kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গেমস শেষে অলিম্পিক স্থাপনার কি হয়?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:৩৪



গেমস শেষে অলিম্পিক স্থাপনার কি হয়?

দুটি সপ্তাহ স্বর্ণসময় কাটিয়েছে রিও ডি জেনিরো। সারা বিশ্বের চোখ ছিল সেদিকে।

দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ অলিম্পিক গেমসের আয়োজক শহর বলে কথা। স্পটলাইট ছিল। প্যারা অলিম্পিক হয়তো অতোটা দৃষ্টি কাড়তে পারে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সারা বিশ্বের সেরা অ্যাথলেটদের উৎসবের পর, দর্শকরা ঘরে ফিরে গেলে রিওর অলিম্পিক স্টেডিয়াম এবং এই আসরের জন্য নির্মিত সব স্থাপনার কি হবে?

"লিগ্যাসি"। এই একটি শব্দ দিয়েই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বিষয়টিকে বর্ণনা করে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গৌরব। বিপুল খরচের উৎসবের পর আয়োজকদের হিসেব মেলানোর ভার। কিন্তু এই লিগ্যাসির মধ্যে স্টেডিয়াম, বিশাল অলিম্পিক অ্যারেনা, ভিলেজ, ডাইনিং হল, ভেলোড্রোমস এবং অন্যান্য সব কিভাবে আসে?

ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহার, নতুন ভাবে ব্যবহার, ভবনকে নতুন ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, এমন নানা খাতে অলিম্পিক অবকাঠামোর ব্যবহার হতে পারে। সিডনি ভিত্তিক একজন অবকাঠামোগত বিশেষজ্ঞ তাই মনে করেন। তবে কোন অপশন বেছে নেবেন তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের ওপর। অলিম্পিকের জন্য তৈরি ভবনগুলো ভিন্ন কোন কোন কাজে আসতে পারে তা খতিয়ে দেখার ব্যাপার আছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মানেন, এই সব স্থাপনা যেহেতু নির্দিষ্ট এক ধরণের কাঠামোর ওপর তৈরি তাই খেলার বাইরে অন্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ কম। চট করে মাথায় আসতে পারে ওয়ারহাউজ হিসেবে ব্যবহারের কথা।

২০১২ অলিম্পিক আয়োজক লন্ডনকে চড়া মূল্য দিয়ে বিষয়টা বুঝতে হয়েছে। কুইন এলিজাবেথ অলিম্পিক পার্ককে পরে প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল ক্লাব ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের হোম গ্রাউন্ড করা হয়েছে। আর তাতে গুনতে হয়েছে ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড! ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের নির্মাণ খরচের চেয়েও বেশি ব্যয় হয়েছে এতে। ইংল্যান্ড যদি প্রথমে ভেবে নিত যে পরে এটিকে ফুটবল স্টেডিয়াম এবং ভেন্যু করা হবে তাহলে এই ঝামেলাটা হতো না।

অলিম্পিকে খুব কাছাকাছি কিছু ছোটো ছোটো ভেন্যুও থাকতে হয়। এগুলোকে নতুন ভাবে ব্যবহার মূল স্থাপনাকে ব্যবহারের চেয়ে সহজ। উদাহরণ হিসেবে অলিম্পিক ভিলেজের কথা বলা যেতে পারে। যেখানে অলিম্পিক চলাকালে হাজার হাজার অ্যাথলেট-কর্মকর্তারা থাকতেন। সেটিকে আবাসিক এলাকায় রুপান্তর করা যায়। যেমনটি হয়েছে ২০০০ সিডনি ও ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকের ক্ষেত্রে। আর প্রতি বড় ক্রীড়া আসরে তৈরি হওয়া ইন্টারন্যাশনাল ব্রডকাস্ট সেন্টারও ব্যবহার করা সম্ভব। লন্ডনে এখন যেমন সেই হাব ব্যবহৃত হচ্ছে চ্যানেল বিটি স্পোর্টের কাজে।

আবার নির্মিত ভবনগুলোকে কম খরচে, সহজে ব্যবহারের আরেকটি উপায় থাকে। ক্ল্যাসিক উদাহরণ আছে। ১৮৯৬ সালে প্রথম আধুনিক অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল এথেন্সের প্যানাথেনাইক স্টেডিয়ামে। সেটি পরে আর্চারি প্রতিযোগিতা ও ২০০৪ এথেন্স অলিম্পিকে ম্যারাথন শেষ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। রিও কার্নিভালের জন্য এটা আদর্শ। ২০০০ সিডনি অলিম্পিকে যেমন কনভেনশন ও এক্সিবিশন সেন্টার ইনডোর প্রতিযোগিতায় কাজে লাগানো হয়।
ভেন্যুর কাজের জিনিস ভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকে। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের হকির নীল-গোলাপি বহনযোগ্য মাঠ ইয়র্কশায়ারের শেফিল্ড হ্যালাম ইউনিভার্সিটিতে চলে গেছে। তবে এই কাজে খরচ আছে, সমস্যা আছে। তাছাড়া অস্থায়ী স্থাপনা অস্থায়ী হয়ে থাকে। বহু ব্যবহারের যোগ্য না।

কষ্ট করে পাওয়া অলিম্পিক আয়োজনের গৌরবের সব স্মৃতিচিহ্ন কেউই মুছে ফেলতে চাইবে না। রিওর বেলায় একই কথা। দীর্ঘ সময়ের কথা ভেবে যুক্তরাষ্ট্র স্টেডিয়াম তৈরি করে শহরের বাইরে। তার চারিপাশ কার পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করে। বার্সেলোনা ১৯৯২ অলিম্পিককে শহরতলীতে নিয়ে গিয়েছিল। সিডনির বানিজ্য কেন্দ্র থেকে অলিম্পিক পার্কের দুরত্ব ছিল ১৬ কিলোমিটার। টোকিও বেছে নিয়েছে বার্সেলোনার উদাহরণ। তাদের ২০২০ অলিম্পিক আয়োজনের কেন্দ্রে শহরতলী। মূল শহরে অলিম্পিকের মতো আসরের বিশাল সব স্থাপনা গড়া মানে পরবর্তীতে তা 'শ্বেতহস্তী'তে পরিণত হওয়া। রিওর কিছু ক্ষেত্রে সেই 'শ্বেতহস্তী' দেখা যাচ্ছে বটে!  


মন্তব্য