kalerkantho


টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ভারতের হৃদয় ভেঙে ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ২৩:১১



ভারতের হৃদয় ভেঙে ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ!


বাংলাদেশের বিপক্ষে ঠিক এই বিপদটাতেই পড়েছিলেন এমএস ধোনি। শেষ ওভারটা দিতে হয়েছিল হার্দিক পান্ডিয়াকে। সেই ম্যাচে অতি নাটকীয়কতায় বাংলাদেশ ১ রানে হেরেছিল। পান্ডিয়া বীর হয়েছিলেন। ধোনি কুলেস্ট! আর প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষের ম্যাচে রক্ষা পেলেন না ধোনি। এবার শেষ দুই ওভারের ধাক্কা। আর একেবারে শেষ ওভারটা অনিয়মিত বোলার বিরাট কোহলির হাতে উঠলো। তাতে বাঁচা গেল না। ৬ বলে ৮ রান দরকার। চারে পর ছক্কায় আন্দ্রে রাসেল খেলা শেষ করে দিলেন। ২ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটে জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শত কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙে ঘরের মাঠের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়লো ভারত।

ক্রিকেট কি দারুণ খেলা! নিদারুণও! কোহলি ১ রানে জীবন পেলেন। ২ বলের মধ্যে তাকে ৩ বার রান আউট করার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারলো না ওয়েস্ট ইন্ডিজ! মাশুল দিলো তারা। ৪৭ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকলেন কোহলি। ২ উইকেটে ভারত পেলো পাহাড় সমান ১৯২ রান। এবার অশ্বিন ও পান্ডিয়ার 'নো' বলে দুবার জীবন পেলেন লেন্ডল সিমন্স। ১৮ ও ৫০ রানে। এরপর তার ক্যাচ ধরা গেলো না একবার। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই ৫১ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকলেন সিমন্স। মারলেন ৭টি বাউন্ডারি ও ৫টি ছক্কা। স্মরনীয় হয়ে থাকবে আন্দ্রে রাসেলের ২০ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৪৩ রানও। ১৯.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৬ রান তুলে ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখানে ৩ এপ্রিলের শিরোপা লড়াইয়ে নামবে ইংল্যান্ডের সাথে।

১৯৩ রানের টার্গেট। ক্রিস গেইল (৫) দ্বিতীয় ওভারে বুমরাহর বলে বোল্ড! ক্যারিবিয়ানদের আশা বড় ধাক্কা খায় ওখানে। মারলন স্যামুয়েলসও (৮) বিদায় নেন। ১৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে তো বিপদেই ক্যারিবিয়ানরা। কিন্তু ওখান থেকে দলকে ছিটকে পড়তে দেননি সিমন্স ও ওপেনার জনসন চার্লস। দলকে সহজ ভঙ্গীতে নিয়ে এগিয়েছেন। দারুণ জুটি হয়েছে। বিশ্বকাপের দলে শুরুতে ছিলেন সিমন্স। পিঠের ইনজুরির কারণে তার নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছিল। আর শেষ ম্যাচে ফ্লেচার ইনজুরিতে পড়ায় সুস্থ সিমন্স ফিরেছেন। ফিরেই বীর। ম্যাচের সেরা।

চার্লসের সাথে তার ৯৭ রানের জুটি হয়েছে সাড়ে নয় রানের ওপর গড়ে। এই দুজন মিলে সব বোলারের কাছ থেকে রান নিয়েছেন। ২ ওভারের পর আর বল পাননি ভারতের সেরা স্পিনার অশ্বিন। পাওয়ারের ওপর খেলে গেছে ক্যারিবিয়রা। চার্লস ৩৬ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৫২ রান করে আউট। কোহলিকে বল দিয়ে জুয়া খেলে ধোনি পেয়েছেন চার্লসের উইকেট।

এরপর খেলাটা রাসেল ও সিমন্সের হাতে। রাসেল স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে এসেই মারলেন। কিন্তু কাজটা কঠিন ছিল। জাদেজা প্রথম তিন ওভারে ৩৬ রান দিয়েছেন। পান্ডিয়াও প্রচণ্ড মার খেলেন দুজনার হাতে। ৪১ বলে ৭৭ রান দরকার ছিল সিমন্স ও রাসেল জুটির। ওভার প্রতি তুলতে হয় ১২'র কাছাকাছি রান। পান্ডিয়ার ১ ওভারে এলো ১৮ রান। বুমরাহ শেষ ২ ওভারে দিলেন ২৫ রান। অভিজ্ঞ নেহরাও ঠেকাতে পারেননি রাসেল-জনসনকে। শেষ ১২ বলে ২০ রান দরকার। জাদেজা ১৯তম ওভারে ১২ রান দিয়ে দিলে ক্যারিবিয়ানদের আর ঠেকানো দায়! কোহলি ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ ওভারে তার বোলিংয়ে অতি নাটকীয় কিছু হলো না। ৩৯ বলে ৮০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে রাসেল-সিমন্সরা ম্যাচটা কেড়ে নিলেন ভারতের হাত থেকে। ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয়বারের মতো উঠলো বিশ্বকাপের ফাইনালে।     

এর আগে ভারতের গড়া ১৯২ রানের ইনিংসে তিনটি ভাগ। প্রথমটিতে রোহিত শর্মা-আজিঙ্কা রাহানের ইনিংস দাঁড় করানো ৬২ রানের জুটি। যেখানে মুম্বাইয়ের ছেলে রোহিতের অবদান ৩১ বলের ঝড়ো ৪৩। যেটি টুর্নামেন্টে রোহিতের সর্বোচ্চ। এরপর রাহানে-বিরাট কোহলি জুটির ৬৬ রান। যেখানে কোহলির রান ৪১। রাহানের ২৩। আর শেষটা কোহলিময় ধোনি-কোহলির হার না মানা ৬৪।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতীয়রা রানিং বিটুইন দ্য উইকেটে ছিলেন অসাধারণ! মোট রানের ৯২ এসেছে বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি থেকে। অতিরিক্ত খাতে ৫। বাকি ৯৫ রান সিঙ্গেলস-ডাবলসে। কোহলি তার ৩৯ এবং রাহানে তার ৩২ রান নিয়েছেন দৌড়ে! তো রাহানে ও কোহলি শেষের দিকে ঝড় তোলার জায়গা করে দিয়েছেন। টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ৩৫ বলে ৪০ রান দিয়ে গেছেন রাহানে। দুটি জুটিতে তার অবদানের জন্য তাকে মনে রাখতে হবে। ১৬তম ওভারে দলের ১২৫ রানের সময় বিদায় নিয়েছেন এই ওপেনার।

কোহলিকে ১ রানে রান আউট করতে না পারাটা ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় সর্বনাশের কারণ। ব্রাভো-রামদিনরা ২ বলের মধ্যে তাকে ৩ বার রান আউট করতে ব্যর্থ! তাহলে রাহানের সাথে জুটিতে বাড়তি ৬১ রান আসে না। ৪৭ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ৮৯ রান কোহলির। তার মানে এর ৮৮ই ভারতের জন্য বোনাস! প্রথম দুই জুটি যা গড়েছে তার ওপর দাঁড়িয়ে কোহলি ও অধিনায়ক এমএস ধোনি শেষ ২৭ বলে ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন। দলের রানটা তাতেই পাহাড়ে উঠেছে। এখানে ৯ বলে অপরাজিত ১৫ রান ধোনির। বাকি ৪৮ রানই কোহলির। এই সময়ে ৮টি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি। সাথে একটি ছক্কা।

এবারের বিশ্বকাপে কোহলির টানা দ্বিতীয় ফিফটিটা এসেছে ৩৩ বলে। তার মানে তিনি শেষ ৩৯ রান করেছেন মাত্র ১৪ বল খেলে! এর ৯টি আবার বাউন্ডারির মার! অস্ট্রেলিয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা বুঝেছেন, ক্রিকেটীয় শট খেলেই কোহলি কতোটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন। পেসার-স্পিনার, কোনো কিছু দিয়ে ঠেকানো যায়নি কোহলিকে। জেতার মতো রান করেছিল ভারত। কিন্তু সিমন্সদের পাওয়ার ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত বুক ভেঙেছে স্বাগতিক ভারতের।


মন্তব্য