিঃস্ব। ’‌ কয়েক মুহূর্ত ওভাবে জড়িয়ে থাকার পর, হাঁটু মুড়ে মাটিতে বসে পড়লেন অপরিচিত। তারপর?‌ লিও মেসির পায়ে মাথা ঝুঁকিয়ে প্রণাম করলেন। তারও পর?‌ চুমু খেলেন পায়ের পাতায়। সেই সঙ্গে মনে মনে হয়ত বলে ফেললেন, ‘‌ধন্যবাদ, ধন্যবাদ লিও। আবার সাদা-‌নীল জার্সিতে ফিরে আসার জন্য। ’‌ আর্জেন্টিনীয় এই সমর্থকের ভালবাসায় সত্যি সত্যিই ভেসে গেলেন মেসি। কিন্তু ওই আবেগঘন সময়ে ছন্দপতন ঘটালেন পুলিশরা। ওই আর্জেন্টিনীয় সমর্থককে একরকম জোর করেই টেনে নিয়ে গেলেন মাঠের বাইরে। কিন্তু ওই মুহূর্তের রেশ কী মেসির মন থেকে কেড়ে নেয়া অতই সহজ?‌ তাই তো এল এম টেন ম্যাচ শেষে বললেন, ‘‌আমাকে এখানে আসতেই হত। ফিরতেই হত। কারণ, প্রথমে আমিই বলেছিলাম, আর ফিরব না। আসব না। তাই একটা ধন্ধ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কোপা ফাইনালে হারের পর, অবসর ঘোষণার পর থেকে যে পরিমাণ লোকের ভালবাসা পেয়েছি, আবেগ দেখেছি তা সত্যিই আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। এত, এত ভালবাসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। ’‌ অবসর ভেঙে ফিরে আসার পর, দেশের জার্সি গায়ে দেয়ার অনুভূতি, ঠিক কতখানি মধুর?‌ আবেগ আর দৃঢ়তার মিশেল ঘটল যেন প্রশ্ন শুনেই!‌ মেসি বললেন, ‘‌জাতীয় দলে ফিরে, জার্সি গায়ে দিয়ে খুব ভাল লাগছে। তবে একটা কথা বলতে চাই, আমি কিন্তু কারও সঙ্গে ছলনা করিনি। ছলনা করব বলে অবসর নিইনি। আসলে ওই মুহূর্তটাই অদ্ভুত ছিল!‌ সেদিন আমরা প্রত্যেকেই হতাশ ছিলাম। যা ঘটেছিল, মানতে পারছিলাম না। তাই ওরকম একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেছিলাম। কিন্তু পরে ভাল করে ভেবে দেখেছি। বাউজার সঙ্গে কথা বলেছি। যাঁরা আমার পাশে ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারপরই সিদ্ধান্ত বদলেছি। ’ মেসি কি নিন্দুকদের বার্তা দিতে চাইলেন?‌ কিছু কি বুঝিয়ে দিলেন তাঁদের, যাঁরা বলেছিলেন অবসরটা অভিনয়?‌ হয়ত। মাঝের এই সময়ে সত্যি সত্যিই আরও পরিণত হয়েছেন এল এম টেন!‌ তবে চোট–সমস্যা তাঁকে ভোগাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের যোগ্যতা পর্বের পরের ম্যাচে আদৌ খেলবেন কি না, নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি মেসি। জানিয়েছেন, ‘‌ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারব কি না জানি না। কুঁচকিতে তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে। তবে যা, যা চলছিল, সেগুলো থামাতেই এখানে এসেছিলাম। ’‌

সূত্র: আজকাল


মন্তব্য