kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অনেকদিন পর ব্যাট-বল হাতে একসাথে; সাবেকদের উচ্ছাস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৫৯



অনেকদিন পর ব্যাট-বল হাতে একসাথে; সাবেকদের উচ্ছাস

কেউ খেলা ছেড়েছেন সত্তুরের দশকে, কেউ আবার একবিংশ শতাব্দীতে। ক্রিকেট ছাড়ার পর কেউ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, কেউ আবার নিজের ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত।

তাই চাইলেই একজন আরেক জনের সাথে দেখা বা আড্ডা দেয়ার সময় পান না। পরিবার-পরিজন নিয়েও একত্রিত হওয়া হয়ে উঠে না। এক সাথে মাঠে দীর্ঘ সময় কাটালেও জীবিকার তাগিদেই এখন সবাই ব্যস্ত। বছরের পর বছর ধরে একত্রিত হতে না পারার আক্ষেপটা যেনো পোড়াচ্ছিল সাবেক ক্রিকেটারদেরও। অবশেষে তাদের সেই আক্ষেপ কিছুটা হলেও দূর হয়েছে “মাস্টার্স ক্রিকেট কার্নিভাল” আয়োজনের মধ্য দিয়ে। আবারো সবাই একই ছাদের নিচে আসতে পেরে যেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছেন।

প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ কার্নিভালে খেলতে গত ৩১ আগস্ট কক্সবাজার পৌঁছেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। এখানে আসার পর থেকেই যে যাকেই সামনে পাচ্ছে সেলফি তুলছে। কেউ আবার নিজ দলের সবাইকে একত্রিত করে ফ্রেমবন্দি হচ্ছেন। কেউ কেউ ফিরে যাচ্ছেন অতীতে। সতীর্থ কিংবা সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে আড্ডাও দিচ্ছেন কেউ কেই। নিজেদের ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ আবার বর্তমান জাতীয় দল কিংবা নিজেদের পারিবারিক অবস্থা নিয়ে ব্যস্ত আলোচনায়। দীর্ঘ কয়েক দশক পর একজন আরেক জনকে কাছে পেয়ে যারপরনাই উচ্ছ্বসিত, আনন্দিত। শুধু উচ্ছ্বসিত বললে ভুল হবে, কেউ কেউ আবার ভাসছেন আবেগেও। যেন হারানো ভাই-বন্ধু খুঁজে পেয়েছেন তারা। সাবেক ক্রিকেটারদের পদচারণায় এখন মুখরিত সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজার।

সবই যেনো পিকনিক মুডে সময় কাটাচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্রিকেটারই পরিবারসহ এসেছেন। যখন খেলা থাকছে না, তখনই সমুদ্র সৈকতে মেতে উঠছেন আনন্দে। সৈকতে চলছে আড্ডাবাজি, বিচফুটবল, স্কিট বোট চালানো, খাওয়া দাওয়া।

দেশের ৯০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এ কার্নিভালের। এ আয়োজনটির উদ্দেশ্যই ছিল সাবেক ক্রিকেটারকে একত্রিত করা। আয়োজকদের সেই উদ্দেশ্য যে শতভাগ সফল হয়েছে, সেটি আঁচ করা যাচ্ছে পরতে পরতে। এমন একটি আয়োজন যে কতোটা প্রয়োজন ছিল, তার বিশদ জানা গেলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তি রকিবুল হাসানের কণ্ঠে, “একই শহরে থাকার পরও সময়ের অভাবে একজন আরেকজনের সাথে দেখা করতে পারিনা কিংবা হয় না। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পরিবার-পরিজন নিয়ে একজন আরেকজনের বাসায় যেতে পারি না। অবশেষে এ কার্নিভালের মাধ্যমে আমরা আবারো একত্রিত হতে পেরেছি। আয়োজকদের এজন্য অশেষ ধন্যবাদ। ”

প্রতি বছরই এমন আয়োজনের অনুরোধ শফিকুল হক হীরার, “এমন একটা আয়োজনে সত্যিই আমরা আনন্দিত। প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময়ে যদি এ আয়োজনটা হয়, তাহলে নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা আরো বাড়বে। মনে হবে না আমরা দূরে আছি। একই ছাদের নিচে বহু বছর পর আবারো আসতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। ”

মেহরাব হোসেন অপি ক্রিকেট ছাড়ার পর আর মিরপুর স্টেডিয়াম কিংবা বিসিবি মুখো হননি। নিজের ব্যস্ততার কারণেই সাবেক সতীর্থদের সাথে দেখা করাও হয়ে উঠে না তার। ক্রিকেটের এ আয়োজনের মাধ্যমেই আবারো দেখা ও আড্ডা হয়েছে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, হাবিবুল বাশার সুমন, মোহাম্মদ রফিকদের সাথে। এতোদিন পর জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থদের কাছে পেয়ে ফিরে গেলেন অতীতে। উচ্ছাস প্রকাশ করে অপি বলেন, “একসাথে সবাই খুব আড্ডা দিচ্ছি, সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমাদের সিনিয়রদের সাথে দেখা হয়েছে। প্রানবন্ত একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এটা অনেক বড় প্রাপ্তি আমাদের জন্য। আমরা সবাই খুব আবেগাপ্লুত। ভিন্নধর্মী এ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ দিতেই হচ্ছে। ”

রকিবুল-হীরা-অপিদের মতোই সবাই খুব উচ্ছ্বসীত এ কার্নিভালে অংশ নিতে পেরে। সাবেকদের এক সূঁতোয় গাঁথা এ আয়োজনটি যেনো প্রতি বছরই হয় সে দাবীও তাদের কণ্ঠে।


মন্তব্য